হাজার বর্ষারাত

  •  
  •  
  •  
  •  

জুয়ারির তাসের মতো সময়ের কার্ড জীবনের সবুজ টেবিলের ওপর সম্পাদিত জোছনা তীব্র আলোয় নিরন্তর ভেঁজে চলেছে আমার স্মৃতিতে। কতো খেলা, কতো খেলোয়ার, কতো কথা ভুলে গিয়েছি। কতো মুখ হারিয়ে গেছে, কতো সন-তারিখ এক হয়ে গেছে। কতো রোদ্দুর মেঘে ঢেকেছে, তবু এখনো বাজি ধরছি। এখনো আলো আছে পৃথিবীতে এবং আমার করোটিতে। উজ্জ্বলতায় সে ভরা পূর্ণিমার, সেই আলোয় এখন আমি পেছন ফিরে দেখছি। দেখছি একতী সুদীর্ঘ পথ, দেখছি সেই পথের ওপরে উৎসবের দিকে যাত্রার জন্য একদিন বেরিয়েছিল মানুষ। এখনো তাদের কলরব শুনতে পাচ্ছি যেন বা দীর্ঘ এক বাদ্যযন্ত্রে। আমিও তাদের সঙ্গে পথ হাঁটছি। কতো প্রাপ্তি, কতো নিরাশা, কতো সৌধ আর কতোই না ভাঙন, আর নীরবতা কোনো কোনো কন্ঠের। আর আজও আমি ধ্বনি তুলে চলেছি শব্দের মাদলে।

কী কারনে জানি না, মনটা আমার খারাপ হয়ে যেতে থাকে দিনের শেষ প্রহরে। বড় একা লাগে, মলিন হয়ে আসে বেলা। অলস পায়ে বাড়ি ফিরি, একা বাড়ি। ছাদের উপর নক্ষত্র খচিত আকাশের নিচে আমার রাত কাটে। রাতের দিকে নির্জন সড়কে খড়ম পায়ে খটখট খটখট শব্দ তুলে হাঁটি। অনুভবের অতল তল হতে এক চপল তরুণী আমাকে শাসিয়ে ওঠে,
– এই, শব্দ করে কে হাটে রে!
সেই মোহনীয় ধমকের স্বরে আমার ছন্দপতন হয়। থেমে যাই মহাকালের মতন। জীবন তো এক চলচ্চিত্র। শুরুতে সাদা পর্দা, শেষেও সাদা পর্দা। মাঝখানে ওই ছবিটাই যা কিছু।

২০/০৫/২০২০, ০৯.২০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *