ম্যা – সেজ

কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে বা মানবিক বিপর্যয়কালে আপনি কোনো সচেতনতামূলক ছবি, ভিডিও বা টেক্সট সবার সাথে শেয়ার করতে চাইলে শুধু আপনার নিজ টাইমলাইনে পোস্ট করুন। মন চাইলে একই পোস্ট একশোবার রিপোস্ট করুন। নিজের পোস্টে নিজে লাইক দিন, লাভ দিন, স্যাড-ওয়াও-হাহা দিন। ঐ পোস্ট ঘনিষ্ঠজনের সাথে শেয়ার করতে চাইলে শুধু তারই মেসেঞ্জারে পাঠান, ঘনিষ্ঠজনের সংখ্যা একের অধিক হলে তাদের নিয়ে একটা মেসেঞ্জার গ্রুপ বানিয়ে তারপর ঐ গ্রুপে পাঠান। কিন্তু কোনো ছবি, অডিও, ভিডিও, টেক্সট, জিআইএফ, কার্টুন বা অ্যানিমেশন মেহেরবানি করে গণহারে সবাইকে পাঠাবেন না। এটা শিষ্টাচারবহির্ভূত, এটা অসভ্যতা-ছাগলামো, এটা নুইসেন্স।

মনে রাখবেন— সচেতন করার জন্য আপনি যাদের মেসেঞ্জারে এসব পাঠাচ্ছেন; Continue reading “ম্যা – সেজ”

ফাইট ফর ফিট

সংক্রমন ঠেকাতে না পারলে এখন থেকেই শরীরটাকে ফিট করুন করোনা ফাইটের জন্যঃ

১) প্রথম কাজ হচ্ছে সুস্থ থাকা। আপনার যদি কোন রোগশোক থাকে তাহলে সবার আগে সেটা চিকিতসা করে ঠিক করে নিন। ডায়বেটিস, ব্লাড প্রেশার ইত্যাদি থাকলে কন্ট্রোল করুন। এলার্জি, এজমা বা সাইনাস জনিত সমস্যা থাকলে এখন থেকেই কেয়ারফুল থাকুন। ঠান্ডা, হাঁচি কাশির প্রবনতা থাকলে এখন থেকেই ঠান্ডা থেকে দূরে থাকুন। অর্থাৎ, আগে শরীরটাকে একদম রোগমুক্ত রাখুন। মনে রাখবেন, করোনা ভাইরাস বিপদজনক তাদের জন্যই, যাদের শরীর আগে থেকেই বিপদে আছে।

২) তারপর আপনার কাজ হচ্ছে প্রতিদিন পর্যাপ্ত এবং প্রশান্তির ঘুম। Continue reading “ফাইট ফর ফিট”

ফার্মেসী

অনেকে মনে করে থাকেন ডাক্তাররা রোগীদের ভালমত দেখেন না বা সময় নিয়ে কথা বলেন না বা একগাদা টেস্ট দেন দেখে রুগীরা ফার্মেসীওয়ালা, কোয়াক আর কবিরাজদের শরনাপন্ন হন। এরকম মনে করার পেছনে কিছুটা যৌক্তিকতা অবশ্যই আছে, তবে আসল কাহিনী ভিন্ন। আসল কাহিনী জানার আগে লক্ষ্য করুন এসব ফার্মেসীওয়ালা, কোয়াক আর কবিরাজদের কথা শুনে কারা? মূলতঃ নিম্নবিত্ত আর নিম্ন মধ্যবিত্তরা, রাইট? কখনো দেখেছেন কোন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত (আমি শিক্ষিত গবেটদের কথা বলছি না!) এদের কাছ থেকে চিকিৎসা করাতে যেয়ে ধরা খেয়েছে?

মূল কাহিনী হচ্ছে নিম্নবিত্ত আর নিম্ন মধ্যবিত্তের কাছে চিকিৎসকরা হচ্ছেন ‘বুর্জোয়া’ Continue reading “ফার্মেসী”

দুয়ার হতে অদূরে

আপনার সামনে বা পাশে বসা বা সাথে থাকা কিংবা বাস করা মানুষটির সাথে আপনার করা আচরণের সাথে তার আচরণের মিল পাচ্ছেন না ইদানীং- এমনটা প্রায়ই হয়, হচ্ছে, ভবিষ্যতে হয়ত আরো বেশী হবে। আপনি চাইছেন তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে, পারছেন না। আপনি বলছেন হাসির কথা, সে থাকছে ভ্রু-কপাল কুঁচকে। আপনার যখন তার মনোযোগ দরকার তার মনোযোগ অন্যদিকে। আপনি যখন কোকিলের সুরে ডাকছেন তখন জবাব পাচ্ছেন ঘেউঘেউ স্বরে। আপনি চাচ্ছেন স্পর্শ, পাচ্ছেন মুখ ঝামটা আবার আপনার হয়ত মন খারাপ, সে আছে বেশ ফুরফুরে। আপনার কপালে চিন্তার বলিরেখা, তার চোখে মুখে চাপা আনন্দ।

মানুষটি আসলে কেবল আপনার সঙ্গেই আছে, অধিকারে আর নেই। Continue reading “দুয়ার হতে অদূরে”

পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে


কয়েকমাস আগের কথা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মী হিসেবে রাতের বেলা এদেশের প্রত্যন্ত এক অঞ্চলের হাসপাতালে ইমার্জেন্সী ডিউটি দিচ্ছি। রাত দশটার দিকে মোটামুটি ৩০-৩২ বছরের এক মহিলা ৬-৭ বছরের এক মেয়েকে নিয়ে ইমার্জেন্সী রুমে ঢুকলো। হাসপাতালে আসার কারণ ক্লিয়ার হলো। ফিজিক্যাল অ্যাসল্টের কেইস। স্বামী পশুর মত পিটিয়েছে। মাকে পেটানোটা মেয়ে সহ্য করতে পারেনি, মাকে জড়িয়ে ধরেছিলো, কিছু আঘাত মেয়ের গায়েও লেগেছে, এক্সরেতে হাতের হাড় ভাঙ্গাটাও ধরা পড়লো। প্রতিটা আঘাত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রেকর্ড করে রাখছি, মাঝখানে একবার আনমনে বলে উঠলাম,
– ‘মানুষ মানুষকে এমনভাবে মারে! ‘
মহিলাটি সাথে সাথে আমার কথায় রেসপন্স করেছিলো, রেসপন্সটা আমার কাছে ছিলো অপ্রত্যাশিত। Continue reading “পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে”

অসুখীর পশ্চাৎ প্রদাহ

এই পৃথিবীতে মানুষের মত একদল প্রাণী আছে যাদেরকে আল্লাহতায়ালা যাবতীয় সুখ স্বাচ্ছন্দ্য মোটামুটি বিনা কারনেই দিয়ে রেখেছেন, অথচ তারা প্রচণ্ড অসুখী। তারা সুখী হবার আর্টটাই জানেন না, অথবা তারা যে কোন পরিস্থিতেই কিভাবে অসুখী হওয়া যায় সেই শিল্প রপ্ত করে ফেলেছেন। আল্লাহর রহমত তাঁদের পাশে ছড়িয়ে থাকে কিন্তু তারা জীবনেও সেগুলোকে রিকগনাইজই করতে পারে না, এপ্রিসিয়েশন বা শুক্রিয়া আদায় তো চট্টগ্রাম দূরস্থ ব্যাপার। আমি একজনকে চিনি যার প্রিয় কাজ অসুস্থ হয়ে থাকা এবং আসে পাশের মানুষকে অসুস্থ করে রাখা। তার কথা শুরু হয় মাথা ব্যাথা দিয়ে শেষ হয় পায়ের আঙ্গুল ব্যথা দিয়ে। তার সাথে কথা শেষ হবার পরে দেখি আমার নিজেরও সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যথা হয়ে গেছে। হাসবেন না, সিরিয়াস। Continue reading “অসুখীর পশ্চাৎ প্রদাহ”

Page 4 of 15« First...23456...10...Last »