About Me

আমিই অবিনাশ

“শত শত ষ্পার্মের সাথে যুদ্ধ করে একটি মাত্র ষ্পার্ম মায়ের ওভারিতে পৌছুতে পেরেছিলো। সেটাই আমি, এক ও অদ্বিতীয়। নাম আমার অবিনাশ। যে সব দৃশ্য ভাবায়, বুকের ব্যাথা বাড়ায়, সেসব নোট করে করে বেড়ে উঠছি। একদিন সব সত্য ফাঁস করে দেবো বলে।” – অবিনাশ

জন্ম
খুব অভিমানী হয়ে জন্মেছি। সেই সঙ্গে অকল্পনীয় দুঃখ–কষ্টে দিন কাটিয়েছি। সাধারন মধ্যবিত্ত ঘরের আর পাঁচ জন ছেলে মেয়ের মতো স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু সে স্বপ্ন কোনদিনই বাস্তব হয়নি। এরই মধ্যে কলেজে পড়তে পড়তেই হঠাৎ দুর্ঘটনাক্রমে মিডিয়ায় জড়িয়ে পড়লাম। সকাল–দুপুর–বিকেল থেকে মাঝরাত্তির পর্যন্ত লেখা-লেখি আর এ অফিস – ও অফিস করেও বিশেষ কিছুই জুটলো না। পরের বছর গুলোর অবস্থা আরো শোচনীয়।

তিরষ্কার
একটি সফল অনুষ্ঠান নির্মানের আশায় গন্য-মান্য-দেশ বরেন্য নির্মাতা ও টিভি চ্যানেলের দ্বারে দ্বারে ঘুরে জুটেছে শুধু মিথ্যা আশ্বাস আর অপমান। একজন অতি প্রভাবশালী নির্মাতা অফিস থেকে তাড়িয়ে দেবার সময় বললেন, “বামন হয়ে চাঁদে হাত দেবার চেষ্টা করছো ক্যানো?” নিজের জন্ম দাতা পিতাও অস্বীকার করলো। সাফ জানিয়ে দিলো, দেশে থাকলে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে অন্যথায় ঘর ছাড়তে হবে। আমি দ্বিতীয়টাই বেছে নিলাম। মাত্র একুশ বছর বয়সে দেশান্তরি হলাম। সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে পড়লাম এক অচেনা মহাদেশে। শুরু হলো বেঁচে থাকার লড়াই, খালি হাতে, একা একা।

জীবনের সেই দুঃখ-কষ্ট, দারিদ্র, অপমান-তিরষ্কারের মরু প্রান্তরে বিচরন করতে করতেই হঠাৎ একদিন চৈত্র দিনের দেখা পেলাম। আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখে জীবন যুদ্ধে মেতে উঠলাম। তারপর কতো কি ঘটে গেলো! যা হবার নয়, যা অসম্ভব-অকল্পনীয় ছিল তাই সত্য হলো। বেশ মনে আছে, মাত্র দশ টাকার অভাবে রিক্সার পরিবর্তে কয়েক মাইল পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়েছে তা কেবল আমিই জানি।

আমার আমি
আর সেই আমিই একসময় ঘুরে বেরিয়েছি দেশ থেকে দেশে, এক ভৌগলিক অবস্থান থেকে আরেক অবস্থানে। আমার অতীত দিনের দুঃখ–কষ্ট, ত্যাগ-তিতিক্ষা, অপমান-তিরষ্কার, প্রেম-প্রীতি আর স্নেহ-ভালোবাসার রসদ সম্বল করেই কলম ধরেছি। নিজেকে আড়াল করে শুধু মাত্র লেখনির মাধ্যমে আমার অস্তিত্ব আপনাদের জানান দেয়া, আপনাদেরকে চিন্তার খোরাক দেয়াই যেন একমাত্র বেদ বাক্য হয়ে উঠলো আমার কাছে। সে কারনেই জাগতিক সব কিছু এড়িয়ে আজ আমি দূর্বার, দুর্দান্ত। এক মনে লিখে চলি। আপনাকে স্বাগতম আমার জার্নালে।