দাম্পত্যে সুখ

আমাদের সমাজের একটি সাধারন প্রবনতা হচ্ছে ভাত দেখে মেয়ে বিয়ে দেয়া। সোজা কথায় পাত্রের আর্থিক অবস্থা দেখে মেয়ে বিয়ে দেয়া। এক হিসাবে এটা ঠিক আছে, আরেক হিসাবে সম্পূর্ন ভুল। যে মেয়ে এসিতে ঘুমায়, জীবন যেহেতু বাংলা সিনেমা নয়, সেই মেয়ের বাবা অবশ্যই চাইবে না যে তার মেয়ে বস্তির গরমে ছটফট করুক। আবার এটাও চাইবে না যে সেই ছেলে মাতাল হয়ে এসে রাতে স্ত্রীকে পেটাক। প্যাচটা আসলে এইখানেই। আমাদের দাদাদের আমলে বিয়ে হত বিশাল মাপজোক করে। সবার না, আমি কেবল খান্দানি পরিবারদের কথা বলছি। আপনারা প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খা সাহেবের আত্মজীবনি পড়লে দেখবেন তার পিতার সময় কত কড়াকড়ি ভাবে মান নির্নয় করে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থির করা হত। অবশ্য এখন এসব শুনিয়ে আর কি হবে, এ যুগে মান নির্নয় বলতে তো বোঝায় ছেলের পকেট কত ভারী আর মেয়ে দেখতে কেমন, এন্ড অফ স্টোরি!

সেই যুগে বিয়ে করতে গেলে বংশীয়রা অপর পক্ষের চৌদ্দ গোষ্ঠির খবর নিত। Continue reading “দাম্পত্যে সুখ”

এসপি সাহেবের কুকুর

আমাদের বাসা থেকে আমার এক খালার বাসা ছিল খানিকটা দূরে। দূরত্বটা এমন যে রিক্সা ভাড়া চল্লিশ পঞ্চাশ টাকা লেগে যেতো। রিকশায় করে যখন খালার বাসায় যেতাম, পথে রাস্তার পাশেই পড়তো ডিসি আর এসপির ডাকবাংলো। কি বিশাল বড় বড় ছিল সে বাংলো গুলো, বাবারে বাবা! সেই বিশাল বিশাল বাংলো দুটো আমাদের মতো ছোটদের জন্য ছিল একেবারে জীবন্ত জাদুঘর। যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে কিন্তু ভেতরে যাবার সাধ্য নেই। একদিন সেই বাংলোর পাশ দিয়ে যাবার সময় বিশাল গ্রিলের ফাঁক দিয়ে একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখলাম। দেখি আমার বয়সী বাচ্চা একটা মেয়ে, ধবধবে সাদা একটা এলসেশিয়ান কুকুর নিয়ে খেলছে। মফস্বল এলাকায় তখন এ ধরনের কুকুর বেশ বিরল। আর খেলার ধরনটাও কেমন আলাদা রকমের। মেয়েটা বলের মত কি যেন ছুঁড়ে দিয়ে খিলখিল করে হাসছে আর কুকুরটা তার ফ্রকের কোনা কামড়ে ধরে সেদিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং মেয়েটা বল সদৃশ বস্তু কুড়িয়ে নিয়ে আবারও একই কাজ করছে। অল্প, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দেখা। তাতেই আমার হৃদয়ের অলি গলি ঐ কুকুর ছানা দখল করে ফেলল। চিন্তা করতে লাগলাম, কিভাবে এটার একটা বাচ্চা জোগাড় করা যায়। Continue reading “এসপি সাহেবের কুকুর”

টাকা মানি, মানি টাকা

“মন! মন আবার কি? টাকা ছাড়া মন কি? টাকা ছাড়া আমাদের মন নাই; টাঁকশালে আমাদের মন ভাঙ্গে গড়ে!” বঙ্গিমের কমলাকান্তের উক্তি এটি। ধনতান্ত্রিক সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম অবদান এই মন, যা টাকশালে ভাঙে, গড়ে। টাকা স্বর্গ, টাকা ধর্ম, টাকাই জপ তপ ধ্যান। অটোমোবিল ও স্কাইস্ক্রেপার যুগে মেট্রোপলিটন মহানগরে আর কোন টান মানুষকে টানতে পারে না। এককালে মা ছিলেন স্বর্গাদপি গরীয়সী এবং পিতা স্বর্গ পিতা ধর্ম, পিতাই ছিলেন পরম তপস্যার বস্তু। তখন মানুষের টানে মানুষ চলত, গরুর টানে গাড়ি চলত মাটির পথে। ইট পাথর লোহার পথ ছিল না, বাড়ি ঘর ছিল না, অটোর মতো যন্ত্র মানুষকে প্রচণ্ড বেগে টানত না। মাটির টানে, মানুষের টানে, মানুষ চলত। ক্রমে মাটি থেকে দূরে সরে যেতে থাকলো মানুষ। মাটি থেকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো মানুষ। কংক্রিটের স্পর্ষে, মাটির স্পর্ষবোধ চলে গেল। গৃহসীমানায় প্রাচীর উঠলো, ছোট প্রাচীর, বড় প্রাচীর। ইটের উচ্চতার আড়ালে মানুশের মনও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। Continue reading “টাকা মানি, মানি টাকা”

হাজার বর্ষারাত

জুয়ারির তাসের মতো সময়ের কার্ড জীবনের সবুজ টেবিলের ওপর সম্পাদিত জোছনা তীব্র আলোয় নিরন্তর ভেঁজে চলেছে আমার স্মৃতিতে। কতো খেলা, কতো খেলোয়ার, কতো কথা ভুলে গিয়েছি। কতো মুখ হারিয়ে গেছে, কতো সন-তারিখ এক হয়ে গেছে। কতো রোদ্দুর মেঘে ঢেকেছে, তবু এখনো বাজি ধরছি। এখনো আলো আছে পৃথিবীতে এবং আমার করোটিতে। উজ্জ্বলতায় সে ভরা পূর্ণিমার, সেই আলোয় এখন আমি পেছন ফিরে দেখছি। দেখছি একতী সুদীর্ঘ পথ, দেখছি সেই পথের ওপরে উৎসবের দিকে যাত্রার জন্য একদিন বেরিয়েছিল মানুষ। এখনো তাদের কলরব শুনতে পাচ্ছি যেন বা দীর্ঘ এক বাদ্যযন্ত্রে। আমিও তাদের সঙ্গে পথ হাঁটছি। কতো প্রাপ্তি, কতো নিরাশা, Continue reading “হাজার বর্ষারাত”

বেওয়ারিশ বেজন্মা (প্রথম পর্ব)


অবশেষে মিতু সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, তাঁর গত হয়ে যাওয়া প্রেমিক- জন্মপরিচয়হীন ছিল। এই সিদ্ধান্ত পাকাপোক্ত হবার পরে নিজেকে খুব ‘অপবিত্রা’ মনে হচ্ছিল তাঁর। ‘ছি: একজন বেজন্মা আমাকে ছুঁয়ে ছিল। এর আগে আমার মরণ কেন হলো না!’। ছিটেফোটা যে সব স্মৃতি ছিল ওই বেওয়ারিশ প্রেমিকের সাথে, মনে হতেই গা গুলিয়ে আসছে তাঁর। হাতের তালু, আঙ্গুল, নখ অনেকবারই স্যাভলন ডেটল দিয়ে ধুঁয়েছে। তবুও তাঁর ঘেন্না হচ্ছে। নিজ হাতে খেতেও পারছে না। একটা বিভৎস গন্ধ যেন বের হচ্ছে হাত থেকে। উফফ! অসহ্য। ভাগ্যিস, পরিণতির আগেই ছেলে জন্মপরিচয় ফাঁস হলো! না হলে যে সন্তান গর্ভে আসতো সেও তো হতো – বাস্টার্ড চাইল্ড। বাচ্চাটাকেও হয়তো শেয়াল-কুকুরের খাবার বানিয়ে দেয়া লাগতো। চারপাশে এতো ভাল মানুষ, সবার কত কত বড় পিতৃপরিচয়। সেসব রেখে এক বেওয়ারিশের সাথে? নাহ আর ভাবতে পারছে না সে। Continue reading “বেওয়ারিশ বেজন্মা (প্রথম পর্ব)”

ফেইসবুক ইন অ্যা নাটশেল

আজকের ফেসবুকের এই আইডিয়াটা জাকারবার্গের ছিল না। জাকারবার্গ আইডিয়া চুরি করেছিলেন। সেখান থেকেই আজকের ফেসবুক। ফেসম্যাশ নামে যে একটা সিস্টেম চলছিল হার্ভাড ইউনিভার্সিটি, যার কাজ ছিল সিস্টেমে আপলোড করা মেয়েদের ছবিতে ভোট করা – হট অর নট। সেই সিস্টেম হ্যাক করে সিকিউরিটি ব্রাঞ্চ ব্রেক করেছিলেন। ঘটনা ২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর। এবং এই হ্যাকের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে দোষি সাব্যস্তও করেছিল। যদিও ফেসম্যাশ’র জনক হিসেবে জাকারবার্গককেই ধরা হয়। কিন্তু ফেসম্যাশের আইডিয়া ছিল তাঁর কাছের এক বন্ধুর। উনি সেই আইডিয়াকে ইমপ্লিমেন্ট করেছিলেন মাত্র। ‘দ্য হার্ভাড ক্রিমসন’ এর একটি সম্পাদকীয় পড়লে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন। ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেন, নাম দেন দ্যফেসবুক.কম। Continue reading “ফেইসবুক ইন অ্যা নাটশেল”

Page 2 of 512345