নিশীথিনী

আউলাচুলের তরুণী স্মিত হাসে। টোল পড়ে গালে। কিন্তু দূর থেকে বোঝা যায় না। নিচের ঠোটের ডান দিকে ব্রাউন কালারের ছোট একটা তিল। যখন ক্লান্ত হয়, ঠোট শুকিয়ে যায়, তখন জিভ দিয়ে মাঝে মধ্যেই তা স্পর্ষ করে। লোভ হয়। ভীষণ লোভ হয় তখন। কখনো অট্টহাসিতে দেখিনি তরুণীকে। কিভাবে তার মাঝারি গড়নের শরীরটা নেচে উঠে হাসিতে জানা হয়নি। কপালে ভাঁজ পড়ে কী না, হাসির তোড়ে চোখ দুটো ছোট হয়ে যায় কী না! ঠোটযুগলের সঙ্গে চোখ দুটোও হাসে কী না। খুব সখ দেখার। খুউব।

গুনগুন করে গান গাইতে শুনেছি। কি গান সেটা শোনা হয়নি। রবীন্দ্র সংগীত কিংবা নজরুল সংগীত ভাল মানাবে বোধ হয়। Continue reading “নিশীথিনী”

যদি রূপকথার গল্প হই

সকল প্রেমেই কিছু মূল্যবান স্মৃতি থাকে। থাকে কিছু পূণ্যবান রূপকথা। তেমন এক রূপকথার গল্পই যদি ধরো, ধরো কলেজের ফার্স্ট ইয়ার। ধরো দুজন অমনোযোগী সদ্য তরুণ-তরুণী, যাদের ভালো লাগে বৃষ্টি, ভালো লাগে শরতের আকাশ, পাখি ও পড়ন্ত দুপুর। ধরো তারা একদিন দেখল, দৌত্যের ঘুম ভাঙানো একদল দুরন্ত শিশুর হাতে হাতে ঘুরছে পদ্ম। সে পদ্মের উৎস কোথায় জানতে চাইতে তারা উদাস দৃষ্টি হেনে বলল,
– ‘ঐ হেথা..।’
তারপর সেই তরুণ তরুণীর ‘ঐ হেথা’র সন্ধানে বেরিয়ে এক গ্রাম আবিষ্কার। আর তার গভীরে এক স্নিগ্ধ পদ্মবিল। এই প্রথম দেখা। এর আগে তারা পদ্ম দেখেছে শুধু ফুলের দোকানে আর দেবীদের পায়ে পায়ে। Continue reading “যদি রূপকথার গল্প হই”

আবেগি মন

– হ্যালো!
~ হেলছি!
– কি অবস্থা তোমার?
~ কঠিন, তরল, বায়বীয়! আমার এই তিন অবস্থা! শুধু প্লাজমা অবস্থাটা নেই।
– ও আচ্ছা, তুমি কোথায় পড়ো?
~ টেবিলে!
– কোন ক্লাসে?
~ তিন তলার ডান পাশেরটায়!
– আচ্ছা বুঝলাম, তুমি থাকো কোথায়?
~ বাসায়।
– হাউ সুইট।
~ খেয়ে দেখছো?
– কি বলো এই সব? Continue reading “আবেগি মন”

চিনি বউ আর পিঁপড়া জামাই

– জামাই দুইটা সিগারেট দাও।
হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে আছে পিঁপড়া। কি বলে চিনি বউ!
– সিগারেট কেনো? কি করবা?
– একটা আমি ধরাব। আরেকটা দিয়ে আলু ভর্তা বানাব ঘরে মরিচ নাই।
– তুমি সিগারেট খাবা! মাথা খারাপ হয়ে গেছে?
– অনেক ভেবে দেখলাম তোমার টাকা পয়সার যা অবস্থা সারা জীবন বসে খেতে পারবনা। তুমি মরার পর আমার কি হবে! তাই এক সাথে মরার বুদ্ধি করেছি। ভালো করেছিনা?
পিঁপড়ার মুখ শুকিয়ে গেছে বুঝতে পারছে চিনি ওর সিগারেট খাওয়া আজ বের করবে! Continue reading “চিনি বউ আর পিঁপড়া জামাই”

শুধু তোমার জন্য

ধরো, একদিন খুব দেরি করে অফিস থেকে ফিরলাম। বাইরে নিয়ে যাবো বলেও নিয়ে যেতে পারলাম না। তুমি খুব অভিমান করে, একেবারে চুপ হয়ে যাবে। আর ভাববে, আজকে বাসায় এসে যখন সরি বলতে আসবে, তুমি ফিরেও তাকাবে না। হাজারবার ভালোবাসি বললেও না। কিন্তু তুমি কলিং বেলের শব্দে দরজা খুলে দেখবা, আমার চোখে কোন অনুতাপ নেই। কোন দুঃখবোধ নেই। বরং চোখে, কপালে রাজ্যের বিরক্তি। আমি দড়াম করে দরজা বন্ধ করে দিয়ে, হাঁক দিলাম। চা দাও। তোমার কি তখন খুব মন খারাপ হবে? আমার সাথে কথা বন্ধ করে দিতে ইচ্ছে হবে? Continue reading “শুধু তোমার জন্য”

ভালোবাসা – বাসি

ধরো তুমি টিভিতে হিন্দী সিরিয়াল দেখতেছ, হাইলি সাসপিশাস মোমেন্ট! নায়িকার পেটে নায়িকার আগের জন্মের বয়ফ্রেন্ডের বাচ্চা; আগের জন্মের বয়ফ্রেন্ড এই জন্মে নায়িকার মা না শ্বাশুড়ী? বিরতীর পর জানা যেতে পারে। এরকম টেনশানের মুহুর্তে আমি যদি চ্যানেল চেন্জ করে ইএসপিএন এ দিয়ে জিজ্ঞেস করি, ভালোবাস? তুমি কি আছাড় দিয়ে টিভি ভেঙে ফেলবে? নাকি সৌম্য সরকারের কাভার ড্রাইভের দিকে তাকিয়ে মিস্টি হেসে বলবে – ভালোবাসি, ভালোবাসি…. Continue reading “ভালোবাসা – বাসি”

Page 1 of 212