শরীরী

  •  
  •  
  •  
  •  

বলা ঠিক না যদিও, আসল ব্যাপার হলো নারী-পুরুষের গোপন সম্পর্কের বিষয়টা প্রথম বুঝতে পেরেছিলাম মা-বাবার দেহমিলনের দৃশ্য দেখে। বয়স তখন চার কি পাঁচ! শুয়েছিলাম মায়ের পাশেই। ঘুমঘোরে বিপুল বিক্রমে উদ্যত বাবাকে দেখে মনে হয়েছিল বহিরাগত কোনো আক্রমণকারী! দেহমিলনের দীর্ঘ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি মধুর মনে হয়নি মোটেও। বরাবরই ভেবেছি কোনো এক বহিঃশত্রুর হাত থেকে অবশেষে নিস্তার পেল এক যুদ্ধবিধ্বস্ত নারী। বলা বেশী হবে, বাবা যখন মাকে ভীষণভাবে পেণিট্রেট করতো তখন সন্ত্রস্তই হয়েছি। চেঁচাতে চেয়েছি মা’কে তীব্রভাবে কাতরে শিউরে উঠতে দেখে। ভীতিকর সেই অনুভূতিকে মনে হয়েছে জান্তব! একেক রাতে সে কি প্রচন্ড অনুপ্রবেশ বাবার। আধো আঁধারে চোখ বুঁজে ভয়ে কাতর হতাম। দুটো মানব মানবীর শরীরী সহাবস্থানের প্রাণপণ চেষ্টার কারণ শনাক্ত করতে না পেরে মুখ গুঁজে ঘুমানোর চেষ্টা চালিয়েছি বরাবর। ঘুমের ভান করে অনুচ্চ স্বরে বলেই বসেছি,
– ‘মা, বাবা তোমাকে মারছে কেনো!’
নড়াচড়া টের পেয়ে কি না কে জানে, পিঠে হাত দিয়ে মা বলেছে,
– ‘ঘুমাও সোনা, মারছে না তো। আদর করছে।’
রাতের বেলায় মা বাবার প্রথাগত মিলনদৃশ্য দীর্ঘদিন ভয়ভীতির অন্যতম কারণ ছিল আমার কাছে।

কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। প্রেম করে বিয়ে করেছি। চাকরি-বাকরি নিয়ে সংসারিও হয়েছি। আজ বাবুর আম্মুর কথায় মনে পড়ে গেল সেসব শৈশবভীতি। বাসায় আমরা তিনজন মানুষ। বছর পাঁচেক হয়ে গেছে বাবুর জন্মের। মাকে ছাড়া একদণ্ড চলে না ন্যাওটা ছেলেটার। এমনকি ওর মা যখন ওয়াশরুমে যায় তখনও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি দরজার সামনে। রাতে ওর ঘুমই হয় না আম্মু ছাড়া। এতে অবাক হই না আমি। বিরক্তিও বোধ করি না। কিন্তু রাগ করতে দেখি বাবুর মাকে। এ নিয়ে হালকা কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে আমাদের মধ্যে। বাবুর আম্মু, আমার স্ত্রী যেহেতু পূর্বপরিচিত তাই ঝগড়াঝাটিতে এক ধরনের সুবিধে পাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের ফাঁকে যেমন করতাম, বিয়ের পরেও অভ্যাসটা বজায় রেখেছি আগের মতোই। কথা কাটাকাটি শুরু হয়েছিল বাবুকে নিয়েই। বাবুর মা বলেছিল,
– ‘ওর জন্য আলাদা একটা বিছানা লাগবে।’
আমি বললাম,
– ‘কেনো! দরকারটা কী?’
– ও তুমি বুঝবে না।
– ছেলে কি অনেক বড় হয়ে গেছে নাকি তোমার?
– হয়নি। হচ্ছে।
– তাই এখনই তাড়িয়ে দিতে চাচ্ছো, কেমন?
– তাড়িয়ে দিতে যাব কেনো!
– সরিয়ে দিতে চাও তাহলে?
– এতো কথা বলতে পারবো না। বলছি করতে হবে ব্যাস।
অহেতুক কথা চালাচালির যুক্তি খুঁজে না পেয়ে আমি থেমে পড়লাম।

কেননা গৃহযুদ্ধ বেশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়া নিরাপদ না। কারণ পাড়া প্রতিবেশীরাও জড়িয়ে পড়ে শেষে! কেলেঙ্কারি হয়ে যেতে পারে সামান্য তর্কের জেরে। বললাম,
– ‘ঠিক আছে তুমি যা ভাল মনে করো, করো।’
বললাম ঠিকই মনে মনে কিন্তু বাবুর আম্মুর এমন একটা সিদ্ধান্ত মেনে নিলাম না। রাগ টাগ না দেখিয়েই গজগজ করলাম বেশ অনেকক্ষণ। আমার মনের অবস্থা বুঝে নিয়ে কি না বলতে পারবো না সে বললো,
– ‘ঠিক আছে, থাকুক তাহলে।’
বুঝলাম আপোষ করল নিতান্ত অনিচ্ছায়। তাছাড়া এটাও ধরে নিলাম যে দুদিন পরেই বাবুর আলাদা বিছানার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ঝগড়া বাঁধাবে নতুন করে। তবে ছেলেকে রাতের বেলায় পাশ থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রস্তাবনা কেনো জোরদার করতে চাইছিল তা ঠিক পুঙ্খানুপুঙ্খ হলো না আমার কাছে। ভুল বললাম, পরিষ্কার হয়েছিল শেষতক, তবে পরে। গভীর রাতে! শরীর গরম হয়ে উসখুশ করছিলাম। বাবুর আম্মু বেশ বুঝতে পারছিল আমার অবস্থা। না থাকতে পেরে অস্থির হয়ে উঠলাম। সবসময় যেমন বলি বাধ্য হয়ে তাই বললাম,
– ‘আসবো নাকি?’
সে-ও যথারীতি ঠেলা দিলো,
– ‘এসে তো পড়েছই। খুব কি বেশি দরকার?’
– আবার জিগায়…!!!
ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে স্বামী স্ত্রীর বৈবাহিক কর্ম শুরু হলো। কিন্তু মাঝ পথেই ঘটে গেল বিপত্তি। প্রবলতর অনুপ্রবেশ কোনোভাবে হয়ত ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে ফেলে থাকতে পারে। ফলে হঠাৎ করেই জেগে উঠল বাবু। সঙ্গমরত দম্পতি সম্ভবত মনে ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিল ওর। আধো আঁধারে সে তার মায়ের অস্তিত্ব বুঝতে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো,
– ‘এ্যাই আম্মু এ্যাই! তোমাকে মারছে কেনো! বাবাকে বলো ওই খাটে গিয়ে শুতে।

০৭/০৯/২০২০, ১১.১৪ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *