মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (তৃতীয় পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

মেডিটেশন বা ব্রেন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেহ সুস্থ থাকে যেভাবে –
কারো সাথে দেখা হলে,
– ‘কেমন আছেন?’
প্রশ্ন আমরা হরহামেশাই শুনে থাকি। এ প্রশ্ন যেমন কেবল করার জন্যই করা হয়, তেমনি কখনো কখনো এর মধ্যে আন্তরিকভাবে কুশল জানার ব্যাপারও থাকে। অথচ আমরা কিছু না ভেবেই এর দায়সারা জবাব দেই, যেমন –
ক) ভাল নেই,
খ) বেশি ভাল নেই,
গ) আছি কোন রকম,
ঘ) কাটছে এক রকম,
ঙ) এই বেঁচে আছি আর কি,
চ) আছি মোটামুটি – ইত্যাদি।
একটা কিছু জবাব দিতে হয়, তাই এসব বলা। কিন্ত এরূপ নেতিবাচক জবাব দিয়ে যে কত ক্ষতির বীজ বপন করছি, তা বুঝলে কখনোই কেউ এমন বলতো না।

এবার একটু গভীরে যাওয়া যাক। আপনি সুস্থ। দৈনন্দিন প্রয়োজনে আপনি বাড়ির বাইরে বের হয়েছেন সকাল বেলা। পথে নামতেই পরিচিত কারো সাথে দেখা। কেমন আছেন? আপনার জবাব- আছি কোন রকম, আর থাকা! এভাবে সারাদিনে যতজন এ প্রশ্ন করলো, সকলকেই এমন জবাব দিতে থাকলেন। শারীরিক ও মানসিক সার্বিকভাবে সুস্থ বলেই কিন্তু আপনি সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। এটি আপনি যেমন জানেন, তেমন আপনার ব্রেনও জানে। উক্ত প্রশ্নের নেগেটিভ জবাব দেবার আগ পর্যন্ত আপনার ব্রেন জানে যে, দেহের সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, দেহ সুস্থ। আপনি যখন প্রথমবার বললেন,
– ভাল নেই।
তখন সে তথ্যকে আপনার ব্রেন হয়তো খুব একটা গুরুত্ব দেবে না। কিন্তু একই কথা যখন বার বার কানের মাধ্যমে ব্রেনে পৌঁছবে, তখন ব্রেন নিজ কোষে লিপিবদ্ধ তথ্যের সাথে তা মিলিয়ে দেখবে এবং আপনার তথ্যের সাথে তার তথ্যের অমিল পাবে।

একটু আগ পর্যন্ত ব্রেন জানত যে, আপনার দেহের সবকিছুই তার নিয়ন্ত্রণে এবং সবই ঠিক আছে। কিন্তু ‘ভাল নয়’ -এ তথ্য যখনই বারংবার ব্রেনে পাঠাতে থাকবেন, তখন ব্রেন বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে। নিজের ওপর আস্থা কমে শরীরের ওপর ব্রেনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে। একসময় সে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে আপনার দেয়া তথ্যটাকেই গুরুত্ব দেবে বেশি, কারণ দেহের বাইরের কোন কিছুতেই ব্রেনের নিয়ন্ত্রণ নেই। আর ভাল বা খারাপ লাগার অনুভূতির ব্যাপারটাতো নিয়ন্ত্রণ করে মন। আপনি নিয়ন্ত্রণ করেন আপনার মন, আর মন নিয়ন্ত্রণ করে আপনার ব্রেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেহের বাইরের কার্যক্রম ও অনুভবের ব্যাপারগুলোতে ব্রেন নিজের লিপিবদ্ধ তথ্যকে পাল্টে আপনার দেয়া তথ্যমত লিখবে,
– ‘নিশ্চয়ই দেহের কোথাও এমন খারাপ কিছু হয়েছে, যা আমি (ব্রেন) দেহের ভেতর থেকে বুঝতে পারছি না। কিন্তু দেহের মালিক তা বুঝতে পেরে অনবরত সেটাই বলে যাচ্ছেন। আর আমি বার বার দেহের ভেতরের সব স্থানে খোঁজ খবর নিয়েও কিছুই ধরতে বা বুঝতে পারলাম না। বিষয়টা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরের কিছু। সুতরাং আমার যিনি মালিক, তার দেয়া তথ্যানুসারেই আমি আমার সার্বিক তথ্যকে পরিবর্তন করে নিলাম, আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ নই, কোথাও কোন না কোন অসুবিধা আছে, যা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

[চলবে]

০৯/০৩/২০১৯, ০৯.২০ PM

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (প্রথম পর্ব)

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (দ্বিতীয় পর্ব)

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (চতূর্থ পর্ব)

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (পঞ্চম পর্ব)

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (ষষ্ঠ পর্ব)

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (শেষ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *