বিয়ে

আমার যেদিন রাতে বিয়ে হয়, সেদিন মুষলধারে বৃষ্টি। পরের দিন ভোররাত থেকে বৃষ্টি একটু একটু ধরতে ধরতে দুপুরের দিকে একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। বাড়ির নিমন্ত্রিতরা যখন বেলা করে ভাত খেয়ে এঁটো মুখ আঁচাচ্ছে কলতলায় আর আমি নতুন তাঁতের শাড়ি সামলে আমার সদ্য স্বামীর হাতে জলের গ্লাস তুলে দিচ্ছি, দেখলাম উঠোনের একপাশে এক খুনখুনে বুড়ি বসে আছে। মাথায় সাদা ফ্যাঁসফ্যাঁসে চুল, গায়ের চামড়াগুলো শুকিয়ে কেমন গুটলি পাকিয়ে গেছে। বুড়ো মানুষ দেখলে আমার দয়া হয়, তবে একে দেখে কেমন যেন বুকটা ধক করে উঠল। স্বামীকে আড়ালে জিজ্ঞেস করলাম,
– “উঠোনে একজন বসে আছে, উনি কেউ হন তোমাদের?”
স্বামী বললেন,
– “কই? উঠোনে আবার কে?”
– “একজন খুব বয়স্ক মহিলা দেখলে না?”
– “কি জানি। লক্ষ্য করি নি। আমাদের বাড়িতে তো সেরকম বয়স্ক বলতে ছোটঠাকুমা। ঐ যিনি আশীর্বাদের সময় তোমার হাতে বাউটি পরালেন।” Continue reading “বিয়ে”