পুনর্জনম

সাল ১৭২৩। নিশীথিনী জমিদার বাড়িতে (বর্তমান শ্রীফলতলি জমিদার বাড়ি) জন্ম হয়েছিল অলকানন্দের। রাজ্যের রাজকন্যা অলকানন্দ সে একাধারে ছিলেন সাহিত্যক, দার্শনিক। জমিদার বাড়িতে অলকান্দের আদেশেই কাঠঁগোলাপ গাছ লাগানো হয়েছিল। বিশাল এক কাঠঁগোলাপ গাছের নিচে ভর দুপুরে অলকা বসে উপন্যাস পড়ে পড়ে সময় পার করতেন। তার প্রিয় সখি ছিলেন নাজমুনন্দ। নাজমুনন্দ ছবি আকতেন সবসময় অলকার। কাঠঁগোলাপ কাছের ফুল কুড়িয়ে অলকা খোপায় পড়তেন আর সারা বাড়ি ঘুরে বেড়াতেন। তার ছোয়ায় যেন জমিদার বাড়ি চকচক করতো।

সেদিন ছিল কাঠাফাটা রৌদ্দুর, আবহাওয়া মূলত প্রতিকুলে। Continue reading “পুনর্জনম”

দুঃখবাদী

– তুমি সিগারেট খাও?
– হুম,
– কালকে থেকে আর খাবে না।
– কেন?
– আমি বলেছি তাই।
– কে আপনি?
– জানিনা।

– তুমি রাত জাগো?
– প্রতিটি রাতই!
– আজকে রাত থেকে সুন্দর করে ঘুমাবে।
– বললেই হল?
– হুম Continue reading “দুঃখবাদী”

সোফিয়া ও কতিপয় বঙ্গীয় ললনাকূলের ভাবনা

রোবট সোফিয়ার সাথে কিছুক্ষণের আলাপ।
: হাই সোফিয়া!
– স্যরি, আই হ্যাভ অ্যা বয়ফ্রেন্ড।
: সত্যিই তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে?
– আরে না। এভাবে রিপ্লাই দেয়া আমি বাংলাদেশের মেয়েদের দেখে শিখেছি।
: আর কি শিখলা?
– কিছু না, ভাইয়া।
: ভাইয়া ডাকা নিষেধ! অন্যকিছু ডাকো।
– সিস্টেমে ভাইয়া ছাড়া আর কিছু দেয়া নাই।
: কেমন লাগতেছে বাংলাদেশ? Continue reading “সোফিয়া ও কতিপয় বঙ্গীয় ললনাকূলের ভাবনা”

রেফারেন্স

– আচ্ছা রবীন্দ্রনাথ কি খেলাধুলা করতেন?
– করতেন মানে, নিয়মিত করতেন। যদিও তিনি খুব একটা ভালো খেলোয়াড় ছিলেন না। একটা গানে তিনি নিজেই বলছেন ‘তোমার সাথে বারে বারে হার মেনেছি এই খেলাতে’। বোঝাই যাচ্ছে – হারুপার্টি ছিলেন।
– ওহ, আচ্ছা। তা উনি কী খেলা খেলতেন? ফুটবল না ক্রিকেট?
– আরে নাহ, ওসব ধুলো ময়লায় গড়াগড়ি খাওয়া খেলা কি জমিদারের ছেলেরা খেলে? উনি নিয়মিত পুতুল খেলতেন।
– পুতুল খেলতেন?
– হ্যা, বিশ্বাস হলো না তো? আমি ভাই রেফারেন্স ছাড়া কথা বলি না। এই যে দেখেন উনার গানেই উনি লিখে গেছেন
‘তোমায় নিয়ে খেলেছিলেম খেলার ঘরেতে।
খেলার পুতুল ভেঙে গেছে প্রলয় ঝড়েতে।’ Continue reading “রেফারেন্স”

এই বর্ষার বর্ষনে

খুব বৃষ্টির দিনে মরে গেলাম, পানি পানি, থৈথৈ পানি। কবর উপচে উঠে, উথলে যাচ্ছে। অতটুকুই তো মাটির খোঁয়াড়ি, দুজন কি আর পারে কিছুতে। ভেঙ্গে যাচ্ছে কবরঘরের দেয়াল, ছলাৎ! ভিজে ভিজে ডুবে যাচ্ছে পাশে ফেলে রাখা একই মাটির শরীর, যে শরীর দু ফোঁটা অসচ্ছ তরলের নির্মাণ। এই পানিতেই নামিয়ে রেখে যাবে শরীর, নিথর! বেঁচে থাকলে শিউরে উঠতো গায়ের কাঁটা। একসময় সবাই চলে যায়, কবর ভরা ঘোলাটে জল ছলছল। কৃত্য শেষ হয় না, মুলতুবি পরের দিনের জন্য। ভোরের আলো জানে, দু’সারি পিঁপড়ে সার বেঁধে চলাচল করছিল সে নাসারন্ধ্রে, চোখের পাতাও কুরে কুরে খেয়ে নিয়েছে, হয়তো তেলাপোকা; নয়তো ইঁদুর। Continue reading “এই বর্ষার বর্ষনে”

হলুদ পাঞ্জাবি

আচ্ছা কেমন হবে যদি জিন্স আর টি-শার্ট পরে এক যুবককে প্রতিদিন সকালে বাজার করতে দেখা যায় যে কিনা এক সময় হলুদ পাঞ্জাবি পরে খালি পায়ে তপ্ত দুপুরে অথবা মধ্য রাতে রাজপথে হেটে বেড়াতো! অথবা কৃষ্ণবর্ণের কৃশকায় একটু কুজো বেমানান বুদ্ধিদিপ্ত চোখের অধিকারী মাঝবয়সী ভদ্রলোক যদি সিগারেট হাতে চায়ের কাপ সামনে নিয়ে ভ্রু কুচকে বারান্দায় বসে না থেকে স্কুলব্যাগ হাতে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যায়! অনেক চেষ্টা করেও এই দুই চরিত্রের সম্পূর্ণ উল্টা চিত্রটা কল্পনা করতে পারছি না। প্রজন্মের পর প্রজন্মর কাছে বাউন্ডুলে ছেলেটা বাউন্ডুলেই থেকে যাবে, অসম্ভব বুদ্ধিমান চিরকুমার ভদ্রলোক একাই খিচুড়ি রান্না করে খাবেন। Continue reading “হলুদ পাঞ্জাবি”

Page 1 of 212