মিস ভ্যালেন্টাইন

  •  
  •  
  •  
  •  

ভ্যালেন্টাইন ডে হ্যাজ গন। বয়েজ-গার্লস, ওয়াইফি- হাবি, জাবি সবার ঘুম হারাম ছিলো এই দিনটাকে নিয়ে। একদল এই চিন্তায় যে এইবার তাকে কিভাবে খুশি করা যায় আরেকদল এই চিন্তায় যে দেখি ও কি করে আমার জন্য। কোনটা কোনদল এটা ক্লারিফাই করে দিয়ে আমি কোনো কোন্দলে জড়াতে চাইনা তাই নিজেরাই বিবেচনা করে নেন। তবে এ বিষয়ে একটা পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করতে চাই। গতবছর ভ্যালেন্টাইন ডে’র দুইদিন আগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড গিয়েছিলাম একটা কাজে। ভিতরে ঢুকে আমি পুরাই টাস্কিত। মেয়েদের আংটির ডিসপ্লের সামনে শত শত পুরুষ। অথচ ছেলেদের আন্টির ডিসপ্লের সামনে একটা মাছিও নাই। আমি ভাবি, কেম্নে কি। নতুন কোনো ট্রেন্ড আসছে নাকি। ছেলেরা সব মেয়েদের আংটি কিনে কেন? একটু পর স্মরণে আসলো দুইদিন পর তো পোলাদের মরণ ডে। প্লিজ গার্লস উত্তেজিত হবেন না। কিন্তু কেন? এই যে ভ্যালেন্টাইন ডে নিয়ে মনের মধ্যে এই উচাটন সেটা কেন? সেদিন কি ভালোবাসার হাত পা গজায়, নাকি ভালোবাসা স্বর্গ থেকে সশরীরে মর্ত্যে নেমে আসে? কেন বেচারা ভালোবাসাকে নিয়ে এতো ঐদিনই টানাটানি? ওই দিনই কেন ভালোবাসার প্রমান দিতে হয়? ঐদিন ভালোবাসা দিবস বাকি ৩৬৪ দিন কি ঘৃণা দিবস?

গতকাল এক ফেবু ছোট ভাই আমাকে ইনবক্সে নক করে জিজ্ঞেস করলো,
– ভাইয়া একটা ভালো ভ্যালেন্টাইন গিফট এর আইডিয়া দেন না।
আমি বললাম,
– ফুল দিয়ে দেন। একশো আটটা নীল পদ্ম দিতে পারলে ভালো হতো কিন্তু সেইটা যেহেতু পাবেন না একশো আটটা লাল গোলাপ দিয়ে দেন।
আমার রিপ্লাই এ সে দেখি একটা কাঁদার ইমো পাঠালো। আমি বললাম,
– পছন্দ হয়নাই আইডিয়া?
সে জানালো গতবছর ভ্যালেন্টাইন এ শুধু ফুল আর কার্ড গিফট করে টানা তিনমাস খোটা শুনতে হয়েছিল। এবার তাই টিউশনির বেতন পুরাটা যক্ষের ধনের মতো আগলে রেখেছেন ভালো কিছু কিনবেন বলে। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম,
– আপনি শিওর তো ভ্যালেন্টাইন ডে এর গিফটই কিনতে চান। নাকি “এক্সপেক্টেশন ডে” নামে নতুন কোনো ডে আসছে বাজারে?
সে বললো,
– খারাপ গিফট দিলে ফ্রেন্ড সার্কেলে একটা প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে যায়।
তার সাথে কথা বলার পর আমার মাথায় খেললো – ওঃ ভালোবাসা তাহলে আজকাল প্রেস্টিজ এ প্যাচ খেয়েছে? তারমানে ভালো গিফট না দিলে/ পেলে মানুষের সামনে মুখ কেম্নে দেখাবো টাইপ ঝামেলায় আছি আমরা। ভালো গিফট ডিটার্মাইন করবে কে কাকে কতটা ভালোবাসে? অথবা পারফরম্যান্স অন ভ্যালেন্টাইন ডে ডিসাইড করবে হাও মাচ উই লাভ ইচ আদার। ভালো তো ভালো না? ভালো না আসলে। আমরা ভ্যালেন্টাইন ডে নামক মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির কাছে ধরা খাওয়া কাস্টমার ছাড়া আর কিছুইনা। তাও আবার একদিন ধরা খেয়েই শেষ না, গত দুই তিন বছর ধরে দেখি ভ্যালেন্টাইন ডের ও বাচ্চা কাচ্চা আছে। হাগ্ ডে, কিস ডে, মিস ডে, স্লিপ ডে জাতীয় আরো যেন আরো কি কি। প্রতি ডে তে একটা করে গিফট। আহারে কারো পৌষমাস কারো সর্বনাশ।

যাই হোক, কথা হলো গিফট দিতে গিফট পেতে মানুষের খুবই ভালো লাগে। সেটাতে কোনো সমস্যা নেই। “ডায়মন্ডস ফরএভার” বা “আপনার হীরার জন্য এই ভ্যালেন্টাইনে হয়ে যাক না একটা হীরা” জাতীয় কমার্শিয়াল দেখিয়ে যদি ব্যবসায়ীদের ভালো ব্যবসা হয় তাহলেও কোনো ক্ষতি নাই। গতবছর ছয়কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছিল শুনে মনটাই ভালো হয়ে গিয়েছিলো। ফার্মেসি গুলাতে বেচা বিক্রি কেমন ছিল সেইটা নিয়ে অবশ্য প্রতিবেদন দেখি নাই। শুধু একটু খেয়াল রাখতে হবে কোনো ফেস্টিভাল যাতে আমাদের মনকে, ভালোবাসাকে, আবেগকে ডমিনেট না করতে পারে। ভালবাসার মেজারমেন্ট যেন এক্সপেক্টেশন ফুলফিলমেন্ট দিয়ে না করা হয়। সে যদি সত্যিই আপনার হীরা হন তাহলে কাঁচের চুরিতেও সে খুশি হবে আর সে যদি নিজেই কাঁচ হয় তাহলে সারাজীবনই আপনাকে কাটবে। ওহঃ প্রেমিক প্রেমিকারা আরেকটা জিনিস একটু কন্সিডারেশনে নিবেন প্লিজ। রিকশার হুড তুলে দিলে/সিএনজিতে উঠলেই আপনারা দুনিয়া ভুলে যান। আসে পাশের মানুষ যে বিনা পয়সায় ম্যুভি দেখে এইটা আপনাদের মাথায়ই থাকেনা। আশেপাশের মানুষের কথা না হয় বাদই দিলাম অন্তত আপনার রিক্সাঅলা/ সিএনজিওলার কথাটা একটু মনে রাখবেন। আফটার অল তারাও তো মানুষ, তাদেরও তো স্বাধ আহ্লাদ আছে।

১৪/০২/২০২০, ১১.৩৯ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *