যায় দিন যায়

  •  
  •  
  •  
  •  

এক কৃতদাসকে কিনে নিয়ে এলেন বাড়ির মালিক। মালিক তাকে খেতে দেন তবে সকাল বিকাল মারেন। একদিন ওই দাস মালিককে বললেন,
– আমাকে বেঁচে দেন, এত কষ্ট আর সহ্য হয় না।
মালিক বেঁচে দিলেন, দাস গিয়ে পড়লো অন্য মালিকের হাতে। নতুন মালিক তিনবেলা মারেন, একবেলা খেতে দেন। দাস আবারও তাকে বিক্রি করে দিতে বললেন। বিক্রি হলেন। এবারের মালিক খেতে দেন না একবেলাও কিন্তু তিনবেলা মারেন। এ অবস্থা দেখে এক লোক ওই দাসকে জিজ্ঞেস করলেন,
– ‘কী এখন আর বিক্রি করে দিতে বলো না?’
দাস দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,
– ‘ভাই আমার প্রথম মালিকই ভাল ছিল। মারতো ঠিকই কিন্তু তিনবেলা খেতে দিত। আর এখন তো খাওয়াই জোটে না, এর পরে বিক্রি হলে কী হবে, ঈশ্বরই জানে।’

আমাদের সবকিছুতেই এখন ধৈর্যশক্তি কম। ১৯ থেকে ২০ হলেই আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফেলি। এটা যেহেতু ভাল না, তাহলে ওইটা মনে হয় ভাল। এই যে চিন্তার ডাইভারসেশন বা চিন্তার লোভ – এটাই মূলত আমাদের ডোবাচ্ছে। পৃথিবীর সবকিছুই আমার ব্যক্তিগত সূত্রের সাথে মিলবে, তা আশা করাই বোকামী। কিন্তু এই বোকামীটাই আমরা করে বসি সবসময়। যে ঘরটাতে আছি, দূরের ঘরটাকে এর চেয়ে সুন্দর মনে হয়। বিরিয়ানি টানা এক দুইদিন ভাল লাগে, প্রতিদিন নয়। তবুও আমরা বিরিয়ানির পেছনেই ছুটি।

আব্বা বলেছিলেন,
– ‘ভাত পঁচে গেলেও পানি দিয়ে ধুয়ে খাওয়া যায়। কিন্তু বিরিয়ানি -পোলাও পঁচে গেলে কুকুরেও খেতে চায় না।’
ব্যক্তিগত জীবনও উদ্যোক্তা হবার মতই। যারা দাঁতে কামড় দিয়ে পড়ে থাকতে জানে, তাঁরাই সফল হয়। আর যাঁরা একটু কিছু হলেই ভেঙ্গে পড়ে, সুইচ করার চিন্তার করে, তাঁদের দ্বারা কিছু হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে ‘অপশন’ খুব গুরুতর প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। চারপাশে সবকিছুরই এভেইলেবল অপশন আছে। তাই কেউ আর দাঁতে দাঁত কামড়ে পড়ে থাকতে চায় না। লাফ দিয়ে নেক্সট অপশনে ক্লিক করে। কিন্তু প্রবাদে আছে, “যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ।” কথাটা সবারই মনে রাখা উচিত।

০৮/১০/২০২০, ১০.৪৪ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *