এসপি সাহেবের কুকুর

আমাদের বাসা থেকে আমার এক খালার বাসা ছিল খানিকটা দূরে। দূরত্বটা এমন যে রিক্সা ভাড়া চল্লিশ পঞ্চাশ টাকা লেগে যেতো। রিকশায় করে যখন খালার বাসায় যেতাম, পথে রাস্তার পাশেই পড়তো ডিসি আর এসপির ডাকবাংলো। কি বিশাল বড় বড় ছিল সে বাংলো গুলো, বাবারে বাবা! সেই বিশাল বিশাল বাংলো দুটো আমাদের মতো ছোটদের জন্য ছিল একেবারে জীবন্ত জাদুঘর। যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে কিন্তু ভেতরে যাবার সাধ্য নেই। একদিন সেই বাংলোর পাশ দিয়ে যাবার সময় বিশাল গ্রিলের ফাঁক দিয়ে একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখলাম। দেখি আমার বয়সী বাচ্চা একটা মেয়ে, ধবধবে সাদা একটা এলসেশিয়ান কুকুর নিয়ে খেলছে। মফস্বল এলাকায় তখন এ ধরনের কুকুর বেশ বিরল। আর খেলার ধরনটাও কেমন আলাদা রকমের। মেয়েটা বলের মত কি যেন ছুঁড়ে দিয়ে খিলখিল করে হাসছে আর কুকুরটা তার ফ্রকের কোনা কামড়ে ধরে সেদিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং মেয়েটা বল সদৃশ বস্তু কুড়িয়ে নিয়ে আবারও একই কাজ করছে। অল্প, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দেখা। তাতেই আমার হৃদয়ের অলি গলি ঐ কুকুর ছানা দখল করে ফেলল। চিন্তা করতে লাগলাম, কিভাবে এটার একটা বাচ্চা জোগাড় করা যায়। Continue reading “এসপি সাহেবের কুকুর”