অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (ষষ্ঠ পর্ব)

ষোল
রাত বারার সাথে সাথে আমার শরীর গরম হতে থাকলো। সেই সাথে পেট পাক দেয়া শুরু করলো। এবং প্রচন্ড ঘাম শরীর বেয়ে গোসল করার মতো হয়ে গেল। মাথার উপরের ফ্যান প্রান পন ঘুরেও গরম আর অস্থিরতায় ভরা এই আমাকে ঠান্ডা করতে সম্পূর্ন ব্যর্থ হলো। যতই রাত বাড়ছে, ততই আমি ক্লান্ত হয়ে পরছি। শরিরের শক্তি লোপ পাবার মতো হয়ে গেল। শুধু মাত্র থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ছাড়া শরিরে কিছুই নেই। তার পরেও গরমে সিদ্ধ হবার জোগার। এ যেন কেউ আমাকে বড় পাতিলে ফুটন্ত পানিতে ছেঁড়ে, নিচে দিয়ে ইট ভাটার চুল্লি জ্বালিয়ে দিয়েছে। ঘড়ির দিকে তাকালাম। রাত বাজে ১২ টা। মুরগির বিরিয়ানি খাওয়ার পরে আমি হাফ প্যাকেট সল্টেড চিপস এবং হাফ বোতল আমের জুস খেয়েছিলাম। সেটা যেন মারাত্নক হয়ে ধরা দিলো। আমি তখন একটুও বুঝতে পারিনি, বাসি গন্ধ যুক্ত বিরানির সাথে সল্টেড চিপস মিলে পেটে পাক ধরাবে এবং বাজে বিক্রিয়া ঘটিয়ে আমাকে প্রচন্ড রকম অসুস্থ করে তুলবে। আমি ফ্যানের দিকে হা করে তাকিয়ে আছি, আর লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস নিচ্ছি। আমার মাথা ধিরে ধিরে কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। হাত পা অবস হয়ে আসছে। Continue reading “অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (ষষ্ঠ পর্ব)”

কাশবন এক্সপ্রেস

‘শিক্ষিত’ মানুষ চরম ধূর্ত হয়। এরা মুখে বলবে এক, মনে আরেক, কাজে আরেক। কিন্তু অশিক্ষিত, গ্রামের মানুষগুলো নিখাদ সোনা। আত্মা দিয়ে ভালবাসবে। যে বগিটাতে আছি, এটা ‘পাওয়ার কার’ বগি, ছোট্ট বগি। জনা বিশেক যাত্রীর বসার ব্যবস্থা। আমিই হয়ত একমাত্র অভাগা যে কথিত শিক্ষিত, বাকি সবাই এর উল্টো। পুরো বগিটাকেও খাবার রুম বানিয়ে ফেলেছি। ডিম, চানাচুর মাখানো, কলা, পাউরুটি, আপেল, চকলেট, পান বাদ যাচ্ছে না কিছুই। শুরুতে প্রায় সবাই কোনো কিছু নিতে চাচ্ছিলেন না। পরে অনেক সাধাসাধি করে নেয়াতে সক্ষম হয়েছি। তবে ১০% কে কনভিন্স করাতেই পারিনি। এক দাড়িওয়ালা চাচাকে শুধু বলেছি,
– আমি তো আপনার ছেলে। ছেলে বললে কি না করতে হয়?

উনি শুধু আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। এর পরে আমার হাত ধরলেন বৃদ্ধ হওয়া হাতে। Continue reading “কাশবন এক্সপ্রেস”

আমি ও একটি গ্রাম

“তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমদের ছোট গাঁয়
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভায়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়।”
– জসীমউদদীন

গত ছয় বছরের প্রবাস জীবন আর তার আগে শহরের যান্ত্রিকতার কারনে গ্রাম দেখিনাই প্রায় বছর দশেকের মতো হবে। খুব হঠাৎ করেই প্ল্যান করে ফেললাম, গ্রাম দেখবো। বন্ধু নাঈমকে বলা মাত্র রাজি হয়ে গেলো। দুই বন্ধু পায়ে হেঁটে রওনা দিলাম আমার সঙ্গী ক্যামেরাটা নিয়ে। Continue reading “আমি ও একটি গ্রাম”

কথিত রাজপুত্রের রাজবাড়ি পরিদর্শন

“পৃথিবী তখন কাঁদছিলো,
কিভাবে বুঝাই –
তোমার আমার পৃথক হওয়ার গল্পটাতে
দূর্ভাগ্যের হাত ছিলো।”
– আশরাফ শিশির

শোন মেয়ে,
তোমার জন্য আমার ঠিক তিন রাতের ঘুম নষ্ট হয়েছে। অবশ্য এটা আমার সমস্যা, তোমার না। তাই সমাধানটা আমিই করলাম। চিঠির অপর পৃষ্ঠায় তোমাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখে দিলাম। কবিতাটা পড়ে তোমার ভেতর দুই ধরনের অনুভূতি জন্মাতে পারে। হয় আমার প্রতি তোমার মন তীব্র ঘৃনায় ভরে উঠবে, না হয় আমার জন্য বিন্দু বিন্দু ভালোবাসার সৃষ্টি হবে। যেটাই ঘটুক তাতে আমার কিছুই আসে যায় না। Continue reading “কথিত রাজপুত্রের রাজবাড়ি পরিদর্শন”

বালক-বালিকা

“কোনো এক সময়ে আমিও ভালবেসেছিলাম,
ভালবাসায় তাকে ভাসাতে চেয়েছিলাম!”

এলিফ্যান্ট রোড থেকে আঁগারগা যাচ্ছিলাম। আমার সামনের সিটে এক কাপল বসে ছিলো। মনে হয় ঈদের শপিং করে বাড়ি ফিরছে। ছেলেটার পায়ের উপর অনেক গুলো শপিংব্যাগ রাখা। তাই দেখে মেয়েটা বেশীর ভাগ ব্যাগ ছেলেটার কাছ থেকে নিয়ে মেয়েটার পায়ের উপর রাখলো। কিন্তু ছেলেটা পর মূহুর্তেই মেয়েটার কাছ থেকে ব্যাগ গুলো নিয়ে আবার নিজের পায়ের উপর রাখলো। মেয়েটা নাছোড় বান্দা। ছেলেটার থেকে ব্যাগগুলো নিয়ে নিল। ছেলেটাকে মেয়েটা কষ্ট দিতে চাচ্ছে না। Continue reading “বালক-বালিকা”