সত্যজিৎ রায় (তৃতীয় পর্ব)

১৯৮০-র শুরুর দিকে ভারতীয় লোকসভা সদস্য ও প্রাক্তন অভিনেত্রী নার্গিস দত্ত তাঁর বিরুদ্ধে এই বলে অভিযোগ আনেন যে তিনি “দারিদ্র্য রফতানি” করছেন, এবং সত্যজিতের কাছে “আধুনিক ভারত”-এর প্রতিনিধিত্ব করে এমন ছবি বানানোর দাবি করেন। অন্যদিকে ভারতজুড়ে সমাজতন্ত্রের প্রবক্তারা মনে করতেন সত্যজিৎ জাতির নিপীড়িত শ্রেণীর প্রতি “প্রত্যয়ী” ছিলেন না, বরং তিনি ‘‘পথের পাঁচালী’’ ও “অশনি সংকেত’’ ছবিতে বর্ণনাভঙ্গি ও নান্দনিকতার মাধ্যমে দারিদ্র্যকে মহৎ করে দেখিয়েছেন। তাঁরা আরও অভিযোগ করে যে সত্যজিৎ তাঁর ‘‘বুর্জোয়া’’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে তাঁর ছবির সংঘাতগুলোর কোন সমাধান দেখাতে পারেন নি। Continue reading “সত্যজিৎ রায় (তৃতীয় পর্ব)”

লুদমিলা পাভলিউচেঙ্কো: লেডি ডেথ (প্রথম পর্ব)

জার্মানদের পরাজয়ে লেখা হয়েছে অনেক বীরত্বগাথা। ১৯৪১ সালের ২২ জুন যখন জার্মানরা সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমণ করে, তখন হয়তো তারা ভাবেওনি কী অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান সেনারা পদে পদে সোভিয়েত স্নাইপারদের হাতে পর্যুদস্ত হয়েছে। ঠিক এমন ই একজন লুডমিলা পাভলিচেঙ্কো নামে এক নারী স্নাইপার ছাড়িয়ে গিয়েছেন সবাইকে। এই নারী একাই জার্মানের শিবিরে থাকা সৈনিকদের রক্ত হিম করে দিয়েছেন। তিনি একাই ৩০৯ জন জার্মান সেনার জীবন কেড়ে নিয়েছেন, যাদের মধ্যে আছে ৩৬ জন দক্ষ জার্মান স্নাইপারও। অসামান্য এই দক্ষতার কারণে জার্মান সৈনিকদের মাঝে লুডমিলা পরিচিত ছিলেন ‘লেডি ডেথ’ নামে।

লুডমিলা পাভলিচেঙ্কো শুধু সোভিয়েত ইউনিয়নের নয়, সারা বিশ্বের সবচেয়ে Continue reading “লুদমিলা পাভলিউচেঙ্কো: লেডি ডেথ (প্রথম পর্ব)”

এই যে আমায় আগুন দ্যাখো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি ক্যাম্পাসে রাস্তার পাশে মানুষের ছবি তুলে প্রিন্ট করে দিয়ে ২০ টাকা পেতাম। সেখান থেকে ৮ টাকা লাভ হতো। ভার্সিটির পুরোটা সময়ই কাজটি চালিয়ে যাই আমি। অবশ্য বন্ধুরা আমার এই কাজকে সহজ ভাবে নিতো না। কারণ বিশ্বাবিদ্যালয়ের একজন ছাত্র রাস্তায় বসে মানুষের ছবি তুলে উপার্জন করছে এবং সে ছেলেটি তাদের বন্ধু, বিষয়টি তাদের আত্মসম্মানে লাগাতো। এমন অনেক বন্ধু আছে যারা বলেছিলো টাকা দরকার হলে তারা দিবে কিন্তু এই কাজ না করার জন্য।

কারণ একজন “স্ট্রিট ফটোগ্রাফারের” বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয়া তাদের জন্য সুখকর ছিলো না। আস্তে আস্তে যখন পরিধি বড় হলো তখন ইভেন্ট ফটোগ্রাফি শুরু করলাম। Continue reading “এই যে আমায় আগুন দ্যাখো”

বিবিধ ফোর-প্লে (প্রথম পর্ব)

বেশ্যা-কে একটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলেই আমরা জানি। দেহ সম্ভোগের জন্য আমাদের জনপদে নারী পুরুষকে ভাড়া করে না বলে এবং কেবল পুরুষই নারীকে ভাড়া করে বলে বাংলা ব্যাকরণে বেশ্যার কোনো পুরুষবাচক শব্দ নেই। পশ্চিমবঙ্গে নাকি নারীরা আড়ালে-আবডালে দেহ ভোগের জন্য পুরুষ ভাড়া করা শুরু করেছেন এবং নিভৃতে এই ব্যবসার নাকি ব্যাপক সম্প্রসারণও ঘটছে। বাংলায় বেশ্যার পুরুষবাচক শব্দ না থাকলেও ইংরেজিতে আছে— জিগোলো। জিগোলো এমন একজন পুরুষসঙ্গী— ধনাঢ্য নারীকে যে সার্বক্ষণিক বা খণ্ডকালীন সঙ্গ দেবে, চাহিবামাত্র সঙ্গম করবে, নাচতে বললে নাচবে বা গাইতে বললে গাইবে, সদা সবিনয় আচরণ করবে; বিনিময়ে পাবে নগদ অর্থ, দামি জামা-কাপড়। জিগোলোকে কেপ্ট ম্যানও বলা হয়ে থাকে, কেপ্ট উইম্যান রক্ষিতা হলে কেপ্ট ম্যানের বাংলা দাঁড়ায় রক্ষিত। Continue reading “বিবিধ ফোর-প্লে (প্রথম পর্ব)”

সত্যজিৎ রায় (দ্বিতীয় পর্ব)

চলচ্চিত্র নির্মাণের বাইরে তিনি ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর, গ্রাফিক নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক। বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তবে এগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল ১৯৯২ সালে পাওয়া একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কারটি (অস্কার), যা তিনি সমগ্র কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন। দর্শক ও সমালোচকের প্রতিক্রিয়া সত্যজিতের চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান ও পুনরাবৃত্ত উপাদান ছিল এর মানবতাবাদ। তাঁর ছবিগুলো আপাতদৃষ্টিতে সরল, কিন্তু এই সরলতার গভীরে লুকিয়ে আছে জটিলতা। তাঁর চলচ্চিত্রের বর্ণনাভঙ্গি ও চরিত্রায়ন নিখুঁত বলে অনেকবার প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, এবং এর মধ্যে অন্যতম হল আকিরা কুরোসাওয়ার করা এই উক্তিটি: “সত্যজিতের চলচ্চিত্র না দেখা আর পৃথিবীতে বাস করে চন্দ্র-সূর্য না দেখা একই কথা। অন্যদিকে সত্যজিতের নিন্দুকেরা মনে করেন তাঁর ছবিগুলো অত্যন্ত ধীর গতির, যেন “রাজকীয় শামুকের” চলার মত। Continue reading “সত্যজিৎ রায় (দ্বিতীয় পর্ব)”

বিয়েবার্ষিকী

২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর ছিল হুমায়ূন এর ৫ম কেমোথেরামির দিন। আমরা তখন নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় ১৪৮-০১ নম্বর বাসার দো’তলায় থাকি। নিচতলাটা খালি। দো’তলার উপরে ছোট্ট একটা অ্যাটিক। অর্ধেক উচ্চতার ঐ অ্যাটিকে হুমায়ূন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। কিন্তু জায়গাটা তাঁর খুব পছন্দের। তার ট্যানটা বাবা নিষাদ হুমায়ূনকে সঙ্গে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তিনি সেখানে ছবি আঁকেন। সারা অ্যাটিক রঙে মাখামাখি হয়ে যায়- বাধা দেবার কেউ নেই। কোনো ছবির নীল আকাশটায় তুলো তুলো মেঘগুলো সাদা রঙ করতে করতে কোমল গলায় পুত্রকে জিজ্ঞেস করেন,
– “ছবিটা কেমন হয়েছে বাবা?”
ছবিতে গাছের নিচে দাঁড়ানো একাকি এর নারীকে দেখিয়ে ভাঙা ভাঙা গলায় পুত্র নিষাদ বলে,
– “এখানে নিষাদ একে দিলে আরও ভালো হবে বাবা। ছবির ভেতরে মা একা একা দাঁড়িয়ে আছে, ভয় পাবে।” Continue reading “বিয়েবার্ষিকী”

Page 1 of 912345...Last »