দাম্পত্যে সুখ

আমাদের সমাজের একটি সাধারন প্রবনতা হচ্ছে ভাত দেখে মেয়ে বিয়ে দেয়া। সোজা কথায় পাত্রের আর্থিক অবস্থা দেখে মেয়ে বিয়ে দেয়া। এক হিসাবে এটা ঠিক আছে, আরেক হিসাবে সম্পূর্ন ভুল। যে মেয়ে এসিতে ঘুমায়, জীবন যেহেতু বাংলা সিনেমা নয়, সেই মেয়ের বাবা অবশ্যই চাইবে না যে তার মেয়ে বস্তির গরমে ছটফট করুক। আবার এটাও চাইবে না যে সেই ছেলে মাতাল হয়ে এসে রাতে স্ত্রীকে পেটাক। প্যাচটা আসলে এইখানেই। আমাদের দাদাদের আমলে বিয়ে হত বিশাল মাপজোক করে। সবার না, আমি কেবল খান্দানি পরিবারদের কথা বলছি। আপনারা প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খা সাহেবের আত্মজীবনি পড়লে দেখবেন তার পিতার সময় কত কড়াকড়ি ভাবে মান নির্নয় করে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থির করা হত। অবশ্য এখন এসব শুনিয়ে আর কি হবে, এ যুগে মান নির্নয় বলতে তো বোঝায় ছেলের পকেট কত ভারী আর মেয়ে দেখতে কেমন, এন্ড অফ স্টোরি!

সেই যুগে বিয়ে করতে গেলে বংশীয়রা অপর পক্ষের চৌদ্দ গোষ্ঠির খবর নিত। Continue reading “দাম্পত্যে সুখ”

গণতন্ত্রে স্বৈরশাসন

ছয় সদস্যের আমাদের পরিবার নামক রাষ্ট্রে একসময় আব্বা ছিলেন ‘স্বৈরশাসক’! তিনি যা বলতেন তাই হতো। মাসহ আমরা চার ভাইবোন নিরীহ নাগরিক। যদিও মাঝেমধ্যেই মা-ই কিছুটা প্রতিবাদ করতেন। যদিও আব্বা পাত্তাই দিতেন না সেসব প্রতিবাদের। যতক্ষণ আব্বা বাড়িতে থাকতেন, আমরা ফিসফিস করে কথা বলতাম। পড়ার বাইরে কিছু করা মানেই ছিল ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ অপরাধ! অনেকটা ১৪৪ ধারা চলতো সবসময়। পড়ার টেবিল থেকে উঠার জো ছিল না। পরিবারে যেকোন সিদ্ধান্ত আব্বা-ই নিতেন। কারো মতামতের তোয়াক্কা করতেন না। কেউ তাঁর কথায় দ্বিমত পোষণ করলে বাঘের মতো হুংকার দিতেন। পুরো বাড়ি কেঁপে উঠতো। বাঘের মতো আমার সেই আব্বা, এখন যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে সবার মতামত নেন। Continue reading “গণতন্ত্রে স্বৈরশাসন”

শশুরবাড়ী ও আমাদের ভালো থাকা

এই লেখাটা কারো এখনই দরকার হবে আর কারো ভবিষৎএ দরকার হবে। কারন ছোট বেলা থেকেই মেয়েদেরকে শেখানো হয় যে শ্বশুরবাড়ি হচ্ছে মেয়েদের আসল ঘর, সেখানেই জীবন কাটাতে হবে, তাঁদের সবকিছু মাথা পেতে নিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। বাস্তবতা কিন্তু একেবারেই ভিন্ন! সত্য এটাই যে জীবনের অন্য সব ক্ষেত্রে যেমন ভালোমন্দ মেশানো মানুষ আছে, শ্বশুরবাড়িতেও ঠিক তাই। সেখানে এমন মানুষ পাওয়া যায় যারা সত্যিকার অর্থেই আপন মনে করে। আবার এমন মানুষও মেলে যারা অকারণেই করে শত্রুতা। কিন্তু কীভাবে চিনবেন কে আপন আর কে পর? শ্বশুরবাড়িতে কে আপন আর কে পর, এটা চেনার সমস্যা হতে পারে নারী-পুরুষ যে কারো ক্ষেত্রেই। জেনে নিন ৫টি আচরণের কথা। এই ৫টি আচরণ কারো মাঝে দেখতে পেলে নিশ্চিত হতে পারেন যে তিনি আপনার মঙ্গল কামনা করেন না। সেক্ষেত্রে দূরত্ব বজায় রাখাটাই একমাত্র সমাধান।

♠ তিনি স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া তৈরির চেষ্টা করেন – Continue reading “শশুরবাড়ী ও আমাদের ভালো থাকা”

দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ যে নারী

একগুঁয়ে ও জেদী নারীরাই দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ, এমনকি আত্মীয়দের সাথে সুসস্পর্ক গড়তেও তারা অসফল। যে নারী সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে আবেগ-ভালোবাসা আর নমনীয়তার বিচক্ষণতা হারিয়েছে আর নিজের মতামত ও জিদকে প্রাধান্য দিয়েছে, সেই দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে বেশী ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু কেন?

(১) কেননা তখন সে স্বামীর সাথে টানাটানি ও ঠেলাঠেলিতে প্রবেশ করবে। বিজয়ের জন্য নিজের আমিত্বকে জাহির করতে চাইবে। আর তখনই সে স্বামীর জিদের সামনে পরাজিত হবে। এমনকি তার বিরুদ্ধে নিকটস্থ ব্যক্তিরাও জেদী হয়ে উঠবে। কেননা পুরুষরা জেদী স্ত্রী বা একগুঁয়ে বোনের সামনে আরো বেশী কঠোর ও জেদপ্রবণ হয়ে উঠে। কিন্তু নমনীয় নারীর সামনে তারা হয় কোমল। Continue reading “দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ যে নারী”

সংসার ও প্রবাস কাহন (শেষ পর্ব)

আমার স্বপ্নের বাড়ি, সোনার সংসার সব ভেংগে ছুড়ে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। তাকে অনেকবার কল করি। প্রায় একশবার কল করার পর সে রিসিভ করে। তাকে অনেক বুঝিয়েছি, অনেক ক্ষমা চেয়েছি কিন্তু হায় কপালের লিখন করা যায়না খন্ডন। এভাবে দিনের পর দিন তাকে কল করে যাচ্ছি। সে একটি বারের জন্যও আমাকে বুঝার চেষ্টা করেনি। ঐদিকে খবর পেলাম তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আমার ভাইয়েরা তার নামে মামলা করে। আত্মিয় স্বজন, ভাই বন্ধু সবাই বার বার পরামর্শ দিচ্ছে মামলা করার জন্য। নিজের বিবেককে গিলা টিপে সবার পরামর্শ গ্রহণ করলাম। মামলায় আমারও পরিপূর্ণ সায় ছিল। একপর্যায়ে তখনকার আমার দেন মোহর বাবদ তিনলক্ষ টাকা সে দিয়ে দিল। এই টাকা তার কাছে হাতের ময়লার মত ছিল। কিন্তু ফাইনাল শুনানির আগে অনেক ভাবে তাকে বুঝাতে চেষ্টা করেছি, অন্তত একটা রুম নিয়ে হলেও যেন সে আমাকে রাখে। কিন্তু তা আর হয়নি, পরিণাম আমি ডিভোর্সি। Continue reading “সংসার ও প্রবাস কাহন (শেষ পর্ব)”

বউ পাগলা

আমার বিয়ের ১৯ দিন আগে আমি প্রথম চাকরি পাই। মাত্র ১৯ দিন আগে। প্রেম করেছিলাম আপনাদের ভাবীর সাথে। এক সাথেই পড়াশোনা করতাম। আমার হয়ত বিয়ের জন্য সঠিক সময় হয় নাই তখন কিন্তু তনু মানে আপনাদের ভাবীর তখন বিয়ের জন্য পারফেক্ট সময় ছিলো। তাই চাকরিটা পেয়েই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলাম। আব্বা আম্মাও বেশ সাপোর্ট দিলো। তবে আমার বেতন একটা সংসার টানার জন্য যথেষ্ট ছিলো না। একদমই না। তাই আমি একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম বিয়ের ব্যাপারে। যাই হোক নতুন অফিসে কেউ সিগারেট খেতেও আমাকে ডাক দিতো না। নতুন হিসেবে অফিসে আমাকে তেমন কেউ পাত্তাই দিত না। আমিই সেধে সেধে গিয়ে কথা বলতাম। অফিস শেষে মোটামুটি সবাইকে দেখতাম নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট খায়। গল্প করে। কিন্তু একজন সিনিয়ির স্যারকে (রফিক) কখনো দাড়াতে দেখতাম না। অফিস ছুটির পর দেখতাম সে ডানে বামে না দেখে সোজা বাসার দিকে হাঁটা দিতো। Continue reading “বউ পাগলা”

Page 1 of 3123