সুহাসিনী সমিপেষু

  •  
  •  
  •  
  •  

একমুখী রাস্তাটার মোড়েই ডাকবিভাগের ডাকবাক্স। কতশত মানুষের কত স্মৃতি এর ভেতর। অপেক্ষা আর প্রাপ্তির যুগল এক স্মৃতিধার। অনেকদিন হলো এ পথে মনে হয় না, ডাকপিয়নের পদচিহ্ন পড়ে! তালাটাতেও জং পড়েছে। নীল খামে ভরা চিঠিগুলো পড়ে আছে ভাঙাচোরা ডাকবাক্সে। ভাঙা ফাঁক ফোকর দিয়ে চিঠিগুলো উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। প্রাপক পাঠিয়ে সে হয়তো অপেক্ষা করছে উত্তরের আশায় –
‘…তোমার পত্র পেয়েছি। আমি ভাল আছি, আশা করি তুমিও ভাল আছো..।’
শেষ কবে আমার দরজাকবাটে চিঠি হাতে ডাকপিয়ন এসে কড়া নেড়েছে, মনে পড়ে না। ‘আপনার চিঠি’ এমন বাক্যও আর কানে বাজে না। টাইম মেশিনের পাগলাঘোড়ায় চেপে মাঝেসাজেই পেছনে যেতে চাই। যেতেও পারি তবে ফিরে আসতে হয় শূন্য হাতে।

আজকে এ ঘর, কালকে ও ঘর করতে করতে ছোটবেলার সেই বক্স ভর্তি চিঠি আজ ও আছে, আমার কাছে। বাহারী কালিতে লেখা সেসব চিঠি। মুগ্ধতার গাঙচিল উড়ে বেড়াতো মনের আকাশ জুড়ে। সময়গুলো থমকে গেছে। চিঠিগুলো হারিয়ে না গেলেও মানুষগুলো সময়ের বিবর্তনে দূরে চলে গেছে ঠিকই। লাবণ্যও হারিয়ে গিয়েছে, যে পথ ধরে এসেছিল। চলে যাবার পথ সে চিনেই এসেছিল। প্রতিদিন ওই ভাঙা ডাকবাক্সটার সামনে অপেক্ষা করি, ডাকপিয়নের জন্য। দেখা পেলেই খুব করে জিজ্ঞেস করবো,
– ‘আমার সেই প্রেরক- সুহাসিনী, ভালো আছে তো? তুমি ওকে বলে দিও- কেউ তার চিঠির অপেক্ষায় থাকে।’

০৯/১০/২০২০, ১১.৫৪ PM

বরাবর, সুহাসিনী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *