সত্যজিৎ রায় (তৃতীয় পর্ব)

১৯৮০-র শুরুর দিকে ভারতীয় লোকসভা সদস্য ও প্রাক্তন অভিনেত্রী নার্গিস দত্ত তাঁর বিরুদ্ধে এই বলে অভিযোগ আনেন যে তিনি “দারিদ্র্য রফতানি” করছেন, এবং সত্যজিতের কাছে “আধুনিক ভারত”-এর প্রতিনিধিত্ব করে এমন ছবি বানানোর দাবি করেন। অন্যদিকে ভারতজুড়ে সমাজতন্ত্রের প্রবক্তারা মনে করতেন সত্যজিৎ জাতির নিপীড়িত শ্রেণীর প্রতি “প্রত্যয়ী” ছিলেন না, বরং তিনি ‘‘পথের পাঁচালী’’ ও “অশনি সংকেত’’ ছবিতে বর্ণনাভঙ্গি ও নান্দনিকতার মাধ্যমে দারিদ্র্যকে মহৎ করে দেখিয়েছেন। তাঁরা আরও অভিযোগ করে যে সত্যজিৎ তাঁর ‘‘বুর্জোয়া’’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে তাঁর ছবির সংঘাতগুলোর কোন সমাধান দেখাতে পারেন নি। Continue reading “সত্যজিৎ রায় (তৃতীয় পর্ব)”

অন্তর্বাসের অন্তঃকোন্দোল

নারীতে সুখ, নারীতে মুখ- তবুও সার্কাজম আমাদের অভ্যাস। এটি দূর হবে। বিশাল লেখা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য! পড়লে সুরসুরিও লাগতে পারে।

এক. আমার বান্ধবীরাও এই ব্রা পেন্টির নাম বলতে লজ্জা পায়। অথচ আজকাল কিন্তু পথে ঘাটে অনেক নারীর শরীরের ভিতর থেকেও ব্রার কাঠামো বা নকশা স্পষ্ট দেখা যায়। তাহলে বলতে লজ্জা কেন!

দুই. ঢাকার কাপড়ের দোকানগুলোতে এই ব্রা পেন্টি সামনেই থাকে। বিশেষত নিউমার্কেট, বাইতুল মোকাররম সহ সব মার্কেটগুলোতেই। এতোই যদি আপনাদের চেতনার শক্তিতে হিট লাগে তাহলে বলছি আপনাদের জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের একদম ওয়াল ঘেষেই এটি জনসম্মুখে বের করা থাকে। আর তা শুকানোর মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে না – বিক্রি করতে। Continue reading “অন্তর্বাসের অন্তঃকোন্দোল”

বাঙ্গালী জাতির জাত পাত

মনে করুন আপনি পোস্ট দিলেন ‘বাঙ্গালী জাতি হিসেবে নির্বোধ’, সেই পোস্টে ডেফিনিটলি দুই শ্রেনীর বলদ পাবেন, এক শ্রেনীর বলদ পাবেন যারা এসে বলবে,
– আপনি কি নিজেকে বাঙ্গালী মনে করেন না?
আপনি যে নিজেকেও প্রকারান্তরে নির্বোধ বলেছেন, সেটা বোঝার মত বুদ্ধি এসব অজ ছানাদের থাকেনা, আরেক শ্রেনীর লোক এসে প্রতিবাদ জানাবে, কিন্তু যখন বলা হবে জাতিগতভাবে (ব্যাক্তিগতভাবে না কিন্তু!) বাঙ্গালীদের বুদ্ধিমত্তার কোন একটি উদাহরন দিন, তখন শুরু করবে ঐতিহাসিক লেভেলে ত্যানা প্যাচানো আর ক্রমাগত ম্যা ম্যা ম্যা। Continue reading “বাঙ্গালী জাতির জাত পাত”

সি অফ ট্রি

জাপানে “সি অফ ট্রি” নামে একটি বন আছে। যেখানে কিছুদূর হাঁটলেই দেখতে পাবেন গাছ গুলোর ডালে মানুষের কঙ্কাল ঝুলছে। প্রতি বছর এখানে প্রচুর মানুষ সুইসাইড করতে আসে। কেউ কেউ অনেক দূর দেশ থেকে টাকা খরচ করে মরতে আসে। মানুষ নিরিবিলিতে মারা যেতে পছন্দ করে। মৃত্যুর জন্য এই জায়গাটি বেছে নেয় কেন জানেন? যেন কেউ কখনো খুঁজে না পায়। মানুষ বড় অভিমানী প্রাণী। মনোবিজ্ঞানীরা এখন বলছে প্রতিটি সুইসাইডের রক্তে তিনটি element মিশে থাকে –
১। অভিমান
২। হতাশা এবং
৩। আত্মবিশ্বাসের অভাব Continue reading “সি অফ ট্রি”

ভার্চুয়াল মর্গ

ফেইসবুকের ব্লকলিস্টটাকে আমি বলি – ভার্চুয়াল মর্গ। এই তালিকাভুক্ত আইডিগুলোর পেছনের মানুষগুলো জীবিত তবে এখানে মৃত হয়ে পড়ে থাকে। কেউ কোনো কথা বলে না, শব্দ করে না। নিরব নিথর হয়ে থাকে। নিজের ফেইসবুক আইডির ব্লকলিস্ট চেক করলাম। লিস্ট যে খুব বড় তা নয়, হাতে গোনা যায়। লিস্টে কোনো শত্রু নেই, নেই কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। যে বা যারা আছে সব বিভিন্ন সময়ের প্রিয় এবং প্রিয়তর মানুষ। সময়ের প্রয়োজনে এই মানুষগুলো প্রিয়তর লিস্টে ছিলো, সেই সময়ের প্রয়োজনে নামগুলো ব্লকলিস্টে। অদ্ভুত!

ব্লকলিস্টে পড়ে থাকা একেকটা নামের সাথে সাত জনমের স্মৃতি জড়ানো। Continue reading “ভার্চুয়াল মর্গ”

Page 5 of 512345