মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (শেষ পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

কোন নাটক দেখার পর কাহিনী ও চরিত্র নিজ চিন্তায় বিশ্লেষণ করে সে নাটক-পর্ব শেষ করে তারপর অন্যকাজে যাব। ঐ নাটকের ঘটনা বা চরিত্র বা অভিনয় এরূপ না হয়ে অন্যরূপ বা ঐ ঐ রূপ হলে কেমন হতো? আমার জীবনে এরূপ ঘটনা ঘটলে কি করতাম? এভাবে নিজের সাথে নিজেরই কত কথা! কত আবিষ্কার। কত সৃষ্টি। যেকোন বিষয় পড়াশোনা বা দেখার পর এভাবে নিজের সাথে নিজেই কথা বলার অভিনয় করে করে আপনি যখন নিজের কাছে নিজেই প্রিয় অভিনেতা বা অভিনেত্রী হয়ে উঠবেন, নিজের ওপর আত্মনির্ভরশীল হবেন, তখন ভাববেন বা অন্তত ভান (pretend) করবেন যে,
– ‘আমি সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হচ্ছি, ডায়নামিক হচ্ছি, ক্রিয়েটিভ হচ্ছি, বিশেষ মানুষ হচ্ছি’।

এরূপ আত্ম-অভিনয়ের ফলে নিজ মস্তিষ্ক প্রোগ্রামিং হয় দ্রুত ও ডায়নামিকভাবে। অর্থাৎ আমরা হয়ে উঠি ডায়নামিক ও ক্রিয়েটিভ। কারণ কয়েক ঘন্টা সময় ব্যয় করে একটি নাটক বা সিনেমা দেখা অথবা একটি গল্প-উপন্যাস পড়ার ফলে যদি ব্রেনে প্রোগ্রামিং হয় একটি, তাহলে কয়েক মিনিট সময় ব্যয় করে ঐ সাবজেক্টকে চিন্তার রাজ্যে বিভিন্ন ডায়মেনশনে বিভিন্নরূপে ও রংয়ে-ঢংয়ে চিন্তা করে তার ফলাফল বা effect দেখার ফলে মস্তিষ্কে প্রোগ্রামিং হয় বহুগুণ বেশি। এ যেন রংয়ের খেলা। এভাবে রংয়ের খেলায় শিশুদেরকে মাতিয়ে তোলা খুবই জরুরি। শিশুদেরকে খেলাচ্ছলেই ব্রেন প্রোগ্রামিং করে মেধাবী করে গড়ে তোলা খুবই সহজ। ধনী-গরিব সব মানুষই সহজে এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। যেমন- ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুকে চোখ বুঁজিয়ে তার পরনের জামা-কাপড়ে কি কি রং-ফুল-ছবি বা ডিজাইন রয়েছে, তা জিজ্ঞাসা করে করে তার চিন্তা থেকে উত্তর বের করা। চোখ বুঁজে শিশুকে দিয়ে প্রশ্নোত্তর খোঁজানো মানে তার মস্তিষ্কের চর্চা তথা ব্রেন প্রোগ্রামিং করা।

এরূপ বহুবিধ উপায়ে চেতনা ও চিন্তার চর্চার মাধ্যমে ব্রেন প্রোগ্রামিং করা যায় অনায়াসে। এতে ব্রেনের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ছোটবেলা থেকে মস্তিষ্ক ও চিন্তার এই চর্চায় অভ্যস্ত একটি মানুষ পরিণত বয়সে কত যে মাল্টি-ডায়নামিক ও প্রোজ্জ্বল-প্রতিভাদীপ্ত বা শক্তিশালী হতে পারে, তা ভাবতেই বিস্মিত হই। একেকটি মানুষ এ মহাবিস্মের একেকটি মহাবিস্ময়। বাস্তবে দেখে-শুনে-পড়ে কোনকিছু বুঝতে যদি ১ দিন লাগে, তাহলে চিন্তা দিয়ে সে বিষয় বুঝতে লাগবে ১ সেকেন্ড বা ১ মিনিট। এরূপ চর্চার মাধ্যমে নিজের চেতনাবোধ ও চিন্তাশক্তি ডায়নামিক করে অল্পদিনেই আপনি হতে পারেন বিশেষ মানুষ তথা Superior human being. মেডিটেশন বা ধ্যান চর্চার মাধ্যমে যেকোন মানুষই সহজে নিজকে বিশেষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এরূপ ব্যতিক্রমভাবে নিজকে তৈরি করতে পারলে অনায়াসেই হওয়া যায় জনপ্রিয়, এমনকি বিশ্বনন্দিত।

২৯/০৪/২০১৯, ১০.৫২ PM

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (প্রথম পর্ব)

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (দ্বিতীয় পর্ব)

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (তৃতীয় পর্ব)

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (চতূর্থ পর্ব)

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (পঞ্চম পর্ব)

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (ষষ্ঠ পর্ব)

3 thoughts on “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (শেষ পর্ব)”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *