যাহা বলিব, মিথ্যা বলিব (নবম পর্ব)

ছাব্বিশ
খুব মনে আছে, সে চলে যাবার ২/৩ দিনের ভিতর কোন এক রাতে আমার শরীর কাপিয়ে উথাল পাথাল টাইপ জ্বর এলো। রাতের বেলা জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছি আর তার কথা ভাবছি। একটা সময় আমি তার উপস্থিতি অনুভব করতে লাগলাম। কে যেনো আমার কপাল ছুঁয়ে দিলো পরম মমতায়। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। আমি ঘুমের কোলে ঢলে পরলাম। তার পরের দুইটা দিন কাটলো আমার পরিবারের সকলের সেবা পেয়ে। জ্বর সেরে যাবার পর আমি সেদিন রাতের ঘটনাকে ব্যখ্যা করলাম এই ভাবে যে, সে থাকাকালীন আমার একবার জ্বর এসেছিলো। উথাল পাথাল টাইপ জ্বর। মাথায় পানি ঢালা থেকে শুরু করে, গা মুছে দেয়া সব সে নিজ হাতেই করেছিলো। Continue reading “যাহা বলিব, মিথ্যা বলিব (নবম পর্ব)”

সম্পর্কের সমীকরণ

সেদিন এক ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো। সিনিয়র হলেও যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বিভিন্ন বিষয়ে তার সাথে প্রায়ই আলাপ হয়। কথাবার্তার এক ফাঁকে ভাই যা বললেন, তার সারমর্ম এই দাঁড়ায় যে,
– “পৃথিবীর প্রতিটি সম্পর্ক ট্রানজেকশনাল। প্রতিটি সম্পর্কের মাঝে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বা প্রচ্ছন্নভাবে গিভ এন্ড টেইকের বিষয় থাকে। এটার অন্যতম উদাহরণ হল বিয়ে, বিশেষ করে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ। লাভ ম্যারেজেও কখনও কখনও এমনটা দেখা যায় যখন সম্পর্ক বিয়ের দিকে গড়ায়। ছেলে কেমন সেটা সেকেন্ডারি কনসার্ন, ছেলে কি করে সেটাই প্রাইমারি কনসার্ন। ছেলের ফ্যামিলি কেমন, বাড়ি আছে কিনা, আত্মীয়-স্বজনের স্ট্যাটাস, সবমিলিয়ে ওভারঅল একটা প্যাকেজ হিসেবে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ হয়ে থাকে। এর মানে বিয়েটা আসলে মানুষের আদলে একটা প্যাকেজের সাথে হচ্ছে। প্যাকেজের কোন একটা দিকও যদি প্রত্যাশার সাথে খাপ না খায়, তখন বেরিয়ে আসে ভালোবাসার আসল চেহারা।” Continue reading “সম্পর্কের সমীকরণ”

গুজব

কিছু ঘটনা আমরা ঐতিহাসিকভাবে প্রকৃত ঘটনা হিসেবে বলেই জানি। কিন্তু আদতে সেগুলো গুজব কিংবা আংশিক সত্য। রইল এমন চারটি ঘটনার কথা।

বাংলায় আমরা যেমন বলি, ‘কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ’। প্রবাদবাক্যটি ইংরেজিতে তেমনি বলা হয় ‘নিরো, ফিডলড হোয়াইল রোম বার্নড’। অর্থাৎ রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী রোম যখন আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যাচ্ছিল, খামখেয়ালি রাজা নিরো (৩৭-৬৮ সাল) তখন প্রাসাদে বসে বেহালা বাজাচ্ছিলেন। যদিও বেহালার বদলে বাংলায় বলা হয়, ‘রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল’। কিন্তু ইতিহাস বলে, নিরো তখন রোমেই ছিলেন না, তিনি তখন শহরের ত্রিশ মাইল দূরে অ্যান্টিয়ামে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে বেহালা নামের বাদ্যযন্ত্রের প্রচলনই হয় একাদশ শতাব্দীতে, নিরোর মৃত্যুর প্রায় ১ হাজার ১০০ বছর পর। তাই সে যুগে নিরোর বেহালা বাজানোর প্রশ্নই আসে না! Continue reading “গুজব”

অপরাজিতা

মেয়েটা ভাঁজ খুলে দাঁড়ালো। মঞ্চের চারিদিকে অন্ধকার। ঠিক মাঝখানে আলোর নিচে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা। চেহারা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আলো আর ছায়া দেখা যাচ্ছে কেবল। আলোটা চোখ ধাঁধানো আলো। ছায়াটা গভীর কালো। মেয়েটি চুলের খোঁপা খুলে ফেললো। দর্শক সারিতে পিনপতন নিরবতা। কোথাও কোথাও গভীর শ্বাস শোনা যাচ্ছে। কোথাও বা ঢোক গিলার শব্দ। মেয়েটা এবার বুকের উপরে ঝুলতে থাকা শাড়ির আঁচল ফেলে দিলো। দর্শক সাড়িতে দ্রুত হচ্ছে শ্বাস। মেয়েটার সুউচ্চ বুক তৈরি করেছে বুকের নিচেই গাঢ় অন্ধকার। মেয়েটা পিছন ফিরে দাঁড়ালো। পিঠে ছড়িয়ে আছে খোলা চুল। ব্লাউজের নিচে কোমরের ভাঁজ। ভারি নিতম্বে আটকে গেছে দর্শকদের চোখ। মেয়েটা আস্তে আস্তে আবার সামনে ফিরলো। এতোদূর থেকেও মেয়েটার মুখে আলো ছায়ার ভাঁজ দেখে মনে হচ্ছে মেয়েটা মুচকি হাসছে। মেয়েটার হাত আস্তে আস্তে ব্লাউজের দিকে চলে যাচ্ছে। একটা বোতাম খুললো। মেয়েটা হাসছে এখনো। দর্শকের সারিতে চাপা চাপা নিঃশ্বাসে শোনা যাচ্ছে,
– ওয়ান মোর! ওয়ান মোর!! ওয়ান মোর!!! Continue reading “অপরাজিতা”

চশমা

পুরোপুরি সেজেগুজে পাত্রপক্ষের সামনে যাওয়ার আগে ভাবী চোখ থেকে চশমা খুলে রেখে বললো,
– পাত্রপক্ষের সামনে চশমা পরে যাওয়ার দরকার নাই। এমনিই যাও।
আমি গেলাম। বসার ঘরে অনেকে বসে আছেন। বয়স্কা কেউ একজন বলে উঠলেন, মা! ছেলের পাশে বসো।
আমি বসে পড়লাম। সেই ভদ্রমহিলা আবার হায় হায় করে উঠে‌ বললেন,
– আরে আরে! এইটা তো ছেলের চাচা! ছেলের পাশে বসো মা।
আমি বলতে যাচ্ছিলাম, আমি দেখতে পাচ্ছি না ছেলে কোনটা।‌ কার পাশে বসবো একটু দেখিয়ে দেন। এমন সময় ভাইয়া আমার হাত ধরে নিয়ে গিয়ে ছেলের পাশে বসিয়ে দিলো। নানান আলাপ আলোচনার পর ছেলের বাবা বললেন,
– শোনো মা! আমরা আধুনিক মানুষ! Continue reading “চশমা”

ইহুদীকথা (দ্বিতীয় পর্ব)

আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূলের ১২ টি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়কে এক সাথে আইভি লীগ বলা হয়। ২০০৯ সালের ১টি জরিপে দেখা গেছে আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক’জন ভিসি-ই ইহুদী। হতে পারে ইহুদীরা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ, কিন্তু আমেরিকান রাজনীতিতে তাদের প্রভাব একচেটিয়া। আমেরিকার ১০০ জন সিনেটরের ১৩ জন ইহুদী। এর চেয়ে ভয়ংকর তথ্য হল ইহুদীদের সমর্থন ব্যতীত কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হতে পারেনা, কোন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেনা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব যতখানি- আমেরিকান রাজনীতিতে ইহুদীদের প্রভাব তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী ফাণ্ড বা তহবিল সংগ্রহ একটা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। Continue reading “ইহুদীকথা (দ্বিতীয় পর্ব)”

Page 5 of 512345