খন্ডচিত্র

এবং মৃত্যু বড্ড বেশি সুখের। মৃত্যু এক যন্ত্রণাহীন যাতনা। মৃত্যু আর অবশেষ। রহমান আজ মৃত্যু নিয়ে ভাবছে। ভাবছে প্রেম নিয়ে। রহমানের মনে হয় – মৃত্যুই জীবনের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা এবং মৃত্যুই প্রেম। ভালোবাসা’র মৃত্যু, প্রেমময় মহান মৃত্যু। জীবন – মরণ এক মিলন বিন্দু। মৃত্যু সত্য তাই সুন্দর; মৃত্যু প্রাকৃতিক তাই নির্ভেজাল। হঠাৎ একটা মুঠোফোনের অভাব বোধ করে যেনো রহমান। কিন্তু মৃত্যুর পর মুঠোফোনের প্রয়োজন নেই। হয়তো প্রয়োজন কিংবা অভাব কোনটাই নেই। জীবন তো অংশ মাত্র; মৃত্যু সমগ্রক। অংশ সমগ্রকের বৈশিষ্ট্যধারী – এজন্যই কি জীবন যন্ত্রণাময়? প্রেম যন্ত্রণাময়? সমগ্রকের আদি-অন্ত নেই; অংশের আছে। তাই জীবন অভাবপূর্ণ।

গীতাঞ্জলীর সমগ্র প্রেমের অংশ মাত্র পেয়েছিল বলে বিরহ কাতর হয়ে পড়ে সে। Continue reading “খন্ডচিত্র”

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (ষষ্ঠ পর্ব)

ষোল
রাত বারার সাথে সাথে আমার শরীর গরম হতে থাকলো। সেই সাথে পেট পাক দেয়া শুরু করলো। এবং প্রচন্ড ঘাম শরীর বেয়ে গোসল করার মতো হয়ে গেল। মাথার উপরের ফ্যান প্রান পন ঘুরেও গরম আর অস্থিরতায় ভরা এই আমাকে ঠান্ডা করতে সম্পূর্ন ব্যর্থ হলো। যতই রাত বাড়ছে, ততই আমি ক্লান্ত হয়ে পরছি। শরিরের শক্তি লোপ পাবার মতো হয়ে গেল। শুধু মাত্র থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ছাড়া শরিরে কিছুই নেই। তার পরেও গরমে সিদ্ধ হবার জোগার। এ যেন কেউ আমাকে বড় পাতিলে ফুটন্ত পানিতে ছেঁড়ে, নিচে দিয়ে ইট ভাটার চুল্লি জ্বালিয়ে দিয়েছে। ঘড়ির দিকে তাকালাম। রাত বাজে ১২ টা। মুরগির বিরিয়ানি খাওয়ার পরে আমি হাফ প্যাকেট সল্টেড চিপস এবং হাফ বোতল আমের জুস খেয়েছিলাম। সেটা যেন মারাত্নক হয়ে ধরা দিলো। আমি তখন একটুও বুঝতে পারিনি, বাসি গন্ধ যুক্ত বিরানির সাথে সল্টেড চিপস মিলে পেটে পাক ধরাবে এবং বাজে বিক্রিয়া ঘটিয়ে আমাকে প্রচন্ড রকম অসুস্থ করে তুলবে। আমি ফ্যানের দিকে হা করে তাকিয়ে আছি, আর লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস নিচ্ছি। আমার মাথা ধিরে ধিরে কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। হাত পা অবস হয়ে আসছে। Continue reading “অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (ষষ্ঠ পর্ব)”

কাফফারা

রুহের হায়”বলে একটা কথা আছে। “Revenge of Nature” অর্থাৎ “প্রকৃতির প্রতিশোধ” বলতে একটা ব্যাপার আছে। কোরআন এর ভাষায় যেটাকে বলে “কাফফারা”। এ সম্পর্কে বেশ কয়েকবার বলা আছে কোরআনে। এবং এটা আমাদের বিশ্বাস করতেই হবে। প্রত্যেকটা মানুষ তার খারাপ কাজের শাস্তি পায়। কেউ আগে পায়, কেউবা কয়েকদিন পরে! কিন্তু শাস্তি সে পাবেই। হয়তো ঐ বিষয় গুলোর উপর সমপ্পক স্থাপন করতে পারিনা আমরা। Exactly কোন কাজের শাস্তি পাচ্ছি আমরা তা জানি না। কাউকে কষ্ট দিয়ে, কাউকে কাঁদিয়ে, কাউকে অপমান করে, কাউকে ঠকিয়ে বেমালুম ভুলে যাই আমরা। কিন্তু প্রকৃতি ভুলে না।

বিশ্বাস করুন প্রকৃতি কিছুই ভুলে না, প্রকৃতি ক্ষমা করে না। Continue reading “কাফফারা”

আপেল

পুলিশে চাকরির ইন্টার্ভিউ হচ্ছে, গম্ভীর মুখে বসে অপেক্ষা করছেন পরীক্ষক। প্রথম যে ব্যাক্তি এলেন তাকে সহজ একটি প্রশ্ন করে সাক্ষাতকার শুরু করতে চাইলেন অফিসার।
: তুমি বাজারে গেলে আপেল কিনতে, এক কেজি আপেলের দাম একশত টাকা হলে তুমি একশত গ্রাম আপেলের দাম কত দেবে?
শুনে সহাস্য ভংগিতে চাকরিপ্রার্থি বললো,
: স্যার! একশগ্রাম আপেল যদি টাকা দিয়া কিনতে হয় তাইলে পুলিশ হমু কি করতে?
অফিসার মজা পেলেন উত্তর শুনে।
: যদি তোমার বাবা যায়?
: আমার বাবার দাত নেই, শুধু কলা খেতে পারেন, আপেল দিয়া কি করবে?
: আচ্ছা যদি তোমার ভাই যায়? Continue reading “আপেল”

ডেস্পো ডিপ্রো

ডিপ্রেশন থেকে শক্ত হয়ে ওঠা মানুষ গুলোকে কখনো কারো সামনে দাঁড়িয়ে থেকে কাঁদতে দেখবেন না। বরং তাদের কে সারাদিন প্রাণোচ্ছল হাসিখুশি দেখবেন। আপনার পাশে থেকে আপনাকেই সাহস যোগাতে দেখবেন। প্রাণ খুলে হাসার অভিনয়টা তারা পুরোদমে শিখে ফেলে। নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হিসেবে সবার কাছে নিজেকে উপস্থাপন করতে জানে। এরা একা কাঁদে লুকিয়ে। গভীর রাতে। সবার সামনে হাসতে হাসতে এরা যখন খুব মানসিক ভাবে টায়ার্ড ফিল করে তখনই কাঁদে। কান্নাটা কিন্তু শুধু রাতের অন্ধকারের জন্যই বরাদ্দ। সকালে সূর্য উঠার সাথে সাথে এরা আবার মোটিভেট হয়।আবার সেই প্রাণোচ্ছল হাসিমাখা মুখ নিয়ে সবার সামনে গিয়ে উপস্থিত হয়। কোনোভাবে একবার ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে পারলে,সেই মানুষগুলোকে আর কেউ কোনো কিছুতেই দমাতে পারেনা।তাই জীবনে একবারের জন্য হলেও কঠিন ডিপ্রেশনে ভোগা উচিত। Continue reading “ডেস্পো ডিপ্রো”

আমার বাবা

আমার বাবা চলে গেলেন আল্লাহ তায়ালার কাছে গত ১ লা জুন ভোরবেলা। তিনি ঘুমের মাঝেই আমাদের ছেঁড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আমি উনার সামনে ছিলাম না। কখনো মনেই হয়নি এবং বুঝতেও পারিনি বাবা আমাদের ছেঁড়ে এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবে। আমি সেদিন সারা রাত কোন এক অজানা কারনে ঘুমাতে পারিনি। ছট ফট করেছি। ভোর ৬ টার দিকে উঠে নিজের ঘরেই হাঁটা হাঁটি করছি। আনুমানিক সকাল ৭টার দিকে আম্মু এবং মেজো ভাই আমার রুমে কান্না করতে করতে যখন ঢুকলেন, তখন আমার বুকের বা পাশটা ছ্যাঁত করে উঠলো। আম্মু আমাকে আব্বুর কাছে যেতে বললেন। আমি দৌড়ে আব্বুর পায়ের কাছে গিয়ে বসলাম। তার সারা শরীর চাদরে ঢাকা। শুধু মুখটুকু বেরিয়ে আছে। দেখলাম, আব্বু ঘুমাচ্ছেন। যেন একটু পর উঠে সকালের নাস্তা খেয়ে কোরআন শরীফ পড়তে বসবেন। আমি তার পায়ে, হাতে, কপালে, মুখে হাত রাখলাম, দেখার চেষ্টা করলাম – নিঃশ্বাস নিচ্ছেন কিনা? কিন্তু হায়, কোথাও তো কোন সাড়া শব্দনাই। মূহুর্তেই আমার পৃথিবী দুলে উঠলো। আমার দু’চোখ বেয়ে নামতে থাকলো জলের স্রোত। আমি বাবা হারা হলাম। বাবাকে ভালোবেসে, জড়িয়ে ধরে “বাবা” ডাকা হলোনা। Continue reading “আমার বাবা”

Page 4 of 512345