প্রানের বর্নমালা, কালের লিখন (শেষ পর্ব)

‘অভ্র’র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ইন্টারনেটে বাংলা লেখার জন্য এই কি-বোর্ডের ব্যবহার। অর্থাৎ বাংলা ভাষা এখন পার্সোনাল কম্পিউটারের গন্ডি ছাড়িয়ে স্থান করে নিলো ইন্টারনেটের ভাচুর্য়াল পাতায়। আর এই কি-বোর্ড হলো সবার জন্য উন্মুক্ত। এই বর্ণ সৈনিকের ‘অভ্র’ বর্তমানে বাংলা লেখার অন্যতম জনপ্রিয় লেআউট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কম্পিউটারে বাংলা লেখার জন্য অনেকগুলো কি-বোর্ড বর্তমানে প্রচলিত। অনেকেই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের প্রচেষ্টাগুলোকে সফল করা জন্য।

কেন করেছেন? শুধুই ব্যবসায়িক সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে? উহু। নতুন কিছু করার নেশা, Continue reading “প্রানের বর্নমালা, কালের লিখন (শেষ পর্ব)”

প্রানের বর্নমালা, কালের লিখন (পঞ্চম পর্ব)

এই প্রজেক্টের আইডিয়া তার মাথায় আসে ২০০৩ এ। তখন একুশে বইমেলায় বাংলা ইনোভেশন থ্রু ওপেন সোর্স, বায়োস নামে একটা সংগঠন বাংলা নামে একটা প্রদর্শনী করে। এখানে পুরো ইন্টারফেসটা ছিলো বাংলায় এবং বাংলায় লেখালেখিও করা যেতো। মেহেদি হাসান তাদের বাংলা ফন্টটা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করেন বাংলায় লেখালেখির জন্য। কিন্তু দেখা গেলো এই ফন্ট ব্যবহার করে লেখার জন্য উইন্ডোজে কোন কি-বোর্ড নেই। অনেক ঝামেলা করে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ইনসার্ট ক্যারেক্টার থেকে ওই ফন্টের ক্যারেক্টারগুলো ব্যবহার করে বাংলা লেখা সম্ভব।

কিন্তু সরাসরি ওই ফন্টের জন্য কোন কি-বোর্ড ছিলো না। মানে হলো, ওই ফন্টের জন্য একটা কি-বোর্ড থাকলে Continue reading “প্রানের বর্নমালা, কালের লিখন (পঞ্চম পর্ব)”

প্রানের বর্নমালা, কালের লিখন (চতুর্থ পর্ব)

‘বিজয়’ এর প্রথম ভার্সন করা হলো মূলত Mac SE, Mac+512 KE এবং Mac-2 কম্পিউটারের জন্য। পরবর্তীতে উইন্ডোজের জন্য বিভিন্ন ভার্সন রিলিজ করেন তিনি। ধীরে ধীরে পার্সোনাল কম্পিউটারে বাংলা লেখার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় কি-বোর্ডে পরিণত হয় ‘বিজয়’। প্রায় ৯৯ শতাংশ বাংলা লেখাই এই লেআউট ব্যবহার করে লেখা হতো। মোস্তফা জব্বারের এই অবদানের ফলে কম্পিউটারে বাংলা লেখা সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজ হয়ে গেলো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, তার এই অবদানের ফলে প্রিন্টিং জগতে বাংলা ছাপার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। Continue reading “প্রানের বর্নমালা, কালের লিখন (চতুর্থ পর্ব)”

প্রানের বর্নমালা, কালের লিখন (দ্বিতীয় পর্ব)

তো, এই কম্পিউটার নিয়ে কাজ করতে করতেই তার মাথায় কম্পিউটারে বাংলা লেখার ধারণাটা এলো। সে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। যদিও ‘মুনীর’ কি-বোর্ড ছিলো প্রথম বাংলা লেআউট কিন্তু এটা যথেষ্ট জটিল ছিলো। সাইফ শহীদ QWERTY এর সাথে মিল রেখে সম্পূর্ণ নতুন একটি লেআউট তৈরী করলেন। এটির নাম দিলেন ‘শহীদ লিপি’। সাইফ শহীদের নামের সাথে ‘শহীদ লিপি’ নামটি কাকতালীয়ভাবে মিলে গেলেও, এই নাম করণের পেছনের ইতিহাসটা তিনি বর্ণনা করেছেন অন্য ভাবে।

এভাবে, “১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯- এ চার বছর যখন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র – তখন প্রতিটি শহীদ দিবসে শহীদ মিনারে যেতাম প্রভাব ফেরীতে যোগ দিতে। Continue reading “প্রানের বর্নমালা, কালের লিখন (দ্বিতীয় পর্ব)”

প্রানের বর্নমালা, কালের লিখন (প্রথম পর্ব)

বাংলা কি-বোর্ডর ধারণাটা প্রথম প্রয়োগ করেন শহীদ মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে, তাঁর ‘মুনীর’ কি-বোর্ড’র মাধ্যমে। এটি ছিলো টাইপ রাইটারের জন্য তৈরী করা একটি QWERTY কি-বোর্ড লেআউট। এটিই বাংলা ভাষায় প্রথম লেআউট। কিন্তু কম্পিউটারের জন্য তো শুধুমাত্র একটি লেআউট হলেই হবে না। সাথে প্রয়োজন সফটওয়্যার বা মূল প্রোগ্রামিং যা এই লেআউটকে কম্পিউটারের বোধগম্য ভাষায় রুপান্তর করবে এবং ‘ফন্ট’ যা লেখাটাকে কম্পিউটারের মনিটরে দেখাবে।

সাইফ শহীদ পেশায় একজন যন্ত্র প্রকৌশলী। কর্মজীবন শুরু করেন বেক্সিমকোতে। Continue reading “প্রানের বর্নমালা, কালের লিখন (প্রথম পর্ব)”

ইহুদীকথা (প্রথম পর্ব)

পৃথিবীতে ইহুদীদের মোট সংখ্যা দেড় কোটির মত। একটি মাত্র ইহুদী রাষ্ট্র – ইসরাইল। ইসরাইলে ইহুদীর সংখ্যা ৫৪ লাখ, অবশিষ্ট প্রায় এক কোটি ইহুদী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে আমেরিকাতে ৭০ লাখ, কানাডাতে ৪ লাখ আর ব্রিটেনে ৩ লাখ ইহুদী থাকে। ইহুদীরা মার্কিন জনসংখ্যার মাত্র ২%, আর পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.২%। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৫০০ জনে একজন ইহুদী! কিন্তু জনসংখ্যার দিক দিয়ে ঢাকা শহরের কাছাকাছি হলেও বিশ্বে ইহুদি সম্প্রদায় থেকে যুগে যুগে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য প্রতিভাবান ব্যক্তি। প্রধান ধর্মগুলোর পর পৃথিবীতে যে মতবাদটি সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলেছে সেই কমিউনিজমের স্বপ্নদ্রষ্টা কার্ল মার্কস ইহুদি সম্প্রদায় থেকে এসেছেন। বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধ করে রাখা যাদু শিল্পি হুডিনি ও বর্তমানে ডেভিড কপারফিল্ড এসেছেন একই কমিউনিটি থেকে। Continue reading “ইহুদীকথা (প্রথম পর্ব)”

Page 1 of 912345...Last »