রঙ্গীন শৈশব (প্রথম পর্ব)

ছোটবেলায় লাল রঙের “রাজা” কনডমকে বেলুন বানিয়ে খেলার কথা হুট করেই মনে পড়ে গেল। মুরুব্বিরা বুঝাতো,
– “এই বেলুনে রাতে পুলিশ হিসু করে ফেলে যায়, দেখোসনা কেমন ভেজা ভেজা?”
একেতো হিসু তার উপর পুলিশের হিসু এই বেলুন নিয়ে আর খেলা যাবেনা। শুক্রবারে সিনেমা দেখতাম। দিন ঘুরে নতুন নিয়ম বৃহস্পতি, শনিও হত। পুরো বাড়িতে একটা সাদাকালো টিভি, ঘরভর্তি মানুষ। সাড়ে তিনটায় সিনেমা শুরু, তিনটা থেকেই জায়গা দখলের চেষ্টা। সেই সুবাদে সিনেমা শুরু হবার আগে আবহাওয়ার খবর দেখা, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক পাঠ শোনা। তারপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ “সিনেমা শুরু”।

মনে মনে প্রার্থনা, এডব্রেস (বিজ্ঞাপন) যেন না আসে। কিন্তু বিজ্ঞাপন ঠিকই আসে। Continue reading “রঙ্গীন শৈশব (প্রথম পর্ব)”

অবিনাশ ডট কম

আপনাদের কাছে আইডিটা ফেইক হতে পারে বাট মানুষটা রিয়েল। ফেইক না মোটেও। সে যাই হোক, মূল প্রসঙ্গে আসি। আমি এক সময় নিয়মিত নামাজ পড়তাম। কিন্তু কোন এক কারনে, নামাজ পড়া অনিয়মিত হয়ে গেলো। আস্তে আস্তে নামাজ পড়া ভুলে যেতে বসলাম। জীবনের এই নির্মম সময়ে খুব কাছের দুজন বন্ধুর কাছে নিজের ভেতরের তোলপাড়ের কথা, অসহায়-অসারতার কথা বলতেই তারা দুজনে একটাই কথা বললেন,
– “নামাজ পড়, মন শান্ত হবে।”
গভীর গুরুত্ব নিয়ে তাদের কথা ভাবতে ভাবতে আমার নিজের জায়নামাজটা খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় কোথাও পেলাম না। Continue reading “অবিনাশ ডট কম”

ভেরি হট ষ্পট

কিছুক্ষণ আগে সাদিয়া ফোন দিয়ে বললো,
– “ওয়াইফাই অফ করছেন ক্যান? দ্রুত অন করেন।”
আমি অবাক হয়ে গেলাম। ভাবলাম, “সাদিয়া কিভাবে আমার ওয়াইফাই এর পাসওয়ার্ড পেলো? আর পাসওয়ার্ড পেলেও তো নেটওয়ার্ক পাওয়ার কথা না। সে থাকে তিনতলায় আর আমি ৭ তলায়!”
আমি সাদিয়াকে প্রশ্ন করলাম,
– ” তুমি কিভাবে নেটওয়ার্ক পাও আমার নেটওয়ার্ক এর?”
সে উত্তর দিলো,
– “আমি চারতলার সুমাইয়ার কাছ থেকে হটস্পট দিয়ে চালাই। সে আপনার ওয়াইফাই ব্যবহার করে।”
আমি সাদিয়ার ফোন রেখে চারতলার সুমাইয়াকে ফোন দিলাম। সে বললো,
– “দাদা, আমি তো হটস্পট দিয়ে পাঁচতলার সোনিয়ার কাছ থেকে নেটওয়ার্ক নেই। সে আপনার ওয়াইফাই চালায়।” Continue reading “ভেরি হট ষ্পট”

ঘুমের আমি ঘুমের তুমি

রাতে বিছানায় শুয়ে, কতক্ষণ ঘুমের অপেক্ষা করার পর আপনি ব্যাপারটাকে, “জাস্ট ঘুম না আসা” থেকে “ইনসমনিয়া অ্যাটাক” পর্যায়ে উন্নীত করেন? ইনসমনিয়া সোজা ব্যাপার নয়, কাজেই সেটা নিয়ে ইয়ার্কি মারা আমার উদ্দেশ্য নয়। ইনসমনিয়া আমি দেখেছি, তার পাল্লায় পড়ে একটা লোক জ্যান্ত অবস্থাতেও যে আধমরা হয়ে থাকতে পারে তাও দেখেছি। হয়তো সেই জন্যই মাঝে মাঝে সারারাত ঘুম না এলেও আমি কিছুতেই স্বীকার করতে চাইনা যে এটা ইনসমনিয়া গোছের কিছু হতে পারে। নিজেকে বুঝিয়ে দিই, হবেই তো। সারাদিনে অত কাপ চা খেলে ঘুম আসাটাই অস্বাভাবিক। এখন সেটা সত্যিও হতে পারে আবার ডিনায়াল-ও হতে পারে। আমি জানিনা। মোদ্দা কথা হচ্ছে আজ রাত্তিরে শুতে যাওয়ার ঝাড়া আড়াই ঘণ্টা পরেও যখন ঘুম এলো না, তখন আমি ধুত্তোরি বলে উঠে পড়লাম। Continue reading “ঘুমের আমি ঘুমের তুমি”

যত দূরে থাকো

তুমি মেসেজ দিতে দেরি করলে অথবা তুমি মেসেজ সিন করতে দেরি করলে কিংবা ফোনে ওয়েটিং পেলে যে মানুষটা হুট করে রেগে যায়, সেই মানুষটা তোমাকে ভালোবাসে। যে মানুষটা সারাক্ষণ তোমার সাথে কথা বলার জন্য ছটফট করতে থাকে, রাত জেগে থাকে। তোমাকে নিয়ে ভাবতে থাকে, স্বপ্ন দেখে। একটু আড়াল হলেই ফোন দেয় কিংবা অস্থির হয়ে যায়, সেই মানুষটাকে যদি ভুল ভাবো তাহলে তুমি তার যোগ্য হতে পারোনি। যে যাকে যখন চায়, যে মূহূর্তে চায়, যে সময়ে চায় ঠিক সেই সময়ই মানুষটাকে না পেলে রাগ হয়, অভিমান হয়। আর তখন তুমি যদি তার অভিমান কিংবা রাগটাকে গ্রহণ করতে না পারো উল্টা তার সাথে রাগারাগি করো তাহলে তুমি তাকে ভালোবাসতে পারোনি।

তোমার ফেইসবুক আইডিতে কে কি কমেন্ট করলো, কে রিয়েক্ট দিলো, Continue reading “যত দূরে থাকো”

কলিমউদ্দীনের বউ (শেষ পর্ব)

ক্যান্টিন হতে বের হয়ে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে ফের হাসপাতালে ঢুকব দেখি সেই গোল চত্বরে বৃদ্ধার পাশে এখন বৃদ্ধ বসে আছেন, এক হাতে দুটো সবুজ রংয়ের সস্তা আইসক্রিম। আরেকটু সামনে যেয়ে দেখি বৃদ্ধা তখনো কাঁদছেন, আর কলিমউদ্দীন সাহেব অন্য হাতে বউয়ের ভেজা গাল মুছে দিচ্ছেন। দ্বিপ্রহরের কড়া রোদ তখন মাথার উপর। ঈশানকোণে এক টুকরো মেঘ জমেছে যদিও। রোদের তীব্রতা তাতে কমেনি। পশ্চিম দিকে মর্গের পাশে থাকা আকাশমনি গাছটা হতে একটা বেনে বউ পাখি ডাকল কি ডাকল না, আমি মুগ্ধ চোখে বৃদ্ধ দম্পতিকে দেখতে থাকি। দম্পতিদের কাছে গিয়ে বললাম,
– কী চাচা কই হারায়ে গিয়েছিলেন?
– একটু পলায়ে ছিলাম। দেখতাছিলাম আমারে না পালি আপনার চাচী কী করে। কেমন কানতাসিল। হিহি।
– কথা বলবেন না আমার লগে। Continue reading “কলিমউদ্দীনের বউ (শেষ পর্ব)”

Page 1 of 512345