সংসার ও প্রবাস কাহন (শেষ পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

আমার স্বপ্নের বাড়ি, সোনার সংসার সব ভেংগে ছুড়ে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। তাকে অনেকবার কল করি। প্রায় একশবার কল করার পর সে রিসিভ করে। তাকে অনেক বুঝিয়েছি, অনেক ক্ষমা চেয়েছি কিন্তু হায় কপালের লিখন করা যায়না খন্ডন। এভাবে দিনের পর দিন তাকে কল করে যাচ্ছি। সে একটি বারের জন্যও আমাকে বুঝার চেষ্টা করেনি। ঐদিকে খবর পেলাম তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আমার ভাইয়েরা তার নামে মামলা করে। আত্মিয় স্বজন, ভাই বন্ধু সবাই বার বার পরামর্শ দিচ্ছে মামলা করার জন্য। নিজের বিবেককে গিলা টিপে সবার পরামর্শ গ্রহণ করলাম। মামলায় আমারও পরিপূর্ণ সায় ছিল। একপর্যায়ে তখনকার আমার দেন মোহর বাবদ তিনলক্ষ টাকা সে দিয়ে দিল। এই টাকা তার কাছে হাতের ময়লার মত ছিল। কিন্তু ফাইনাল শুনানির আগে অনেক ভাবে তাকে বুঝাতে চেষ্টা করেছি, অন্তত একটা রুম নিয়ে হলেও যেন সে আমাকে রাখে। কিন্তু তা আর হয়নি, পরিণাম আমি ডিভোর্সি।

আমি শোকে কান্না করতেও ভুলে গেলাম। একদিন শুনলাম সে বিয়ে করেছে। আমি এবার বুঝতে পারলাম আমার রিয়েলিটি। আমার একাউন্টে তখন মোট বিশ লক্ষ টাকা ছিল। প্রচুর স্বর্ণালংকার ছিল। ভাইয়েরা সেই টাকার জন্য আমাকে প্রচুর মেরেছে। দিনের পর দিন। মায়ের কাছে বুঝা হয়ে গেলাম। এবার আমি জানতে পারলাম, আমার বাবার জায়গাটাতে ওরা মাটি ভরাট করে ঘরের ফাউন্ডেশন দিয়েছে। ওরা চাচ্ছে আমার টাকা আর গহনা দিয়ে ঘরের কাজ বাড়াতে। হায় এবার আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল সব। কিন্তু অনেক অনেক দেরী হয়ে গেছে। রাস্তায় বের হওয়া কঠিন হয়ে গেল। সবার কাছেই খুব সস্তা হয়ে গেলাম। নিজের মায়ের কাছে যেন ঘরের কোণায় অবহেলায় পড়ে থাকা জিনিসের মত হয়ে গেলাম। ভাইদের মার দিনের পর দিন বেড়ে যাচ্ছে। এত বেশী মারত মাথা, চোখ ফোলে যেত। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম।

আমার এই শেষ সম্বলটুকু কাউকেই দেবনা। মার বাসায় থাকাটা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। এভাবে অত্যাচার, অপমান, আত্মিয়দের কঠু কথায় তিনটা বছর পেরিয়ে গেল। জানতে পারলাম, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর একটা পুত্র সন্তান হয়েছে। এদিকে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আমার সাথে এক নিঃসন্তান ডিভোর্সি মানুষের যোগাযোগ হয়। সে আমাকে বিয়ে করতে চায়। অনেক কিছুর পর তার সাথে আমার বিয়ে হয়। সে গ্রামে থাকে। সেখানে তার সব কিছু আছে। ধন – সম্পদ, দুইটা কাজের লোক, কিন্তু আমি কোন কিছুতেই সুখ খোঁজে পাইনা। পাড়া প্রতিবেশীরা বারবার আমাকে অপবাদ দেয়। পুরুষ মানুষেরা সুযোগ খোঁজে। বারবার আমার মেয়েদের কাছেই আমার মন পড়ে থাকে। সে আমাকে সুখে রেখেছে কিন্তু প্রতি মুহূর্তেই আমার মেয়েদের জন্য মনটা আনছান করতে থাকে। এইতো সেদিন জানতে পারলাম আমার মেয়েটা চি ইউ তে পড়ে। আমি ভাইদের সাথে, মায়ের সাথে কোন সম্পর্ক রাখিনি। তাদের জন্যই আমি সব হারিয়ে নিঃস্ব। ভুল আমারো অনেক ছিল, সেও আমাকে ক্ষমা করতে পারত। হয়নি, সব শেষ।

৩০/০৮/২০১৮, ১১.২২ PM

সংসার ও প্রবাস কাহন (প্রথম পর্ব)

সংসার ও প্রবাস কাহন (দ্বিতীয় পর্ব)

সংসার ও প্রবাস কাহন (তৃতীয় পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *