রঙ্গীন শৈশব (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

ছোটবেলায় লাল রঙের “রাজা” কনডমকে বেলুন বানিয়ে খেলার কথা হুট করেই মনে পড়ে গেল। মুরুব্বিরা বুঝাতো,
– “এই বেলুনে রাতে পুলিশ হিসু করে ফেলে যায়, দেখোসনা কেমন ভেজা ভেজা?”
একেতো হিসু তার উপর পুলিশের হিসু এই বেলুন নিয়ে আর খেলা যাবেনা। শুক্রবারে সিনেমা দেখতাম। দিন ঘুরে নতুন নিয়ম বৃহস্পতি, শনিও হত। পুরো বাড়িতে একটা সাদাকালো টিভি, ঘরভর্তি মানুষ। সাড়ে তিনটায় সিনেমা শুরু, তিনটা থেকেই জায়গা দখলের চেষ্টা। সেই সুবাদে সিনেমা শুরু হবার আগে আবহাওয়ার খবর দেখা, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক পাঠ শোনা। তারপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ “সিনেমা শুরু”।

মনে মনে প্রার্থনা, এডব্রেস (বিজ্ঞাপন) যেন না আসে। কিন্তু বিজ্ঞাপন ঠিকই আসে। বড়রা বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে অনেক কাজ সেরে নিত। আমরা ছোটরা, আঙুল দিয়ে বিজ্ঞাপণ গুনতাম। ত্রিশটা বিজ্ঞাপণ দেখানোর পরই সিনেমা শুরু হবে ততোদিনে আমাদের মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল। রুবেল, দিতি, জসীম, সাবানা, ববিতা, রাজ্জাক ছিল সেসময়ের কাংখিত নায়ক নায়িকা। এদের কেউ নেই মানে সিনেমা পানসে। রাজীব, রানি, শরীফ, জাম্বু ভিলেন থাকার কারণে কতো গালিই যে খেত তার হিসেব নেই। নায়ক মার খেলে আমাদের আফসোস হত, ভিলেনকে মারার সময় বলতাম, “মার.. মার..”।

কোকাকোলার সাথে পাওয়া “ইও ইও” খেলনা ছিল বেশ জনপ্রিয়। হাতের মধ্যে সুতা দিয়ে পেচিয়ে চ্যাপটা আকৃতির রাউন্ড গোলকটাকে কয়বার হাতে আপ ডাউন করাতে পারে তা নিয়ে হত প্রতিযোগিতা। বিড়িং নিয়ে খেলা হত। মেয়েরা কাপড়ের তৈরি পুতুল বানাত, সেই পুতুলের জামা বানাতো, বিয়েও দিত অনুষ্ঠান করে। টাকাওয়ালা বাবার মেয়েরা খেলত একটা ব্যাটারিচালিত পুতুল দিয়ে। সেই পুতুলের সুইচ অন করলেই বাজত ‘চল ছাইয়া ছাইয়া’ গান। ছেলেদের সব থেকে দামী খেলনা ছিলো রবোকোপ আর পিস্তল।

[চলবে]

৩১/০৫/২০২০, ০৮.৩৮ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *