মোহাম্মাদ আলী দ্যা গ্রেট (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

“Float like a butterfly,
sting like a bee.”
– Muhammad Ali

ভিয়েতনামের মানুষের সঙ্গে আমার কোনো ঝগড়া নেই। শুধু সাদা চামড়ার মানুষের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ১০ হাজার মাইল দূরের কোনো দেশে গিয়ে মানুষের ওপর অত্যাচার করা, খুন করা, বোমা ফেলা এই কাজে আমি যুক্ত হব না। পৃথিবীর বুকে এসব অবিচার বন্ধ হওয়া উচিত।’ কথাগুলো বলছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর ছিল মানবতার প্রতি ভালোবাসা, খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে জেনেও তিনি এই কথাগুলো বলেছিলেন। দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। খেলার লাইসেন্স সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিল। গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তার পরও মানবতার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কাজ করেননি। মানুষটি আমাদের সবার প্রিয় বক্সার মোহাম্মদ আলী।

ক্যাসিয়াস মার্কাস ক্লে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আগে এটাই ছিল তাঁর নাম। ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি লুইসভিল কেন্টাকিতে আলী আফ্রিকান-আমেরিকান মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ক্যাসিয়াস মার্কাস ক্লে সিনিয়র ছিলেন সাইনবোর্ড বিলবোর্ড পেইন্টার। মা গৃহিণী। আলীর বক্সিংয়ে আসাটা ছিল অনেকটা নাটকীয়। ১২ বছর বয়সে আলী এক সাইকেল চোরকে ধরেন। ধরার সময় চোরকে এমনভাবে ঘুসি মারেন, যেটা দেখে লুইসভিল থানার পুলিশ অফিসার জো মার্টিন মুগ্ধ হয়ে যান। এই মার্টিনই আলীর প্রথম বক্সিং কোচ। ১৯৬০ সালের ২৯ অক্টোবর ১৮ বছর ২৮৬ দিনে মোহাম্মদ আলীর বক্সিং রিংয়ে অভিষেক হয়, প্রতিপক্ষ ছিল টানি হানসেকার। তারপর ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত ১৯টি ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই জেতেন। এর মধ্যে ১৫টি জয় ছিল ‘নক আউট’। সে সময় আলী জিম রবিনসন, হেনরি কুপার, জর্জ লোগান, আলন্সো জনসন ও জনি ফ্লি ম্যানের মতো বক্সারদের হারান। ১৯৬২ সালে হারান আর্চি মুরকেও। ১৯৬৩ সালে আলী ও ডাগ জোন্সের ম্যাচটি ছিল ‘ফাইট অব দি ইয়ার’। ম্যাচটি হয়েছিল নিউইর্য়কের ‘ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে’।

আলীর জন্য সেই ম্যাচটি ছিল সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ। ১০ রাউন্ড পর্যন্ত দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। শেষ পর্যন্ত আলী জেতেন। ১৯৬৩ সালের শেষের দিকে ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। সে সময় হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন ছিলেন সনি লিস্টন। শুধু দুর্দান্ত বক্সারই নন, অপরাধী হিসেবে পুলিশের খাতায় নামও ছিল তাঁর। আলীর সঙ্গে লড়াইয়ের দিন ঠিক হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৪। আলী ছিলেন আন্ডার ডগ, কিন্তু তার পরও ম্যাচ শুরুর আগে আলী লিস্টনকে উদ্দেশ করে বলেন,
– ‘ও বিশাল কদর্য একটা ভালুক। ওর শরীর থেকে অনেক সময় ভালুকের গন্ধ বের হয়। হারানোর পর তাকে আমি চিড়িয়াখানায় দান করব।’
মানসিকভাবে লিস্টনকে বিপর্যস্ত করার জন্যই আলী এ কথার লড়াই শুরু করেছিলেন। ম্যাচের আগে আলী চিত্কার করে সবাইকে বলতে থাকেন,
– আজ বক্সিং রিংয়ে কেউ একজন মারা যাবে!
শেষ পর্যন্ত সপ্তম রাউন্ডে গিয়ে আলী লিস্টনকে ‘নক আউট’ করেন। এটি ছিল সেই সময় বক্সিং রিংয়ে সবচেয়ে বড় আপসেট।

[চলবে]

১২/০৬/২০১৬, ১২.৫০ AM

তথ্য সূত্র – প্রথম আলো পত্রিকা থেকে উদৃত, লেখক রাজীব হায়দার, বিদেশ ডেস্ক (বাংলা ট্রিবিউন), উইকিপিডিয়া

মোহাম্মাদ আলী দ্যা গ্রেট (দ্বিতীয় পর্ব)

মোহাম্মাদ আলী দ্যা গ্রেট (তৃতীয় পর্ব)

মোহাম্মাদ আলী দ্যা গ্রেট (শেষ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *