বিয়ের একাল সেকাল (দ্বিতীয় পর্ব)

বিয়ের ভেন্যু নিয়ে নানা রকম নাক উঁচা মার্কা কিচ্ছা কাহিনী। যেন-তেন জায়গায় বিয়ের অনুষ্ঠান করা যাবে না। তাইলে ফেইসবুকে চেক ইন দিলে নাকি তাদের আবার ফেইস ভ্যালু কমে যাবে। সো লাখ টাকা ভাড়ার কনভেনশন সেন্টার বুক দেওইয়াই লাগবে। আপনিই বলেন, যেই কনভেনশন সেন্টারের ভাড়া প্রায় লাখ টাকা তার খাবারের রেট নিশ্চই কাকেলা ডাব্বার মত না। ৪০০ টাকার প্লেট তারা ৮০০ টাকা নিবে। এই ডাবল রেটকে এবার হাজার খানেক গেস্ট দিয়ে গুন করেন। সাথে আবার জনপ্রতি “ইউনিক”, “গর্জিয়াস” কার্ডের খরচ দিয়েও গুন কইরেন। খরচের ডিজিট আটাতে নরমাল ক্যালকুলেটরেরও কস্ট হয়ে যাবে। Continue reading “বিয়ের একাল সেকাল (দ্বিতীয় পর্ব)”

পহেলা বৈশাখ ও হিন্দু-মুসলিম ইতিবৃত্ত

বাংলা ক্যালেন্ডারের নাম “বঙাব্দ” আর বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। অনেকের জানামতে, পহেলা বৈশাখ কখনোই বাঙালী মুসলমানদের কালচার না। এটা নাকি বাঙালীদের উপর চাপানো হয়েছে। আসল ঘটনা হলো, মুঘল সম্রাট জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ আকবর (মুসলমান বাঙালী) ১৫৮৪ সালের ১০/১১ মার্চ “বঙাব্দ” নামের এই বাঙলা ক্যালেন্ডার চালু করেন। ১৫৮৪ তে শুরু হলেও হিসাব করা হয় ৫ নভেম্বর ১৫৫৬ থেকে (হিজরী ৯৬৩)। কারন ওইদিন আকবর পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসন লাভ করেন। এখন প্রশ্ন হলো, কেন মুঘল সম্রাট জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ আকবর বাঙলা ক্যালেন্ডার চালু করলেন? কারণ একটাই সেই সময় দেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ কৃষিনির্ভর ছিল। আর তখন বছরের হিসাব নিকাশ প্রচলিত ছিল চন্দ্রবছর (হিজরী ক্যালেন্ডার)। হিজরী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কৃষকরা ট্যাক্স দিতে পারত না। কারণ বাঙলার আবহাওয়ার সাথে হিজরী ক্যালেন্ডার খাপ খায় না। Continue reading “পহেলা বৈশাখ ও হিন্দু-মুসলিম ইতিবৃত্ত”

সাদা কালো

“এ বড় দারুণ বাজি
তারে কই বড় বাজিকর,
যে তার রুমাল নাড়ে
পরাণের গহীন ভিতর।”

কারো রুমাল কিংবা তীক্ষ্ণ দৃষ্টির তীর এ বুকে গাঁথেনি। পাতা ঝরার ঋতু বসন্ত এসেছে আবার চলেও গেছে। টের পাইনি কিছুই। গত বছরের ভালবাসা দিবসে Shaik Uddin Shan ভাইয়ার দুটি গান বেড়িয়েছে যা যে কোন প্রেমিক হৃদয়কে দোলা দিতে বাধ্য। গায়িকা ফাহ্মিদা নবী’র সাথে Shan ভাইয়ের প্রথম গানের লিঙ্ক এখানেই দিয়ে দিলাম। আশা করি আপনারা শুনবেন। Continue reading “সাদা কালো”

বাণী চিরন্তণীতে বাঙলা নববর্ষ

“বীণাতন্ত্রে হানো হানো খরতর ঝংকারঝঞ্ঝনা, তোলো উচ্চসুর। হৃদয় নির্দয়ঘাতে ঝর্ঝরিয়া ঝরিয়া পড়ুক প্রবল প্রচুর। ধাও গান, প্রাণভরা ঝড়ের মতন ঊর্ধ্ববেগে অনন্ত আকাশে। উড়ে যাক, দূরে যাক বিবর্ণ বিশীর্ণ জীর্ণ পাতা বিপুল নিশ্বাসে।”
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

“আনন্দে আতঙ্ক মিশি, ক্রন্দনে উল্লাসে গরজিয়া মত্ত হাহারবে ঝঞ্ঝার মঞ্জীর বাঁধি উন্মাদিনী কালবৈশাখীর নৃত্য হোক তবে। ছন্দে ছন্দে পদে পদে অঞ্চলের আবর্ত-আঘাতে উড়ে হোক ক্ষয় ধূলিসম তৃণসম পুরাতন বৎসরের যত নিষ্ফল সঞ্চয়।”
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Continue reading “বাণী চিরন্তণীতে বাঙলা নববর্ষ”

বঙ্গ ললনা

পৃথিবীর সব থেকে কোমল হৃদয়ের তরুণীরা বসবাস করে বাংলাদেশে। এরা বুকে পাহাড় সমান মায়া পুষে রাখে। অচেনা কাউকে কষ্ট পেতে দেখলে আহারে কি কষ্ট, কি কষ্ট বলে চোখের পানি, নাকের পানি এক করে ফেলে। কোমড়ে আঁচল গুজে। নাকের ডগায় ঘাম জমিয়ে প্রিয় জনের জন্য রান্না করে। নিজে না খেয়ে গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করে প্রিয় মানুষটির ঘরে ফেরার। অপেক্ষার প্রহর সব সময় দীর্ঘ হয়। কিন্তু এরা ক্লান্ত হয়না। জগতের মধুরতম অপেক্ষা হলো প্রিয় মানুষের জন্য অপেক্ষা। এদেশের মেয়েরা অপেক্ষা করতে জানে। এক আকাশ মমতা নিয়ে হাত ধরতে জানে। Continue reading “বঙ্গ ললনা”

নাম নামা

“এই ছেলেটা, ভেলভেলেটা
নাম কিরে তোর ঘন্টা,
দুত্তুরি ছাই, সকাল বেলা
বিগরে দিলি মনটা।”

আরবী নাম রাখতে গিয়ে বাঙালি যে মাঝে মাঝে কী হাস্যকর সব কাণ্ড করে ফেলে। তারই কিছু নমুনা নিচে তুলে ধরলাম আপনাদের কাছে-
আবু তাহের – শব্দের অর্থ হচ্ছে তাহেরের বাবা। সৌদিআরবে যারা আব্বুকে সম্মান করে এবং নাম ধরে ডাকতে চায় না, তারা আব্বুকে মাঝে মাঝে “আবু মাসুম” বলে ডাকে। বাংলাতে যেমন “মাসুমের বাপ” বলে, অনেকটা তেমন। এরকম “আবুল কাশেম” শব্দের অর্থও কাশেমের বাবা। বাচ্চার জন্মের সময়েই আবু বা আবুল দিয়ে নাম রাখাটা তাই বেশ হাস্যকর। Continue reading “নাম নামা”

Page 2 of 3123