জীবনের অংক

আম্মা আমাকে ক্লাস ফাইভ থেকে তিনটা অংকের কথা বলতেন। এই তিনটা অংকের একটা হলেও পরীক্ষায় আসবেই আসবে, আমিও নাছোড় বান্দা খুব বেশি আমল দিয়ে অংক গুলো করতাম না।
১. পিতা পুত্রের বয়সের অংক।
২. বানরের তৈলাক্ত বাশের অংক। এবং
৩. চৌবাচ্চার এক ফুটা দিয়ে পানি ঢুকা, আর দুই ফুটা দিয়ে বের হওয়ার অংক।
আজিব হলেও সত্য এই তিন অংক ঘিরে আপনার চাকরি আর সংসার জীবন ঘুরছে।

১. আপনার বয়স আর আপনার বসের বয়স এর দূরত্ব। আর কয়টা চাকরি বদলালে আপনি বসের বয়স (পদবি) কে ছুতে পারবেন। Continue reading “জীবনের অংক”

প্রতিবন্ধী এক প্রজন্মের কথা

অস্বাভাবিক এক প্রজন্ম গড়ে উঠছে দেখছি। কি হচ্ছে আসলে এসব। কয়েকদিন আগে এক ছেলে নিজের বাবার লাশ কাঁধে নিয়ে কবরের দিকে যাচ্ছে। সেই ছবি ফেসবুকে আপলোড দিয়েছে। ক্যাপশন- “আমি এবং আমার কাঁধে বাবার লাশ, কবরের দিকে যাচ্ছি সবাই দোয়া করবেন।” এক মেয়ে বসে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিয়েছে। ক্যাপশনে ফটো ক্রেডিট হিসেবে লিখেছে- “প্রতিবন্ধী”। ছবিতে কমেন্ট দিলাম – এতদিন জানতাম “প্রতিবন্ধী স্টাইল” ফটোশুট হয়, কিন্তু ফটোগ্রাফার “প্রতিবন্ধী” হয় এই প্রথম শুনলাম। মনে আছে, রমজানের সময় তারাবীহর নামাজে সেজদারত এক মেয়ের সেলফির কথা? কতটা অসুস্থ হলে এমন কাজ করা যায়। কিছুদিন আগে দেখলাম এক ছেলে তার মায়ের জন্য খোড়া কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছে। seriously। Continue reading “প্রতিবন্ধী এক প্রজন্মের কথা”

পিৎজা দোকানের রূপবতী (দ্বিতীয় পর্ব)

মনের ভেতর নানান প্রশ্ন উঁকিঝুঁকি দিতে লাগলো। আচ্ছা, এই মেয়েটির বয়স কতো? ওর নাম কি? থাকে কোথায়? সে কি বাঙালী? কমপ্লেকশন তো তাই বলছে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ওর বয়স বড়জোর সাতাশ কিংবা আটাশ। বেশিও হতে পারে। কোথায় যেন পড়েছিলাম ওই বয়সে মেয়েদের রূপ খোলে। যিনি এই কথাগুলো লিখেছিলেন তিনিও নিশ্চয়ই আমার মতন কেউ। গুড অবজারভেশনিস্ট।
মেয়েটি কাউন্টারের ইটালিয়ান লোকটাকে বলল,
– “লার্জ পাই টু গো” প্লিজ।
কথাটা শুনে আমি মনে মনে খুশি হলাম। লার্জ পাই বানাতে সময় লাগে। পনেরো মিনিটের কম না। পনেরো মিনিট অনেক সময়। মেয়েটা আমার উল্টো দিকের চেয়ারটায় বসেছে। Continue reading “পিৎজা দোকানের রূপবতী (দ্বিতীয় পর্ব)”

শ্বাশুড়ি সমাচার

আমার শ্বাশুড়িকে কে যেন ফোনে “I Love you” বলেছে! একবার নয় বেশ কয়েকবার। ফোন রিসিভ করলেই বলে,
– “স্যরি জান, আইলাভিউ”।
বদমাশ লোকটা ফোনে মহা উৎপাত শুরু করেছে। অন্য কোন কথা বলে না, শুধু বলে,
– “স্যরি জান আইলাভিউ”।
আমার শ্বশুর এখনো ঘটনা জানেনা। জানলে কি হবে ভাবতেই ভাল লাগছে! আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ির প্রেমের বিয়ে। কলেজের ডাকসাইটে সুন্দরী ছিলেন আমার শ্বাশুড়ি। আশপাশের অনেকেই পছন্দ করতেন তাঁকে । কিন্তু আমার চতুর শ্বশুরমশাই ভাজুং ভুজুং দিয়ে তাকে বিয়ে করে ফেলেন। এবং কোন প্রকার বিরতি ছাড়াই চার চারটি ছেলেমেয়ে নিয়ে পারিবারিক বন্ধনকে নিরাপত্তার চাদরে আবদ্ধ করেছেন। আমার কিশোরী শ্বাশুড়ীর অনেক গুলো প্রেমিকের মধ্যে একজন ছিলেন সনাতনী হারাধন বোস। Continue reading “শ্বাশুড়ি সমাচার”

হযরত ফাতিমা (রাঃ)

হযরত আলী রাঃ, ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে গেছেন। এদিকে হযরত ফাতিমা রাঃআঃ,গায়ে অত্যান্ত জ্বর অবস্থায়। ঘরের সমস্ত কাজ, শেষ করেছেন। আলী রাঃ, মসজীদ থেকে এসে দেখে, ফাতিমা কাঁদতেছেন, আলী (রাঃ) প্রশ্ন করলেন,
– ও ফাতিমা তুমি কাঁদ কেন?
ফাতিমা কোন উত্তর দিলেন না। ফাতিমা আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন, আলী রাঃ কয়েকবার প্রশ্ন করার পরে, ফাতিমা রাঃ কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
– ও আলী, আমি স্বপ্নের মধ্যে দেখতেছি, আমার আব্বাজান, হযরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্ সাঃ আমার ঘরের মধ্যে ঢুকে কি যেন তালাশ করতেছেন ঘর থেকে বাহির হওয়ার সময়, আমি পিছন দিক থেকে, আমার আব্বাজান কে ডাক দিলাম। ও আব্বাজান আপনি কি তালাশ করতেছেন?
আব্বাজান মুহাম্মাদুর রা: (সঃ) বলতেছেন, Continue reading “হযরত ফাতিমা (রাঃ)”

প্রেমিকার বিয়ে

আমি সাধারণ কোনো প্রেমিক হতে চাইনি। আমি চেয়েছি আর দশটা প্রেমিক থেকে ভিন্ন কেউ হই। তাই আমার সাথে নিতুর প্রেমটা ছিলো ইদানিং সময়ের ‘রাজনীতি’র মতো। চলছে, তবে আগামাথা নেই। সব প্রেমিক হাঁটু গেড়ে বসে প্রেমিকার হাত ধরে প্রপোজ করে, আমাকে আর দশটা প্রেমিকের মতো হলে চলবেনা। আমি হাঁটু গেড়ে বসে বলিনি ‘মন দাও’। নিতুর সামনে গিয়ে সরাসরি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছি,
– ‘আমি’ তো ‘আমায়’ প্রচন্ড ভালোবাসি; আর ‘আমায়’ ‘আমি’ ও। কিন্তু আজকাল ‘আমায়’ ‘আমাকে’ ভালো বাসছে না। ‘তোমাকে’ বাসছে। তাই ‘আমাকে’ও বাধ্য হয়ে ‘তোমাকে’ বাসতে হচ্ছে।
প্রেমিক প্রেমিকা হলেই রাতভর ফোনে গুজুর- গাজুর, ফুসুর- ফাসুর করতে হয়। সবাই ই করে। আমি আর দশটা সাধারণ- কমন প্রেমিক নই। আমি রাত হলে নিতুকে ব্লক দিয়ে শুয়ে পড়তাম, সকাল হলে আনব্লক করতাম। Continue reading “প্রেমিকার বিয়ে”

Page 3 of 512345