একজন মারজুক রাসেল (প্রথম পর্ব)

একজন মারজুক রাসেল, খুব প্রিয় একজন মানুষ (ইন্টারেস্টিং হইল জেরিন নামে একজনকে মারজুক ভাই সত্যিই ভালবাসত) যারা মারজুক রাসেলের কবি/গীতিকার হয়ে উঠার সময়ের ব্যাপারে জানতে ইচ্ছুক, তারা পড়তে পারেন। এই মানুষগুলো এত কষ্ট করেছেন বলেই আজ এতদুর। বিশাল লেখা, তবে পড়তে গিয়ে মনে হবে গল্প, কিন্তু সত্যি। পুরো লেখার মধ্যে একটা লাইন আমার মনে দাগ কেটেছে তা হলো “মারজুক গীতিকার হতে চেয়েছিলো”। এই লেখাটায় যতটা আনন্দ, তারচেয়েও তীব্র কষ্ট লুকিয়ে আছে। কারন এদেশের গীতিকারদের অবস্থা এখনো সেই আগের মতই বেহাল দশা। অনেকেই ঠিক গীতিকার হয়ে উঠতে পারেননি কঠিন বাস্তবতায়। যাই হোক আমার কথা শুনে লাভ নাই। বরং বিখ্যাত ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন মারজুক রাসেল সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন। সেটাই পড়ুন। Continue reading “একজন মারজুক রাসেল (প্রথম পর্ব)”

কমল দাশগুপ্ত এসেছিলেন

‘সৎ পাত্রে কন্যা দান করলে বাবা যেমন নিশ্চিন্তে থাকেন, তেমনি নিশ্চিন্ত থাকতেন কাজী নজরুল ইসলাম সুরকার কমল দাশগুপ্তকে গান সুর করতে দিয়ে।’ উপমহাদেশের অন্যতম গুণী সুরকার, সংগীতজ্ঞ কমল দাশগুপ্ত প্রসঙ্গে এমনটাই মন্তব্য করেছেন নজরুল বিশেষজ্ঞরা। এমনকি প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমও জীবনকালে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছিলেন। আজ উপমহাদেশের গুণী এই সুরকারের ৪৫তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই ৬২ বছর বয়সে নীরবে বিদায় নেন এই সংগীত ব্যক্তিত্ব। ছেলে শাফিন আহমেদসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন কমল দাশগুপ্তকে। ‘পৃথিবী আমারে চায়’-এর মতো জনপ্রিয় আধুনিক গানসহ প্রায় আট হাজার গানের সুর করেছেন কমল দাশগুপ্ত। যার মধ্যে ছিল আধুনিক, নজরুলসংগীত, ভজন, গীত, গজল, কাওয়ালি ইত্যাদি। ৩০ বছর তিনি গ্রামোফোন কোম্পানিতে প্রধান সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। Continue reading “কমল দাশগুপ্ত এসেছিলেন”

বিবিধ ফোর-প্লে (দ্বিতীয় পর্ব)

আরো একবার মন খারাপ হয়েছিল হেলাল হাফিজের ওপর। একবার প্রেস ক্লাবে বসে তাকে অনুরোধ করেছিলাম আমার একটা কবিতার বইয়ের ভূমিকা লিখে দিতে। যেহেতু আমিই তাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি লিখেছি, প্রেস ক্লাবের পুরোনো প্রকোষ্ঠ থেকে বের করে পরপ্রজন্মের কাছে পুনর্বার তুলে ধরেছি; তাই সেই অপরিণত বয়সে ধারণা ছিল হেলাল হাফিজ আমার বইয়ের ভূমিকা লিখে দেবেনই। আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি এক শব্দে ‘না’ বলেছিলেন। তার যুক্তি ছিল তিনি খুব অলস, পুরো বই পড়ে ভূমিকা লেখার মতো ধৈর্য তার নেই, আবার বই না পড়েই মিছেমিছি প্রশংসাও তিনি লিখতে পারবেন না এবং একজনকে লিখে দিলে অন্যরাও এসে জ্বালাতন করতে থাকবে তাদের বইয়ের ভূমিকা লিখে দিতে। শেষতক বলেছিলাম অন্তত দুই বাক্যের একটা শুভেচ্ছাবাণী লিখে দিতে, তিনি তাতেও রাজি হননি। Continue reading “বিবিধ ফোর-প্লে (দ্বিতীয় পর্ব)”

সত্যজিৎ রায় (তৃতীয় পর্ব)

১৯৮০-র শুরুর দিকে ভারতীয় লোকসভা সদস্য ও প্রাক্তন অভিনেত্রী নার্গিস দত্ত তাঁর বিরুদ্ধে এই বলে অভিযোগ আনেন যে তিনি “দারিদ্র্য রফতানি” করছেন, এবং সত্যজিতের কাছে “আধুনিক ভারত”-এর প্রতিনিধিত্ব করে এমন ছবি বানানোর দাবি করেন। অন্যদিকে ভারতজুড়ে সমাজতন্ত্রের প্রবক্তারা মনে করতেন সত্যজিৎ জাতির নিপীড়িত শ্রেণীর প্রতি “প্রত্যয়ী” ছিলেন না, বরং তিনি ‘‘পথের পাঁচালী’’ ও “অশনি সংকেত’’ ছবিতে বর্ণনাভঙ্গি ও নান্দনিকতার মাধ্যমে দারিদ্র্যকে মহৎ করে দেখিয়েছেন। তাঁরা আরও অভিযোগ করে যে সত্যজিৎ তাঁর ‘‘বুর্জোয়া’’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে তাঁর ছবির সংঘাতগুলোর কোন সমাধান দেখাতে পারেন নি। Continue reading “সত্যজিৎ রায় (তৃতীয় পর্ব)”

লুদমিলা পাভলিউচেঙ্কো: লেডি ডেথ (প্রথম পর্ব)

জার্মানদের পরাজয়ে লেখা হয়েছে অনেক বীরত্বগাথা। ১৯৪১ সালের ২২ জুন যখন জার্মানরা সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমণ করে, তখন হয়তো তারা ভাবেওনি কী অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান সেনারা পদে পদে সোভিয়েত স্নাইপারদের হাতে পর্যুদস্ত হয়েছে। ঠিক এমন ই একজন লুডমিলা পাভলিচেঙ্কো নামে এক নারী স্নাইপার ছাড়িয়ে গিয়েছেন সবাইকে। এই নারী একাই জার্মানের শিবিরে থাকা সৈনিকদের রক্ত হিম করে দিয়েছেন। তিনি একাই ৩০৯ জন জার্মান সেনার জীবন কেড়ে নিয়েছেন, যাদের মধ্যে আছে ৩৬ জন দক্ষ জার্মান স্নাইপারও। অসামান্য এই দক্ষতার কারণে জার্মান সৈনিকদের মাঝে লুডমিলা পরিচিত ছিলেন ‘লেডি ডেথ’ নামে।

লুডমিলা পাভলিচেঙ্কো শুধু সোভিয়েত ইউনিয়নের নয়, সারা বিশ্বের সবচেয়ে Continue reading “লুদমিলা পাভলিউচেঙ্কো: লেডি ডেথ (প্রথম পর্ব)”

এই যে আমায় আগুন দ্যাখো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি ক্যাম্পাসে রাস্তার পাশে মানুষের ছবি তুলে প্রিন্ট করে দিয়ে ২০ টাকা পেতাম। সেখান থেকে ৮ টাকা লাভ হতো। ভার্সিটির পুরোটা সময়ই কাজটি চালিয়ে যাই আমি। অবশ্য বন্ধুরা আমার এই কাজকে সহজ ভাবে নিতো না। কারণ বিশ্বাবিদ্যালয়ের একজন ছাত্র রাস্তায় বসে মানুষের ছবি তুলে উপার্জন করছে এবং সে ছেলেটি তাদের বন্ধু, বিষয়টি তাদের আত্মসম্মানে লাগাতো। এমন অনেক বন্ধু আছে যারা বলেছিলো টাকা দরকার হলে তারা দিবে কিন্তু এই কাজ না করার জন্য।

কারণ একজন “স্ট্রিট ফটোগ্রাফারের” বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয়া তাদের জন্য সুখকর ছিলো না। আস্তে আস্তে যখন পরিধি বড় হলো তখন ইভেন্ট ফটোগ্রাফি শুরু করলাম। Continue reading “এই যে আমায় আগুন দ্যাখো”

Page 1 of 912345...Last »