মাস্ক সমাচার

অনেক দিন পরে মধুর সাথে দেখা। মুখটা মলিন। মনে হচ্ছে খুব টেনশনে আছে। জিজ্ঞেস করলাম,
– “কি রে কি হইসে?”
মধুর পাল্টা প্রশ্ন,
– “দোস্ত এক্টা উপকার করবি?”
– বল…।
– “তোর ভাবীকে গত পাঁচ-সাত দিনে, প্রায় ১২/১৪ টা মাস্ক কিনে দিয়েছি। তার নাকি এক্টাও পছন্দ হয় নাই। ড্রেসের সাথে ম্যাচিং ছিলো বলেই কেবল সেগুলো ইউজ করেছে সে।”
কথাটা বলতে বলতেই তার হাতে থাকা আধ পুড়ে যাওয়া সাদা বেন্সনে একটা টান মেরে আকাশের দিকে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে অন্য মনস্ক হয়ে রইলো কয়েক সেকেন্ড। Continue reading “মাস্ক সমাচার”

প্রার্থনা ও পূজোয় তুমি

বিপরিত ধর্মের প্রেম গুলো টিকে যাক আর ভেঙ্গেই যাক, এই প্রেম গুলোতে মুখ্য যে বিষয়টা থাকে তা জগৎ অমান্য করলেও সত্যি এটাই যে – ভালোবাসা কখনো ধর্ম মেনে হতে পারে না। আমি একটা ছেলের কথা জানি। সে মসজিদের আজানের পরই নামাজের সময় জায়নামাজে বসে দু’হাত তুলে দেয় হিন্দু মেয়েটির জন্যই। ছেলেটি দূর্গা পূজার অষ্টমীর দিন মেয়েটিকে লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে দূর থেকে দেখেই মনে মনে বলেছিলো,
– এমনি বুঝি হয় প্রতিমা। এই প্রতিমার পায়ে সকল প্রেম অর্পন করতে পারলেই হবে আমার দেবীবন্দনা।

মেয়েটিও স্বপ্ন দেখেছে সেই মুসলিম ছেলেটিকে নিয়েই। Continue reading “প্রার্থনা ও পূজোয় তুমি”

বিয়ের একাল সেকাল (শেষ পর্ব)

আসবে সে আজ, গরম খবর
জোর খবরে জেনেছি এই,
এমন দিনেই ঘরে আমার
মেলে দেবার মাদুরও নেই!

যাই হোক, এরেঞ্জড ম্যারেজ এতো পুরোনো কনসেপ্ট হয়েও টিকে আছে এর উপকারিতা এবং গ্রহণ যোগ্যতার কারণেই। এরেঞ্জড ম্যারেজ এ শুধু দুইজন মানুষের সম্পর্ক হয় না হয় দুটো পরিবারের। নতুন ছেলে বা মেয়েটাকে দুই পরিবারের সবাই মন থেকে একসেপ্ট করে নেয়। তাদের প্রতি সবার মনোযোগ থাকে ভালোবাসা থাকে। নইলে অধিকাংশ প্রেমের বিয়েতে শশুর শাশুড়ি দেবর ননদ শ্যালক শ্যালিকারা তাদের পরিবারের অযাচিত নতুন সদস্যকে দেখার সাথে সাথে ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেল এ মুখ ঘুরায়ে নেয় কোনো কারণ ছাড়াই। Continue reading “বিয়ের একাল সেকাল (শেষ পর্ব)”

বিয়ের একাল সেকাল (চতুর্থ পর্ব)

এরেঞ্জড ম্যারেজই একমাত্র প্রাগৈতিহাসিক জিনিস যেটা এই আলট্রা মডার্ন যুগেও সম্পূর্ণ স্বকীয়তা সহ গর্বের সাথে টিকে আছে। স্পেশালি ভারত উপমহাদেশে এটাকেই একমাত্র ফুলপ্রুফ বিবাহের মাধ্যম হিসেবে ধরে নেয়া হয়। আপনি যদি আপনার কোনো ইউরোপিয়ান, আমেরিকান ফ্রেন্ড কে বলেন যে, আপনি এমন একজনকে বিয়ে করেছেন যার সাথে আপনার কোনো পরিচয় ছিল না, তার সাথে একদিন ডেট এ যান নাই অথবা তাকে জীবনেই স্পর্শ করেন নাই, সে চোখ কপালে তুলে বলবে,
– তুমি ফ্রিকিং কথাবার্তা বলতেসো মামু। চিনোনা জানোনা এরকম একজনকে বিয়ে কৈরালাইলা? কেম্নে কি? এইটা কি একটা খেলা? Continue reading “বিয়ের একাল সেকাল (চতুর্থ পর্ব)”

বিয়ের একাল সেকাল (তৃতীয় পর্ব)

“গেট ধরা” আগে ছিলো বিয়েতে মজার পার্ট। আর এখন সেটা সাক্ষাত আতঙ্ক। ২০-৫০ হাজার বা অর্ধ লাখ টাকা ডিমান্ড করা এবং আদায় করাতা এখন খুব কমন ব্যাপার অভিজাত্যের প্রতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। হবু শালা-শালিদের বিয়ে মৌসুমে বিরাট একটা ইনকাম কিন্তু এই তথাকথিত “গেট ধরা” এবং “জুতা চুরি” করা থেকেই আসে। অফটপিকে একটা কথা বলি, কেউ একজন অর্থ মন্ত্রী মাল’কে বলেন এই খাতেও ট্যাক্স বসাতে। সরকারী কোষাগারে ভালো জমা পড়বে। কাবিনের সময় চলে আরেক কামড়া-কামড়ি। কাবিনের টাকা দেয়ার ক্ষমতা পোলার আসলেই আছে কি নাই তাঁর দিকে কারো খবর নাই, ১৫-২০ লাখ প্লাস কাবিন না হলে এই সমাজে যেন মেয়ের বাপের ইজ্জত থাকে না! এরপরেও দেখবেন কাউকে খুশি করা যায় না। মানুষ বিয়েতে আসবে, কব্জি ডুবিয়ে কাচ্চি খাবে গলা সমান এরপর টুথপিক দিয়ে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে “মাংসো মঞ্জে নাই”, “পোলা মোডা”, “মাইয়া কালা”, “মেয়ের শাশুড়ির ননদের ভাসুরের তালতো ভাইয়ের খালতো বইনের চোখ ট্যারা” এইসব কথা বলতে বলতে আপনার খেয়ে আপনাকেই খোঁচায় যাবে। Continue reading “বিয়ের একাল সেকাল (তৃতীয় পর্ব)”

বিয়ের একাল সেকাল (দ্বিতীয় পর্ব)

বিয়ের ভেন্যু নিয়ে নানা রকম নাক উঁচা মার্কা কিচ্ছা কাহিনী। যেন-তেন জায়গায় বিয়ের অনুষ্ঠান করা যাবে না। তাইলে ফেইসবুকে চেক ইন দিলে নাকি তাদের আবার ফেইস ভ্যালু কমে যাবে। সো লাখ টাকা ভাড়ার কনভেনশন সেন্টার বুক দেওইয়াই লাগবে। আপনিই বলেন, যেই কনভেনশন সেন্টারের ভাড়া প্রায় লাখ টাকা তার খাবারের রেট নিশ্চই কাকেলা ডাব্বার মত না। ৪০০ টাকার প্লেট তারা ৮০০ টাকা নিবে। এই ডাবল রেটকে এবার হাজার খানেক গেস্ট দিয়ে গুন করেন। সাথে আবার জনপ্রতি “ইউনিক”, “গর্জিয়াস” কার্ডের খরচ দিয়েও গুন কইরেন। খরচের ডিজিট আটাতে নরমাল ক্যালকুলেটরেরও কস্ট হয়ে যাবে। Continue reading “বিয়ের একাল সেকাল (দ্বিতীয় পর্ব)”

Page 1 of 3123