আসলান (শেষ পর্ব)

আদালতে তোলা হলো তিন অপরাধীকে। ইতিমধ্যে কয়েকবার বয়ান পাল্টানোর চেষ্টা করেছে তারা, একেক সময় একেক রকম মনগড়া গল্প ফেঁদেছে। পুরো প্রদেশের একজন উকিলও তাদের পক্ষে দাঁড়াননি, যিনি ওদের হয়ে মামলা লড়েছিলেন তিনিও এই অপরাধীদের আত্নীয় বলেই মামলাটা নিয়েছিলেন। তুরস্কে মৃত্যুদণ্ডের প্রথা নেই, সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্ত এই অমানুষগুলোকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্যে ইস্তাম্বুলের রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন নারীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ দিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন মানুষ। তাতে অবশ্য আইন পুরোপুরি বদলায়নি, তবে ধর্ষণ বা খুনের আসামীরা ভালো ব্যবহারের জন্যে সাজা মওকুফের তালিকা থেকে বাদ থাকবেন, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। শেষমেশ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাই পেয়েছিল তিন অপরাধী। তবে স্রষ্টা মানুষের অপরাধের বিচারের খানিকটা দুনিয়াতেই করে ফেলেন কখনও কখনও। Continue reading “আসলান (শেষ পর্ব)”

চড়ুই জীবন

কয়লা যেমন পুড়তে পুড়তে হীরা হয় তেমনি আমিও রোবট হয়ে গিয়েছি। আবেগ অনুভূতির গলায় ফাঁস লাগানো শিখে গিয়েছি অনেক কাল আগেই। তবে কোন তপস্যা বা আরাধনার ফসল নয় এটি, বাস্তবতার দুর্দান্ত নির্মমতার শিক্ষার ফল। যতটুকু আজকে আমি, তার সবটুকুই ভাগ্যের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ক্লান্ত ফলাফল। আমি যুদ্ধ করতে জানি। জানতে হয়েছে, জন্মের পরক্ষণ থেকেই। বেশিরভাগ সময়ই ভাগ্যদেবীর সাথে খেলি রক্তাক্ত তলোয়ার খেলা। হার – জিৎ সমানে সমান। জিতে যাওয়া যুদ্ধের ফসল কতখানি নিজের ঘরে উঠেছে, হালখাতার ঘরে শূন্য’- তার দালিলিক প্রমাণ দেয়। তবুও যেহেতু আমি দোপেয়ে দৈত্য- সেহেতু নিজের স্বার্থের কথাও ভাবি।

ভয়াবহ মানুষিক দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে যখন আমি মানুষিক ভাবে কোমায় পড়েছিলাম, Continue reading “চড়ুই জীবন”

উগান্ডা মাসুদ

প্রেমিকারা বিদায় লইবার সময় কেউ দোয়া দিয়ে যায়,
– তুমি আমার থিকা আরও ভালো কাউরে পাইবা, তুমি আমার থিকা আরও ভালো কাউরে ডিজার্ভ করো, তুমি অনেক ভালো থাইকো, তুমি ভালো থাইকলে আমিও ভালো থাকবো ইত্যাদি ইত্যাদি।
আবার কেউ কেউ অভিশাপও দিয়ে যায়,
– তুমি আমার লগে চিট করছো, তুমি আমারে কষ্ট দিছো, মনটা ভাইঙ্গা খান খান করে দিছো, তুমি কোনদিনই সুখি হইতা পারবা না, কোনদিনই ভাল থাইকতে পারবা না, আমি মইরা গেলেও তোমারে মাফ করতে পারবো না ইত্যাদি ইত্যাদি।
আখেরাতে নাকি হিসাব হইবো দাঁড়িপাল্লা। ছোটবেলায় আম্মা আর মাদ্রাসার হুজুর কইতো, দাঁড়িপাল্লা যদি ডান দিকে কাইত হয়, তাইলে বেহেশত পাইবা, আর বামদিকে কাইত হইলে ফি নারে জাহান্নাম। Continue reading “উগান্ডা মাসুদ”

রাগের আমি, রাগের তুমি

রাগ এমন একটা জিনিস যা শুধু ক্ষতিই করে। আমারও রাগ ছিল প্রচন্ড। হুট করে রেগে যাওয়া রোগে আক্রান্ত ছিলাম। গ্লাস, প্লেটও ভেংগেছি অনেকবার। টিউশনির টাকা দিয়ে একটা মোবাইল ফোন কিনেছিলাম। প্রেমিকার সাথে ঝগড়া করে এক আছাড়ে কয়েক টুকরা! আহারে! মনে হলে এখনো জ্বলে সামান্য। একবার আমার বস বললেন,
– মোশারফ সাহেব, আপিনি তিন মিনিট লেইট। শনি, রবি, সোম তিনদিনের বেতন কাটা।
আমি রেগে গেলাম। সাথে সাথেই চাকুরী ছেড়ে দিলাম।

ফলাফল – ৭/৮ বছর আগে যে সেলারি পেতাম এখন তার অর্ধেক পাই, আর পরিশ্রম দ্বিগুন। Continue reading “রাগের আমি, রাগের তুমি”

সখ্য না সখ্যতা

আচ্ছা বলুন দেখি, কথাটা সখ্য না সখ্যতা? আমি বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত, মর্মাহত। ইন ফ্যাক্ট মরেই গেছি ধরে নিন। আমি কুম্ভীপাক জানি, রথারূঢ় জানি, দন্তরুচিকৌমুদী, অক্ষৌহিণী, স্পন্দচ্ছন্দা, গজভুক্তকপিত্থবৎ এমনকি ডিটি-রিও-রে-শন পর্যন্ত জানি, আর এই বহুব্যবহারে জীর্ণ, যুক্তাক্ষরবর্জিত একটা পুঁচকে বাংলা শব্দ কিনা আমাকে শুইয়ে দিল? মাথা হাফ ন্যাড়া করে ঘোল ঢেলে, উল্টো গাধার পিঠে চড়িয়ে দেশ থেকে রীতিমত গলাধাক্কা দিল? তাও এই তিনকাল গিয়ে এককালে ঠেকার পর? আমার পক্ষে অপমানটা হজম করা আরও বেশি শক্ত কারণ আমি নিজে চব্বিশ ঘণ্টা পরের ভুল ধরে বেড়াই। শখে নয়। যেচে কেউই অন্যের কাছে অপ্রিয় হতে চায় না। কমরেডরা জানেন ভুল ধরি, কারণ না ধরে পারি না। বিশেষ করে বাংলার ভুল। চোখের সামনে কেউ হ্রস্বর জায়গায় দীর্ঘ বসিয়ে দিছে, ণত্বষত্বের পিণ্ডি চটকে দিচ্ছে দেখলে ব্লাডপ্রেশার বেড়ে যায়, মাথা বনবন করে ঘোরে, বুক ধড়ফড় করে। Continue reading “সখ্য না সখ্যতা”

বিবিধ ফোর-প্লে (প্রথম পর্ব)

বেশ্যা-কে একটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলেই আমরা জানি। দেহ সম্ভোগের জন্য আমাদের জনপদে নারী পুরুষকে ভাড়া করে না বলে এবং কেবল পুরুষই নারীকে ভাড়া করে বলে বাংলা ব্যাকরণে বেশ্যার কোনো পুরুষবাচক শব্দ নেই। পশ্চিমবঙ্গে নাকি নারীরা আড়ালে-আবডালে দেহ ভোগের জন্য পুরুষ ভাড়া করা শুরু করেছেন এবং নিভৃতে এই ব্যবসার নাকি ব্যাপক সম্প্রসারণও ঘটছে। বাংলায় বেশ্যার পুরুষবাচক শব্দ না থাকলেও ইংরেজিতে আছে— জিগোলো। জিগোলো এমন একজন পুরুষসঙ্গী— ধনাঢ্য নারীকে যে সার্বক্ষণিক বা খণ্ডকালীন সঙ্গ দেবে, চাহিবামাত্র সঙ্গম করবে, নাচতে বললে নাচবে বা গাইতে বললে গাইবে, সদা সবিনয় আচরণ করবে; বিনিময়ে পাবে নগদ অর্থ, দামি জামা-কাপড়। জিগোলোকে কেপ্ট ম্যানও বলা হয়ে থাকে, কেপ্ট উইম্যান রক্ষিতা হলে কেপ্ট ম্যানের বাংলা দাঁড়ায় রক্ষিত। Continue reading “বিবিধ ফোর-প্লে (প্রথম পর্ব)”

Page 4 of 41234