মৃত্যু যন্ত্রনা

  •  
  •  
  •  
  •  

কোন রোগি যখন কোমাতে চলে যায়, তখন ধরেই নেয়া হয় সে আর বাঁচবে না। তার আত্মীয়স্বজন তবুও হাল ছাড়ে না। আইসিইউতে একেকটা দিন যায়, লাখটাকা বিল উঠতে থাকে, তবুও স্বজনরা আশায় বুক বেঁধে থাকেন। যদিও সবাই জানেন- ৯৫ ভাগ ওই রোগি ফিরবে না, তবুও ৫% আশার সলতে জ্বলে তাঁদের মাঝে, ফিরতেও তো পারে। একসময় কাছের স্বজনদের ব্যাংক ব্যালান্স ফাঁকা হতে থাকে, ভিটেমাটি বিক্রি করে আইসিইউ’র বিল পরিশোধ করতে থাকে। নি:স্ব হয়ে যেতে থাকলেও তবুও স্বজনরা ওই রোগির সুস্থ হয়ে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেন। তাঁদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করতে কমতি রাখেন না। কিছুটা দায়িত্ববোধ, কিছুটা সম্পর্কের টান, কিছুটা নিজের মনকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য এই কাজগুলো করেন।

রোগিটা মারা গেলেও যেন নিজেদের বুঝ মানাতে পারেন, নাহ! আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকুন করেছিলাম। রোগিটা মরে বেঁচে যায় আক্ষরিক অর্থে, কিন্তু স্বজনরা পথে বসে যায়, বেঁচে থেকেও আর্থসামাজিক ও মানসিকভাবে মরে যায়। খুব কাছের স্বজনরা জিন্দালাশ হয়ে। আর ওই রোগি জান্নাতবাসি হলে সুখের সাগরে ভাসতে ভাসতে আয়েশ করেন। এমন আশা মানুষ শুধু রোগির ক্ষেত্রে না, প্রায় সবক্ষেত্রেই করে।

কোন একটা কিছুর জন্য নিজের বিশ্বাসটাকে জুঁয়ার টেবিলে তোলে। হয়তো হেরে যাবে বা তা হারিয়ে দেয়া হবে ইচ্ছে করেই, তবুও ওই ৫% আশার সলতে নিভুনিভু করে জ্বলে, জিতে যেতেও তো পারি। মানুষ বড় অতি অদ্ভুত বিশ্বাসী প্রাণি। মরে যাওয়া মানুষকে দেখেও অনেকসময় ধারণা করে- এখনই হয়তো একটু নড়েচড়ে উঠবে। এই ধারণার বিশ্বাস কবরে মাটিচাপার দেয়ার আগপর্যন্ত করে থাকে। অদ্ভুতুড়ে মানুষ! অদ্ভুতুড়ে তার বিশ্বাসগ্রন্থি।

০৪/১১/২০১৯, ১১.৫১ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *