শিক্ষা ও কর্ম বাজার

  •  
  •  
  •  
  •  

রাস্তার পাশের যে টংঘরের চা বিক্রেতা, তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকার উপরে। ভ্রাম্যমান ফুডকোর্টগুলোতে বার্গার, স্যান্ডউইচ বিক্রি হয়। সেটা থেকেও মাসিক গড়ে আয় হয় ৪০ হাজার টাকারও বেশি। এসব দোকান বা ফুডকোর্টগুলোতে যারা জড়িত বা ব্যবসা করছেন তাঁরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাধ্যমিকের গন্ডিই পার হননি। কিন্তু আমাদের অনার্স বা মাস্টার্স করা তরুণ-তরুণিগণ ৮-১০ হাজার টাকায় চাকরি জীবন শুরু করেন। সেই সঙ্গে হাড়ভাঙা পরিশ্রম তো আছেই। আছে মানসিক ‘নির্যাতন’। কিন্তু আমাদের ‘শিক্ষিত’ তরুণ-তরুণি এই ৮-১০ হাজার টাকার চাকরি করবেন। তবুও টংঘর কিংবা ভ্রাম্যমান ফুডকোর্টগুলোর সঙ্গে জড়াবেন না।

এর মূল কারন হলো আমাদের কথিত প্রেস্টিজ বা ইগো। ওগুলো করলে মানুষ কী বলবে। অনার্স পাশ করে ভ্রাম্যমান ফুডকোর্ট ‘দোকানদার’। ইয়াক। শিক্ষা আমাদের শিক্ষিত করেনি। বরঞ্চ অন্যের ‘দাস’ বা ‘চাকর’ হতে শিখিয়েছে। মানসিকভাবে উদার করার পরিবর্তে ‘সংকুচিত’ করে ফেলেছে। শিক্ষা আমাদের আর কিছু শেখাক বা না শেখাক ‘ইগো’ বা ‘প্রেস্টিজ’ শিখিয়েছে। তাই আমরা কর্পোরেট অফিসে ১০ হাজার টাকার চাকরি করি মনের সুখে। কিন্তু ‘শিক্ষিত’ সেই আমরাই বিদেশে গেলে রেস্টুরেন্টের ওয়েটার হই, শপিংমলের সেলসম্যান হই। পানশালায় পেয়ালাটানাওয়ালা হই। সেখানে আমাদের ‘প্রেস্টিজ’ বা ‘ইগো’ কাজ করে না। শুধু নিজের দেশেই এসব কাজ করে। কি আজব আমরা। তাই না?

১১/০৫/২০২০, ০৯.৪৫ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *