বাচ্চা-কাচ্চা (প্রথম পর্ব)

বাচ্চা পালার আমার কিছু নিজস্ব তরিকা আছে। একটু পুরানা, আমার দাদার থেকে শেখা। কিছুটা হার্ড, কিন্তু লাইন খারাপ না। কিছু টিপস মিলাই নিতে পারেন। কাজে লাগলেও লাগতে পারে।
১) দাদা আম্মারে বলতেন, ” ওবা ফুয়াইন্দরে এত ‘ধ’ নগইজ্জ, ধ গইল্যে ফুয়া ন ফাইবা” । তর্জমা হইল, বাচ্চাদের বেশী ত্যালাইওনা। বেশি ত্যালাইলে বাচ্চা হারাবা।” দাদার এই কথাটা আমি সারসত্য বলে মানি। তাই বাচ্চারে আদর করার সময় কোথায় থামতে হবে আমি সেইটা খুব মনে রাখি। বেহুদা আহ্লাদ বাচ্চাদের বেপরোয়া করে এইটা চিরন্তন সত্য। সুতরাং প্রয়োজনের অতিরিক্ত আদর গিলে ফেলে ডোজ মতো ‘টাইট’ আমি বাচ্চাদের দিই। এই জন্যই দিই যে, আমার আদরের ঝাল যেনো অন্য মানুষরে যেন টানতে না হয়। “পেটের বাচ্চা-কি করি” টাইপ থিওরি আমার জীবনে নিষিদ্ধ। সব বাচ্চাই মায়ের পেট থেকেই আসে। Continue reading “বাচ্চা-কাচ্চা (প্রথম পর্ব)”

কথা ঠিক না বেঠিক

পাসপোর্ট অফিসে গেলাম একটা জরুরি পাসপোর্ট করার জন্য। জিজ্ঞেস করলাম কত দিন লাগবে। বলল,
– সাধারনত ১২ দিনে পাওয়ার কথা। তবে এখন বই সংকট। ১ মাসও লাগতে পারে।
মন খারাপ করে বাইরে চলে এলাম। অমনি এক দরবেশ বাবা ডাক দিলো,
– হে বৎস, মন খারাপ করে কোথায় যাচ্ছিস? তোর কি লাগবে আমাকে বল।
বললাম,
– বাবা আমার জরুরি পাসপোর্ট দরকার। কিন্তু ওনারা বলছে ১ মাসও লাগতে পারে।
– হক মাওলা, দেখি তোর কাগজপত্রগুলো।
তারপর দরবেশ বাবা আমার কাগজগুলো নিয়ে ফচাৎ করে ছিড়ে ফেললেন। তারপর নতুন ফরম দিয়ে বললেন,
– এটা পুরন কর।
বললাম,
– বাবা আমিতো অরিজিন্যাল কুমিল্লার রসমালাইর মতো Continue reading “কথা ঠিক না বেঠিক”

চরম সত্য

১. নিজেকে কখনও একেবারে এভেলেবল করে দেবেন না। এভেলেবল করে দিলেই মানুষ আপনাকে সস্তা ভাববে। আপনাকে সস্তা করার অধিকার আপনার নেই।
২. মানুষের জন্যে ফ্রি কিছু করতে কয়েকবার ভেবে নেবেন। বেশিরভাগ মানুষ নিঃস্বার্থ বিষয়গুলোর মূল্যায়ন করতে পারে না। If you are good at something, never do it for free.
৩. মানুষকে ভালোবাসবেন। সবসময় মানুষের উপকার করার চেষ্টা করবেন। মানুষ ঠিকঠাক জাস্টিস করতে পারে না তবে আল্লাহ তো পারেন। তিনি কখনও না কখনও আপনাকে তা বহুগুণে ফিরিয়ে দেবেনই। Man gets and forgets. Allah gives and forgives.

৪. ভালোবাসার মানুষকে অনেক ভালোবাসবেন ঠিক আছে। Continue reading “চরম সত্য”

তালেবান হামলা থেকে বেঁচে ফেরা (দ্বিতীয় পর্ব)

কক্ষের আলো নিভিয়ে ভাসিলাইউস ভারী পর্দা ও আসবাবপত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। দেড় ঘণ্টা পার হয়েছে। তিনি তখনো জানতেন না, নিচতলায় লবি, রেস্তোরাঁ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার প্রায় প্রত্যেককেই হত্যা করা হয়েছে। হামলাকারীরা সেখানে হত্যাযজ্ঞ শেষে ওপরের দিকে ওঠা শুরু করেছে। তাঁর মাথার ওপর ছাদে হামলাকারীদের দৌড়াদৌড়ির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। সেখানে তারা ইন্টারকন্টিনেন্টালের নিজস্ব বাহিনীর হেলিকপ্টারের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছিল। এর কিছু পরেই ষষ্ঠ তলায় তাঁর কক্ষের সঙ্গের করিডরে গুলির শব্দ শুনতে পান। হঠাৎ হোটেলের সব বৈদ্যুতিক আলো নিভে যায়। Continue reading “তালেবান হামলা থেকে বেঁচে ফেরা (দ্বিতীয় পর্ব)”

যদি জিজ্ঞেস করি — কেমন আছো?

ছেলেটার সাত বছরের রিলেশন ছিলো মেয়েটার সাথে। মেয়েটা আমাদের ডিপার্টমেন্টেই পড়তো। নাম মোহনা। ভাইয়ের নাম ছিলো সামস। আমাদের হলেই থাকতেন। তিন ব্যাচ সিনিয়র। কোনদিনও হাসি ছাড়া দেখিনি উনাকে। এতো ভদ্র ছেলে পুরো ক্যাম্পাসে পাওয়া দুষ্কর ছিল। মেয়েটাকে ভালোও বাসতেন পাগলের মতো। প্রায়ই দেখা যেতো ক্যাম্পাসে হাতে হাত রেখে হেটে চলেছেন দুজনে। আমাদের চোখে চোখ পড়তেই অবশ্য হাত ছেড়ে দিয়ে লাজুক হাসি দিতেন শামস ভাই। মাঝে মাঝেই রাত তিনটা-চারটায় ঘুম থেকে উঠে দেখতাম, হলের করিডোরের এক কোনায় দাড়িয়ে ভাই তখনও গুজুর গুজুর করেই চলেছেন। একটা চাকরির অভাবে সেই সম্পর্কটাই বদলে গেল কী ভীষনভাবে। ততোদিনে ভাইয়ের মাস্টার্স পাস করা শেষ। চাকরি পাচ্ছেন না বলে হলে থেকে গিয়েছিলেন আরও দেড় বছরের মতো। মেয়েটা ছেড়ে চলে গিয়েছিলো মাস্টার্স শেষের এক বছরের মাথায়। Continue reading “যদি জিজ্ঞেস করি — কেমন আছো?”

মানি যোগ হানি (শেষ পর্ব)

অথবা আপনার প্রেমিকা লাগবে? অল্প টাকা ছাড়েন, আপনার “মেয়ে বন্ধু”রাই প্রেমিকার অভাব পূরন করে দিবে। আপনি কাকে রেখে কাকে ধরবেন, সেই ঝামেলায় পড়বেন। কিংবা প্রেমিকা আছে আপনার, এইতো? আপনার গিফট দেয়ার সামর্থ্য আছে? মোবাইলে রিচার্জ করতে পারেন? ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলতে পারেন? যদি উত্তর না হয়, তাহলে এই প্রেমিকার সাথে আপনার বিয়ে হবে না, মোটামুটি সিউর থাকতে পারেন। আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সবাই পিকনিকে যাবে। আপনার কাছে টাকা নাই তাই যাবেন না। সবাই যখন হৈ হুল্লোড় করে রওয়ানা দিবে, ফেসবুকে ছবি আপলোড করবে, আপনার কাছে ঠিক তখনই মনে হবে টাকাই দুনিয়ার সব। Continue reading “মানি যোগ হানি (শেষ পর্ব)”

Page 1 of 512345