পোষাক কথন

জাতীয় স্বার্থে একটি ‘জনগুরুত্বসম্পন্ন’ প্রশ্ন উত্থাপন করছি। আমাদের জাতীয় পোষাক কি? বা ঠিক কি পোষাককে আমাদের সংস্কৃতি বলা চলে? আস্তে, এখনই লাফ-ঝাপ শুরু করবেন না, লুংগী পাঞ্জাবী বলতে চান? লুংগী শব্দটাই নাকি বার্মিজ, বার্মায় তো চল ছিলই, মধ্যপ্রাচ্যে এবং আমার ভুল না হলে, আফ্রিকার কিছু দেশে এর চল নাকি এখনো আছে। খাটি বাংলাদেশী জিনিস, রাইট? পাঞ্জাবী জিনিসটার জন্মকথা জানলে মনে ব্যাথা পেতে পারেন, এটার জন্ম হয়েছিল আসলে আচকান টাইপ ভারী পোষাকী ড্রেসের আন্ডার গার্মেন্টস হিসেবে, পরে আরামদায়ক হবার সুবাদে জাতে উঠেছে আরকি।

তবে শাড়ী জিনিসটা সন্দেহজনক, এটা খুব সম্ভবতঃ আসলেই Continue reading “পোষাক কথন”

রঙ্গীন শৈশব (প্রথম পর্ব)

ছোটবেলায় লাল রঙের “রাজা” কনডমকে বেলুন বানিয়ে খেলার কথা হুট করেই মনে পড়ে গেল। মুরুব্বিরা বুঝাতো,
– “এই বেলুনে রাতে পুলিশ হিসু করে ফেলে যায়, দেখোসনা কেমন ভেজা ভেজা?”
একেতো হিসু তার উপর পুলিশের হিসু এই বেলুন নিয়ে আর খেলা যাবেনা। শুক্রবারে সিনেমা দেখতাম। দিন ঘুরে নতুন নিয়ম বৃহস্পতি, শনিও হত। পুরো বাড়িতে একটা সাদাকালো টিভি, ঘরভর্তি মানুষ। সাড়ে তিনটায় সিনেমা শুরু, তিনটা থেকেই জায়গা দখলের চেষ্টা। সেই সুবাদে সিনেমা শুরু হবার আগে আবহাওয়ার খবর দেখা, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক পাঠ শোনা। তারপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ “সিনেমা শুরু”।

মনে মনে প্রার্থনা, এডব্রেস (বিজ্ঞাপন) যেন না আসে। কিন্তু বিজ্ঞাপন ঠিকই আসে। Continue reading “রঙ্গীন শৈশব (প্রথম পর্ব)”

মাস্ক সমাচার

অনেক দিন পরে মধুর সাথে দেখা। মুখটা মলিন। মনে হচ্ছে খুব টেনশনে আছে। জিজ্ঞেস করলাম,
– “কি রে কি হইসে?”
মধুর পাল্টা প্রশ্ন,
– “দোস্ত এক্টা উপকার করবি?”
– বল…।
– “তোর ভাবীকে গত পাঁচ-সাত দিনে, প্রায় ১২/১৪ টা মাস্ক কিনে দিয়েছি। তার নাকি এক্টাও পছন্দ হয় নাই। ড্রেসের সাথে ম্যাচিং ছিলো বলেই কেবল সেগুলো ইউজ করেছে সে।”
কথাটা বলতে বলতেই তার হাতে থাকা আধ পুড়ে যাওয়া সাদা বেন্সনে একটা টান মেরে আকাশের দিকে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে অন্য মনস্ক হয়ে রইলো কয়েক সেকেন্ড। Continue reading “মাস্ক সমাচার”

প্রার্থনা ও পূজোয় তুমি

বিপরিত ধর্মের প্রেম গুলো টিকে যাক আর ভেঙ্গেই যাক, এই প্রেম গুলোতে মুখ্য যে বিষয়টা থাকে তা জগৎ অমান্য করলেও সত্যি এটাই যে – ভালোবাসা কখনো ধর্ম মেনে হতে পারে না। আমি একটা ছেলের কথা জানি। সে মসজিদের আজানের পরই নামাজের সময় জায়নামাজে বসে দু’হাত তুলে দেয় হিন্দু মেয়েটির জন্যই। ছেলেটি দূর্গা পূজার অষ্টমীর দিন মেয়েটিকে লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে দূর থেকে দেখেই মনে মনে বলেছিলো,
– এমনি বুঝি হয় প্রতিমা। এই প্রতিমার পায়ে সকল প্রেম অর্পন করতে পারলেই হবে আমার দেবীবন্দনা।

মেয়েটিও স্বপ্ন দেখেছে সেই মুসলিম ছেলেটিকে নিয়েই। Continue reading “প্রার্থনা ও পূজোয় তুমি”

বিয়ের একাল সেকাল (শেষ পর্ব)

আসবে সে আজ, গরম খবর
জোর খবরে জেনেছি এই,
এমন দিনেই ঘরে আমার
মেলে দেবার মাদুরও নেই!

যাই হোক, এরেঞ্জড ম্যারেজ এতো পুরোনো কনসেপ্ট হয়েও টিকে আছে এর উপকারিতা এবং গ্রহণ যোগ্যতার কারণেই। এরেঞ্জড ম্যারেজ এ শুধু দুইজন মানুষের সম্পর্ক হয় না হয় দুটো পরিবারের। নতুন ছেলে বা মেয়েটাকে দুই পরিবারের সবাই মন থেকে একসেপ্ট করে নেয়। তাদের প্রতি সবার মনোযোগ থাকে ভালোবাসা থাকে। নইলে অধিকাংশ প্রেমের বিয়েতে শশুর শাশুড়ি দেবর ননদ শ্যালক শ্যালিকারা তাদের পরিবারের অযাচিত নতুন সদস্যকে দেখার সাথে সাথে ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেল এ মুখ ঘুরায়ে নেয় কোনো কারণ ছাড়াই। Continue reading “বিয়ের একাল সেকাল (শেষ পর্ব)”

বিয়ের একাল সেকাল (চতুর্থ পর্ব)

এরেঞ্জড ম্যারেজই একমাত্র প্রাগৈতিহাসিক জিনিস যেটা এই আলট্রা মডার্ন যুগেও সম্পূর্ণ স্বকীয়তা সহ গর্বের সাথে টিকে আছে। স্পেশালি ভারত উপমহাদেশে এটাকেই একমাত্র ফুলপ্রুফ বিবাহের মাধ্যম হিসেবে ধরে নেয়া হয়। আপনি যদি আপনার কোনো ইউরোপিয়ান, আমেরিকান ফ্রেন্ড কে বলেন যে, আপনি এমন একজনকে বিয়ে করেছেন যার সাথে আপনার কোনো পরিচয় ছিল না, তার সাথে একদিন ডেট এ যান নাই অথবা তাকে জীবনেই স্পর্শ করেন নাই, সে চোখ কপালে তুলে বলবে,
– তুমি ফ্রিকিং কথাবার্তা বলতেসো মামু। চিনোনা জানোনা এরকম একজনকে বিয়ে কৈরালাইলা? কেম্নে কি? এইটা কি একটা খেলা? Continue reading “বিয়ের একাল সেকাল (চতুর্থ পর্ব)”

Page 1 of 3123