দাউদ ইব্রাহীম: ভারত উপমহাদেশের মাফিয়া ডন

তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে অজস্র সিনেমা। তিন দশক যাবত তিনি মুম্বাই পুলিশ তথা ভারতীয় আদালতের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি, অন্যদিকে পাকিস্তানের কাছে একজন সুরক্ষিত মেহমান। করাচির ক্লিফটন বিচের কাছে তার অবস্থানকে প্রায় দুর্ভেদ্য করে রেখেছে পাকিস্তানের আইএসআই। বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত তার মাফিয়া চক্রের জাল। হাজার হাজার কোটি রুপি তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধার দিয়েছিলেন বলে সন্দেহ পোষণ করেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। পাকিস্তানের নন্দিত ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াদাদের ছেলে জুনায়েদের সাথে নিজের মেয়ে মাহরুখকে বিয়ে দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন তিনি। তাকে ধরার জন্য ভারতীয় পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজেছে দিনের পর দিন; কিন্তুু নাগাল পায়নি। ফোর্বস ম্যাগাজিনে তার নাম উঠেছিলো পৃথিবীর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায়। প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করা কিংবা নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে জুড়ি নেই তার। তিনিই হলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের অঘোষিত সম্রাট দাউদ ইব্রাহীম হাসান কসকর। Continue reading “দাউদ ইব্রাহীম: ভারত উপমহাদেশের মাফিয়া ডন”

আবু সালেম: বলিউডের প্রকৃত ডন

কেউ যদি অমিতাভ বচ্চন কিংবা শাহরুখ খান অভিনীত ডন মুভিটি দেখার পর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে, বলিউডের ডন বলতে এই দু’জনকেই বোঝায়, তাহলে আপনি মারাত্মক ভুল করবেন। এই দু’জন রুপালী পর্দায় শুধু ডনের অভিনয়টুকুই করে গেছেন, বাস্তবে বলিউডের অভিনয়শিল্পী-প্রযোজক-পরিচালকদের কাছে মুর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন এক দুর্ধর্ষ মাফিয়া ডন। চলুন তার গল্প শোনা যাক। তার ফোন পেলে সঞ্জয় দত্ত সুবোধ বালকের মতো সব কথা শুনতেন; ভয়ে কেঁপে উঠতেন সালমান খান-শাহরুখ খানরা। সুভাষ ঘাইয়ের মতো পরিচালক জান বাঁচানোর জন্য চাঁদা দিতেন তাকে। সে চাঁদা আদায় করতো বলিউডের বহু শক্তিমান নামকরা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে। সে সরাসরি চাঁদা চেয়েছে নব্বই দশকের গ্ল্যামারাস নায়িকা মনীষা কৈরালার কাছ থেকে, না পেয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারীকে খুন করেছে। চাঁদা না পেয়ে তার লোকজন নির্মমভাবে হত্যা করেছে প্রতিভাবান সুরকার গুলশান কুমারকে। বলিউডের সব রথী-মহারথীদের কাছে সে ছিলো এক মূর্তিমান আতঙ্ক। Continue reading “আবু সালেম: বলিউডের প্রকৃত ডন”

বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের আদ্যোপান্ত

বাংলা গোয়েন্দাকাহিনীর সূত্রপাত উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে। এর আগে অবশ্য বটতলার কিছু কিছু বইয়ে অপরাধকাহিনী স্থান পেয়েছিল। কিন্তু সেখনে গোয়েন্দা বা রহস্যভেদের ব্যাপারটা ঠিক ছিল না । বাংলা গোয়েন্দাসাহিত্যের সূচনা সম্পর্কিত আলোচনায় যে বইটির কথা অনেক লেখকই উল্লেখ করেছেন – সেটি হল প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়ের ‘দারোগার দপ্তর’। ‘দারোগার দপ্তর’ প্রকাশিত হয়েছিল আজ থেকে একশো বছরেরও বেশী আগে, ১৮৯২ সালে। প্রিয়নাথবাবু নিজে ছিলেন পুলিশের ডিটেকটিভ বিভাগের কর্মচারী, সুতরাং ক্রাইম ও ডিটেকশনের ব্যাপারে ওঁর প্রত্যক্ষঅভিজ্ঞতা ছিল। তারই ভিত্তিতে পুলিশী বিবরণমূলক নানান কাহিনী উনি লিখেছিলেন। কিন্তু ওঁর লেখায় সাহিত্যগুণ ছিল অনুপস্থিত। Continue reading “বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের আদ্যোপান্ত”

পুরুষ হ্যাকার

হ্যাকিং বর্তমানে সারা পৃথিবী জুড়েই একটা পরিচিত শব্দ। বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় যে, হ্যাকাররা সুরক্ষিত সব কম্পিউটার নেটওয়ার্ক আর কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে কোন আর্থিক লাভের জন্য নয়, স্রেফ “দেখিয়ে দিলাম, আমরাও পারি” এই ধরনের উপলব্ধি থেকে। এরা সাধারণত খুব অহংকারী, দুর্বিনীত, এবং মেধাবী হয়। তো আসুন সে রকম কয়েকজন হ্যাকারের সাথে আজ আমরা পরিচিত হই।

জন ড্রেপার
হ্যাকার নামটা সর্বপ্রথম প্রদান করা হয়েছিল এরকম হাতেগোনা মানুষের মধ্যে জন ড্রেপার অন্যতম। তাকে বলা হয় হ্যাকিংএর আদি পিতা। ১৯৭০ দশকে আমেরিকাতে ক্যাপ’ন ফ্রেঞ্চ নামে একটা খাবার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। Continue reading “পুরুষ হ্যাকার”

নারী হ্যাকারগণ – ২

6. Adeanna Cooke: পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী হ্যাকার হলেন আদেনা কোকে। জীবনে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনাই তাকে হ্যাকিং জগতে পা রাখতে সাহায্য করে। হ্যাকার হওয়ার আগে তিনি ছিলেন একজন নিয়মিত মডেল। প্রায়ই প্লে বয় ম্যাগাজিনে পোজ দিতেন আর সেখান থেকেই তার হ্যাকিং ক্যরিয়ার শুরু। টাকার জন্য তার একজন সহকর্মী তার কিছু ব্যক্তিগত ফটো চুরি করে ইন্টারনেটে প্রকাশ করে। তিনি সেটা জানার পর তার ওই সহকর্মীকে কিছুই বললেন না বরং যে সাইটে তার ফটো প্রকাশ করেছে সে সাইটটিই হ্যাক করে নিলেন। এই ঘটনার পর থেকে হ্যাকার কমিউনিটিতে পরিচিতি পান ‘হ্যাকার পরী’ নামে। যদিও পরবর্তীতে ওই ছবিগুলা ইন্টারনেটে লিক হয়ে যায়। Continue reading “নারী হ্যাকারগণ – ২”

নারী হ্যাকারগণ – ১

1. Jude Milhon: জিউড ১৯৩৯ সালে আমেরিকার ইন্ডিয়ানাতে জন্ম গ্রহন করেন। ইন্টারনেটের প্রথম দিকের উন্নয়নে তিনি নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে তার ক্যারিয়ার হ্যাকিং এর দিকে নিয়ে যান এবং ১৯৬৭ সালে তৈরি করেন প্রখ্যাত ‘সাইবারপাঙ্কস’ নামের হ্যাকিং গ্রুপ। তার জীবদ্দশায় যারা মনে করত হ্যাকিং কিছুই না তাদেরকে তিনি প্রমান করেন যে হ্যাকিং একটা ক্রিমিনাল আর্ট। তিনি হ্যাকিং এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর উপর অনেক বই লেখেন। পরবর্তীতে তার আর পৃথিবীতে থাকতে ভাল লাগে নি তাই ২০০৩ সালে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। তবে পৃথিবী ছাড়ার আগে তিনি একটি বিখ্যাত উক্তি করে যান “হ্যাকিং হচ্ছে তোমার সরকার, আইপি সার্ভার, তোমার ব্যক্তিত্ব অথবা ফিজিক্‌স এর সীমা অতিক্রম করার একটি চতুর প্রতারণা।” Continue reading “নারী হ্যাকারগণ – ১”