কথার পাখি উড়ছে যখন

“কেউ কথা রাখেনা
তেত্রিশ বছর কেটে গেলো –
কেউ কথা রাখেনি।”
কবির কথার সাথে আরেকটু মিলিয়ে বলতে হয় শুধু তেত্রিশ নয় পুরোটা জীবন কেটে গেলেও কেউ কথা রাখেনা। কথা দেয়া তৈরী-ই হয়েছে না রাখবার জন্য। আইন তৈরী হয়েছে ভাঙবার জন্য। নিয়ম তৈরী হয় অনিয়ম করার জন্য। এভাবেই জীবনের ভাঙা-গড়া খেলায় কারো কথা রাখা হয়ে ওঠেনা। কেউ কথা রাখেনা। যার সামান্য হাসিতেই সুখ খুঁজে পেয়েছিলাম সেও কথা দিয়েছিলো সারাটা জীবন এই হাসি হাসবে কিন্তু না সেও কথা রাখেনি। সবচেয়ে বেশি মজা করবো বলে যে বন্ধুর বিয়েতে সব প্ল্যানও প্রায় হয়ে গিয়েছিল, Continue reading “কথার পাখি উড়ছে যখন”

নষ্ট হব, হবে?

এমন কেউ একজন আমার জীবনে আসুক যে আমাকে জানবে। মনোযোগ দিয়ে আকর্ষণীয় কোনো গল্পের বইয়ের মতো আমার জীবন পড়ে দেখবে। আমার হাতে এমন একজোড়া হাতের স্পর্শ লাগুক যে হাত অন্ধকার রাস্তায় একা ছেড়ে যাবার জন্য নয়। বরং আমার ভয় কাটানোর উদ্দেশ্য সে হাত যেনো আরো শক্ত করে আমার দুটো হাত চেপে ধরে। এমন এক জোড়া চোখের নজরই আমার উপরে পরুক, যে চোখ আমার জন্য অফুরন্ত সম্মান আর ভালোবাসায় ভরপুর থাকবে। যার চোখে আমিই সেরা। আমার শ্যামলা গায়ের রঙ যেনো তার খুব প্রিয় হয়। সে যেনো আমার অতীত ভুলে গিয়ে বর্তমানকে ভালোবেসে ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো হাতে হাত রেখে দেখায়। Continue reading “নষ্ট হব, হবে?”

একজন মারজুক রাসেল (প্রথম পর্ব)

একজন মারজুক রাসেল, খুব প্রিয় একজন মানুষ (ইন্টারেস্টিং হইল জেরিন নামে একজনকে মারজুক ভাই সত্যিই ভালবাসত) যারা মারজুক রাসেলের কবি/গীতিকার হয়ে উঠার সময়ের ব্যাপারে জানতে ইচ্ছুক, তারা পড়তে পারেন। এই মানুষগুলো এত কষ্ট করেছেন বলেই আজ এতদুর। বিশাল লেখা, তবে পড়তে গিয়ে মনে হবে গল্প, কিন্তু সত্যি। পুরো লেখার মধ্যে একটা লাইন আমার মনে দাগ কেটেছে তা হলো “মারজুক গীতিকার হতে চেয়েছিলো”। এই লেখাটায় যতটা আনন্দ, তারচেয়েও তীব্র কষ্ট লুকিয়ে আছে। কারন এদেশের গীতিকারদের অবস্থা এখনো সেই আগের মতই বেহাল দশা। অনেকেই ঠিক গীতিকার হয়ে উঠতে পারেননি কঠিন বাস্তবতায়। যাই হোক আমার কথা শুনে লাভ নাই। বরং বিখ্যাত ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন মারজুক রাসেল সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন। সেটাই পড়ুন। Continue reading “একজন মারজুক রাসেল (প্রথম পর্ব)”

লাশ

মৃত্যুর সাথে সাথেই আমাদের নাম হয়ে যায় “লাশ”। আর এটাই হল জীবন। লোকে বলবে “লাশের” পা টা একটু সোজা করেন।”লাশকে” একটু বরফে রাখলে ভালো হয়। “লাশকে” কবরে নেয়ার সময় হয়েছে। তখন কেউ আর নাম ধরে ডাকবেনা। ডাকবেনা ম্যাডাম, আর স্যার বলে। বলবে শুধুই একটা “লাশ”। অনেকে আবার চেহেরাটাও দেখবেনা, রাতে ভয় পাবে বলে। কতইনা কষ্টের হবে সেই সময়টা, যখন আপনার আপন জনেরাই আপনাকে কাঁধে নিয়ে ঘর থেকে বের করে বাড়ীর পাশে অন্ধকার একটা জায়গার দিকে নিয়ে যাবে।

যেই জায়গার পাশ দিয়ে হয়ত আপনি হাজার বার বন্ধুদের নিয়ে হাঁসতে হাঁসতে পথ চলেছিলেন। Continue reading “লাশ”

বরাবর, সুহাসিনী

সুহাসিনী,
যদি ঘুম না আসে, যদি মাঝ রাত তোমায় কখনো আমার ভাবনায় ফেলে দেয় তখন কাগজ কলমে চিঠি লিখতে বসো। তোমার নির্ঘুম সময়ের এলোমেলো ভাবনা গুলোর গোছানো সাক্ষী করো আমায়। ভালোলাগা না হোক মন্দলাগা গুলোই নাহয় তুলে দিও চিঠির পাতায়। কপট রাগের সাথে তোমার যত অভিমান তাও ঢেলে দিও প্রতিটি শব্দের অক্ষরে অক্ষরে। জমিয়ে রেখো একটা একটা চিঠি ভাজ করে। তারপর যেদিন সুদিন আসবে। এক বিকেলে তুমি নীলমণি ফুল হাতে দাঁড়িয়ো আমার আপেক্ষায়, সাথে তোমার অসময়ে মন ভোলানো আমায় লিখা যত চিঠি। চিঠিগুলো নাহয় রঙিন কাগজের আড়াল দিয়ে মুড়িয়ে এনো। সে আড়াল ভাঙার অস্থির করা স্থবির সময় ঠেলে পার করে মধ্যরাতে ঘুমিয়ে পরা পৃথিবীটাকে জাগিয়ে রাখবো তোমার চিঠির কথায় কথায়। Continue reading “বরাবর, সুহাসিনী”

প্রিয় আব্বা

প্রিয় আব্বা,
মুখপুস্তিকায় তোমাকে লেখা এটা আমার বায়বীয় চিঠি। জানি পৌছাবে না তাও নিজেকে কিছুটা হাল্কা করা আরকি। আজ ২ মাস ২৬ দিন হলো তোমার সাথে আমার দেখা নাই। শেষ যেদিন দেখি তোমাকে, সেদিন রাত ছিলো। আমি পানি খেতে ডাইনিং রুমে গেলাম। দেখি, মেজো ভাই তোমাকে টয়লেট থেকে ধরে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো। আমি তাকিয়ে রইলাম তোমার দিকে। সেটাই তোমার সাথে আমার জীবিত অবস্থায় শেষ দেখা। কে জানতো এটাই আমাদের শেষ দেখা হবে? যদি জানতাম তবে আমি তোমার পায়ের কাছে পরে থাকতাম বাবা, সারা রাত – সারাদিন। বিশ্বাস করো। জুনের এক তারিখ খুব সকালে তোমার মৃত্যুর খবর যখন পেলাম আম্মু আর মেজ ভাইয়ের কাছ থেকে তখন এক দৌড়ে ছুটে গিয়েছিলাম তোমার রুমে। দেখি তুমি ঘুমাচ্ছিলে। নাকি অভিমান করে ছিলে আমার উপর? Continue reading “প্রিয় আব্বা”

Page 1 of 512345