যদি জিজ্ঞেস করি — কেমন আছো?

ছেলেটার সাত বছরের রিলেশন ছিলো মেয়েটার সাথে। মেয়েটা আমাদের ডিপার্টমেন্টেই পড়তো। নাম মোহনা। ভাইয়ের নাম ছিলো সামস। আমাদের হলেই থাকতেন। তিন ব্যাচ সিনিয়র। কোনদিনও হাসি ছাড়া দেখিনি উনাকে। এতো ভদ্র ছেলে পুরো ক্যাম্পাসে পাওয়া দুষ্কর ছিল। মেয়েটাকে ভালোও বাসতেন পাগলের মতো। প্রায়ই দেখা যেতো ক্যাম্পাসে হাতে হাত রেখে হেটে চলেছেন দুজনে। আমাদের চোখে চোখ পড়তেই অবশ্য হাত ছেড়ে দিয়ে লাজুক হাসি দিতেন শামস ভাই। মাঝে মাঝেই রাত তিনটা-চারটায় ঘুম থেকে উঠে দেখতাম, হলের করিডোরের এক কোনায় দাড়িয়ে ভাই তখনও গুজুর গুজুর করেই চলেছেন। একটা চাকরির অভাবে সেই সম্পর্কটাই বদলে গেল কী ভীষনভাবে। ততোদিনে ভাইয়ের মাস্টার্স পাস করা শেষ। চাকরি পাচ্ছেন না বলে হলে থেকে গিয়েছিলেন আরও দেড় বছরের মতো। মেয়েটা ছেড়ে চলে গিয়েছিলো মাস্টার্স শেষের এক বছরের মাথায়। Continue reading “যদি জিজ্ঞেস করি — কেমন আছো?”

মানি যোগ হানি (শেষ পর্ব)

অথবা আপনার প্রেমিকা লাগবে? অল্প টাকা ছাড়েন, আপনার “মেয়ে বন্ধু”রাই প্রেমিকার অভাব পূরন করে দিবে। আপনি কাকে রেখে কাকে ধরবেন, সেই ঝামেলায় পড়বেন। কিংবা প্রেমিকা আছে আপনার, এইতো? আপনার গিফট দেয়ার সামর্থ্য আছে? মোবাইলে রিচার্জ করতে পারেন? ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলতে পারেন? যদি উত্তর না হয়, তাহলে এই প্রেমিকার সাথে আপনার বিয়ে হবে না, মোটামুটি সিউর থাকতে পারেন। আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সবাই পিকনিকে যাবে। আপনার কাছে টাকা নাই তাই যাবেন না। সবাই যখন হৈ হুল্লোড় করে রওয়ানা দিবে, ফেসবুকে ছবি আপলোড করবে, আপনার কাছে ঠিক তখনই মনে হবে টাকাই দুনিয়ার সব। Continue reading “মানি যোগ হানি (শেষ পর্ব)”

স্বপ্নবন্দনা

মহাখালী থেকে দূরপাল্লার বাসে উঠে বসে আছি। হঠাৎ এক যুবক ‘৩০ দিনে ইংরেজি শিখুন’ টাইপ কোন বই নিয়ে যাত্রীদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। বাস ভর্তি যাত্রী মন লাগিয়ে যুবকের কথা শুনল। তারপর একজন যাত্রীকে দেখা গেল জানালা দিয়ে আমড়া ওয়ালাকে ডাকছে। ছেলেটি মানুষের এটেনশন পাবার জন্য ইংরেজিতে কথা বলছিল। ইংরেজি বই বিক্রি করার জন্য ইংরেজি জানা ছেলে চাই। এই হল প্রকাশকের মার্কেটিং পলিসি। আমি সাধারণত কোন মানুষের দিকে তাকালে মনে মনে মানুষটার একটা গল্প দাড় করিয়ে ফেলি। ছেলেটি রোজ কতটা বাসে দাড়িয়ে এভাবে নির্বিকার ইংরেজি বলে যায়। পরিচিত কোন মানুষকে দেখলে লজ্জা পায় কিনা। প্রতিটা বইতে সে কত টাকা কমিশন পায়। রোজ কতটা বই বিক্রি হলে তার তিন বেলা খাবারের টাকা উঠে আসে আমি জানি না। এই ছেলেটির সাথে আমার কথা হয়েছে। সে ন্যাশনাল ভার্সিটি থেকে অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছে। Continue reading “স্বপ্নবন্দনা”

সত্য বচন (পঞ্চম পর্ব)

পেছনের গল্পটা অবর্ণনীয় নয়। হাতের রেখা যদি ভাগ্য বলে দিতো তবে সেই কবেই আমি আমার হাতের রেখা পড়ে ফেলতাম। ভাগ্য বদলাতাম। চিরচেনা মানে শুধু মনে প্রাণে ক্ষত বিক্ষত হয়ে একজনকে চাওয়া কিংবা পাওয়া নয়। ভালবাসা মানে তুমি এবং তোমরা যা ভাবো সেটাও নয়। ভাগ্য হচ্ছে সময়। ভালবাসা মানে যে তোমার সময়ের মূল্য দিতে জানে। ভুল কখনো মধুর হয়না। ভুলের মাশুল একদিন হলেও দিতে হয়। কাউকে না কাউকে দিতেই হয়। প্রিয়জন মানে স্বার্থের প্রয়োজনে পাশে থাকা বা পাশে রাখা নয়। প্রিয়জন মানে অলস সময়ে, প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে, একজন বা কয়েকজন।

পরিব্রাজক মানে ভ্রমণকারী। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে, কারণে বা অকারণে, Continue reading “সত্য বচন (পঞ্চম পর্ব)”

রাগের আমি, রাগের তুমি

রাগ এমন একটা জিনিস যা শুধু ক্ষতিই করে। আমারও রাগ ছিল প্রচন্ড। হুট করে রেগে যাওয়া রোগে আক্রান্ত ছিলাম। গ্লাস, প্লেটও ভেংগেছি অনেকবার। টিউশনির টাকা দিয়ে একটা মোবাইল ফোন কিনেছিলাম। প্রেমিকার সাথে ঝগড়া করে এক আছাড়ে কয়েক টুকরা! আহারে! মনে হলে এখনো জ্বলে সামান্য। একবার আমার বস বললেন,
– মোশারফ সাহেব, আপিনি তিন মিনিট লেইট। শনি, রবি, সোম তিনদিনের বেতন কাটা।
আমি রেগে গেলাম। সাথে সাথেই চাকুরী ছেড়ে দিলাম।

ফলাফল – ৭/৮ বছর আগে যে সেলারি পেতাম এখন তার অর্ধেক পাই, আর পরিশ্রম দ্বিগুন। Continue reading “রাগের আমি, রাগের তুমি”

সখ্য না সখ্যতা

আচ্ছা বলুন দেখি, কথাটা সখ্য না সখ্যতা? আমি বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত, মর্মাহত। ইন ফ্যাক্ট মরেই গেছি ধরে নিন। আমি কুম্ভীপাক জানি, রথারূঢ় জানি, দন্তরুচিকৌমুদী, অক্ষৌহিণী, স্পন্দচ্ছন্দা, গজভুক্তকপিত্থবৎ এমনকি ডিটি-রিও-রে-শন পর্যন্ত জানি, আর এই বহুব্যবহারে জীর্ণ, যুক্তাক্ষরবর্জিত একটা পুঁচকে বাংলা শব্দ কিনা আমাকে শুইয়ে দিল? মাথা হাফ ন্যাড়া করে ঘোল ঢেলে, উল্টো গাধার পিঠে চড়িয়ে দেশ থেকে রীতিমত গলাধাক্কা দিল? তাও এই তিনকাল গিয়ে এককালে ঠেকার পর? আমার পক্ষে অপমানটা হজম করা আরও বেশি শক্ত কারণ আমি নিজে চব্বিশ ঘণ্টা পরের ভুল ধরে বেড়াই। শখে নয়। যেচে কেউই অন্যের কাছে অপ্রিয় হতে চায় না। কমরেডরা জানেন ভুল ধরি, কারণ না ধরে পারি না। বিশেষ করে বাংলার ভুল। চোখের সামনে কেউ হ্রস্বর জায়গায় দীর্ঘ বসিয়ে দিছে, ণত্বষত্বের পিণ্ডি চটকে দিচ্ছে দেখলে ব্লাডপ্রেশার বেড়ে যায়, মাথা বনবন করে ঘোরে, বুক ধড়ফড় করে। Continue reading “সখ্য না সখ্যতা”

Page 1 of 512345