আত্বহত্যা

পৃথিবীতে যত মানুষ রাগের মাথায় কিংবা ঠাণ্ডা মাথায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়ে। এরা প্রত্যেকেই একটা পর্যায় শ্বাসকষ্ট সহ্য করতে না পেরে বাঁচার চেষ্টা করে। সে যদি তার এই মৃত্যুযাত্রার কোন ভিডিও রেকর্ড করে এই কাজটি সম্পন্ন করত তাহলে পৃথিবীর মানুষ দেখতে পেত, মরে যেতে চাওয়া এই মানুষটা কিভাবে বাঁচতে চেয়েছিল। উঁচু ব্রিজ থেকে লাফ দেয়ার কাজটা সে ঝোঁকের বসে করে ফেলে। অক্সিজেনের অভাবে যখন তার দম বন্ধ হয়ে আসে তখনই তার হুশ ফিরে। একটা গাছের পাতা পেলেও সেটাকে দু হাতে আকড়ে ধরে ভেসে থাকতে চায়। হুট করে গায়ে কেরাসিন দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়াটা সহজ।

আগুনে যখন চোখ, মুখ, জিহ্বা পুড়ে পুড়ে ধোঁয়া বের হয় কিংবা মাথার ভেতরের মগজ গলতে থাকে তখন তাদের হুশ ফিরে আসে। Continue reading “আত্বহত্যা”

ভালোবাসার ভূত ও ভবিষ্যৎ

কোন মেয়ে রাত ৩ টার সময় ‘Alhamdulillah for everything’ এই স্ট্যাটাস দিলে ধরে নিবেন তার বফের সাথে দুর্দান্ত একটা মেসেঞ্জার কথোপকথন সম্পন্ন হয়েছে, যে কথোপকথন প্রথম পর্যায়ে হাল্কা মান অভিমান দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে “বাবু খাইসো” থেকে তীব্র স্পেশাল ইফেক্ট এবং নানা রকম প্রাপ্তবয়স্ক শব্দ সহ শেষ পর্যায়ে বফ তাকে ‘চলোনা বসুন্ধরায় যাই’ টাইপ গাড়ি বাড়ি বাচ্চার স্বপ্ন দেখিয়ে ঘুমাতে গেছে। সেই মেয়েই কিছুদিন পর যখন দেখবেন পোস্ট দেবে ফলো মি স্টাইলে পিছন থেকে বফ হাত ধরে আছে, ক্যাপশনে লেখা, ‘I don’t need anyone because you are with me.’

ডিসপ্লে পিকচারে মাথায় থান কাপড়ের বান্ডিল প্যাচানো উপর থেকে নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেলে তোলা সেলফি যখন থাকবে (যে অ্যাঙ্গেলে ছবি তুললে সে মেয়েকে সোনম কাপুরের মত লাগে) Continue reading “ভালোবাসার ভূত ও ভবিষ্যৎ”

যে গল্প গণমাধ্যমে আসে না

সিনেমাহল থেকে বের হয়ে দেখি আমার ছাত্রী একটা ছেলের সাথে হাত ধরাধরি করে বের হচ্ছে। আমাকে দেখে আমার ছাত্রী চমকে গেলো। আমি কিছু না বলে চুপচাপ ওদের সামনে থেকে চলে গেলাম। পরের দিন যখন আমি আমার ছাত্রীকে পড়াতে যাই তখন ছাত্রীর বাবা আমার শার্টের কলার ধরে বলেছিলো, আমার এত সাহস কি করে হলো তার মেয়ের শরীরে হাত দেওয়ার আর বাজে ইঙ্গিত দেওয়ার। আমি অবাক হয়ে ছাত্রীর বাবার কাছে জানতে চেয়েছিলাম,
– আমার নামে এই নোংরা কথাটা কে বললো?
ছাত্রীর বাবা আমার ডানগালে থাপ্পড় মেরে বলেছিলো, এই কথাটা না কি আমার ছাত্রী নিজেই বলেছে।
ছাত্রীর বাসা থেকে বের হয়ে চিন্তা করতে লাগলাম, শহরের মেয়েরা স্মার্ট হয় কিন্তু এতটা স্মার্ট হয় জানতাম না। আমার অপরাধ ছিলো আমি আমার ছাত্রীকে বয়ফ্রেন্ড সহ সামনাসামনি দেখে ফেলেছিলাম। Continue reading “যে গল্প গণমাধ্যমে আসে না”

ভাষার বিড়ম্বনা

গার্মেন্টস এর কাজ করার দরুন আমার প্রতিদিন দুটা ভাষার সাথে অভ্যস্ততা হয়ে গেছে। বরং এই বাক্য দুটাই দ্বারা আমাদের শিল্প চালিত হয়। বাক্য দুটি হলো –
১. মাল ঢুকছে?
২. মাল আউট হইছে?
জি মাল গুলারে নিয়াই আমদের মালিক সমিতির লোকজন মালামাল হয়। কিন্তু মালের চাপে আমাদের মাল শুখায় যায়। ভাই এইখানে আমাদের মাল মানে সাস্থ্য বুঝাইছি। ভূল বুঝেন ক্যান? আর গার্মেন্টস এর মাল মানে আপনাগো গায়ে দেওনের কাপড়। আমি যে পেশায় আছি তাতে মাটি মানুষের সংস্পর্শ ব্যাপক। তাই আমাদের ভাষায় মাটি থেকে তোলা গাজর বা মুলার মতো। শহুরের কেউ যদি এই দুই বস্তু ধোয়া ছাড়া দেখে তো ভড়কে যেতে পারে। Continue reading “ভাষার বিড়ম্বনা”

ইন্টারনেট এবং তার প্রভাব

মানব সভ্যতার উপর ইন্টারনেটের প্রভাব যে ক্রমশ আরো বিশাল হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আস্তে আস্তে আমরা ক্রমশ ইন্টারনেটের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছি। আগামী দশ থেকে কুড়ি বছরের ভিতরে আরো যে কি কি পরিবর্তন হতে পারে তা ভাবলেও অবাক হতে হয়। আজ থেকে মাত্র পঁচিশ/ত্রিশ বছর আগেই অধিকাংশ বাড়িতে কোন টেলিফোন বা মোবাইল ফোন ছিল না। কেবল টিভি ছিল মাত্র। কম্পিউটার ছিল না এবং ছিল না ইন্টারনেট। ভাবতে অবাক লাগে যে মাত্র পঁচিশ/ত্রিশ বছরের ভিতরেই এত পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব হল। হয়তো একেই বলে বিজ্ঞানের অবদান। ইতমধ্যে মানব সভ্যতার উপর ইন্টারনেটের একটা বিরাট প্রভাব পড়েছে। এই প্রভাব অন্য সমস্ত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে ছাপিয়ে গেছে বললে ভুল বলা হবে না। ইন্টারনেট প্রচলিত হবার ফলে সব থেকে সুবিধা হয়েছে এই যে একে ব্যবহার করে বহু দূরে বসবাসকারী মানুষও একসাথে কাজ করতে পারেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারেন, কথা বলা ও একই সাথে তাকে দেখতেও পারেন। এর ফলে বিভিন্ন গবেষনার উন্নতি আগের থেকে অনেক দ্রুতগতি সম্পন্ন হয়েছে। Continue reading “ইন্টারনেট এবং তার প্রভাব”

আংকেল প্লিজ, ডোন্ট রেপ মি

হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে কি লেখা আছে তা বোঝার মতো বয়স অথবা ক্ষমতা হয়তো এই বাচ্চাগুলোর নেই কিন্তু এ ধরনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাদের দাঁড়িয়ে থাকা সমাজের বর্তমান ভয়াবহতা আমাদের বেশ ভালোই করেই উপলব্ধি করিয়েছে। একটা সময় ছিলো আমরা নারী নির্যাতনের বিপক্ষে এভাবে রাস্তায় দাঁড়াতাম, মানব বন্ধন করতাম, মিছিল করতাম। কিন্তু আমাদের সমাজের অবস্থা এখন এতটাই খারাপ আমাদেরকে এই ছোট ছোট কোমলমতি বাচ্চাদের হাতেও এ ধরনের প্ল্যাকার্ডে দেখতে হচ্ছে। ছবি গুলো কারিগর ফাউন্ডেশন পরিচালিত সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের স্কুল “আমবাগ পাঠশালা” থেকে সংগ্রহ করা। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্কুলের সামনে ওরা মানববন্ধন করছে। মানুষ নামের কিছু পশুর কাছে এই শিশুরা পর্যন্ত নিরাপদ নয়। ভাবতে পারছেন এর ভয়াবহতা! Continue reading “আংকেল প্লিজ, ডোন্ট রেপ মি”

Page 5 of 15« First...34567...10...Last »