অপরাজিতা

মেয়েটা ভাঁজ খুলে দাঁড়ালো। মঞ্চের চারিদিকে অন্ধকার। ঠিক মাঝখানে আলোর নিচে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা। চেহারা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আলো আর ছায়া দেখা যাচ্ছে কেবল। আলোটা চোখ ধাঁধানো আলো। ছায়াটা গভীর কালো। মেয়েটি চুলের খোঁপা খুলে ফেললো। দর্শক সারিতে পিনপতন নিরবতা। কোথাও কোথাও গভীর শ্বাস শোনা যাচ্ছে। কোথাও বা ঢোক গিলার শব্দ। মেয়েটা এবার বুকের উপরে ঝুলতে থাকা শাড়ির আঁচল ফেলে দিলো। দর্শক সাড়িতে দ্রুত হচ্ছে শ্বাস। মেয়েটার সুউচ্চ বুক তৈরি করেছে বুকের নিচেই গাঢ় অন্ধকার। মেয়েটা পিছন ফিরে দাঁড়ালো। পিঠে ছড়িয়ে আছে খোলা চুল। ব্লাউজের নিচে কোমরের ভাঁজ। ভারি নিতম্বে আটকে গেছে দর্শকদের চোখ। মেয়েটা আস্তে আস্তে আবার সামনে ফিরলো। এতোদূর থেকেও মেয়েটার মুখে আলো ছায়ার ভাঁজ দেখে মনে হচ্ছে মেয়েটা মুচকি হাসছে। মেয়েটার হাত আস্তে আস্তে ব্লাউজের দিকে চলে যাচ্ছে। একটা বোতাম খুললো। মেয়েটা হাসছে এখনো। দর্শকের সারিতে চাপা চাপা নিঃশ্বাসে শোনা যাচ্ছে,
– ওয়ান মোর! ওয়ান মোর!! ওয়ান মোর!!! Continue reading “অপরাজিতা”

চাকুরীর ভগ্নস্বাস্থ্য ও টিভির ছয় ইঞ্চি রিমোট

যিনি দেশের সবচেয়ে বেশি বেতনের চাকুরি করেন অথবা যাদের বেতন পাঁচ ছয় লাখ বা আরও বেশি টাকা, তারাও কোনও কাজের এদিক সেদিক হলে তাদের প্রতিষ্ঠান মালিকের কাছে ঠাপ খেয়ে থাকেন। এই ঠাপ কখনও ‘মার ঘুরিয়ে’ টাইপের, কখনও রুমে ডেকে নিয়ে ‘আলতো পাইলিং’ টাইপের। আবার যদি অশিক্ষিত লোক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা মালিক হয়ে থাকেন তার ঠাপটা হয় ডাইরেক্ট। ফুল গরুর ইনজেকশন। সুঁই বড়, আঘাত বড়। তো, চাকুরি যত বড়ই হোক, সেটা চাকুরিই, চাকুরীজীবী সেখানে চাকর, দাস সেখানে। সোজা কথায় কামলা। যারা তুলনামূলক ‘চলে যাচ্ছে জীবন’ টাইপের চাকুরি করেন, যাদের বেতন দিয়ে জীবন চলে যায় কিন্তু ধারদেনা বা টানাটানি লাগে না, ঠাপ তারাও খেয়ে থাকেন, তাদের ঠাপের ঝড়টা আসে ঊর্ধ্বতনের কাছ থেকে। এই ঊর্ধ্বতনদের অধিকাংশই চুতিয়া টাইপের দালাল। Continue reading “চাকুরীর ভগ্নস্বাস্থ্য ও টিভির ছয় ইঞ্চি রিমোট”

শয়তানের কারসাজি (শেষ পর্ব)

পৃথিবীতে বসবাসকারী এই একমাত্র ভিন গ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন হলাম আমরা। মানে মানুষ। আর দ্বিতীয় এলিয়েন প্রাণীটা প্যারালাল ডাইমেনশনের, যাকে আমরা স্বাভাবিক ভাবে দেখতে পারি না। জ্বীন। শয়তানের পুজা বা উপাসনা সৃষ্টির সেই আদিম কাল থেকেই হয়ে এসেছে। কেউ বলে ডিমন ওয়ারশিপ, কেউ বলে সাতানিজম, কেউ বলে ব্ল্যাক ম্যাজিক, কেউ বলে জ্বীন নামানো। কেউ কেউ স্রেফ গুজব বলে উড়িয়েও দেয়। মুল বিষয়টা সবার ক্ষেত্রে এক। তা সে কামরুপ কামাক্ষার মড়া মানুষ খাওয়া বা যোনীর রক্ত উপাসনা হোক বা দেশে দেশে যুদ্ধের নামে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ নরবলি দেয়া হোক, মূল বিষয়টা সিমিলার। আগুন, কন্ট্রাক্ট, সাবমিশন। একটা কন্ট্রাক্ট হবে অন্য ডাইমেনশনের কোনও প্রাণীর সাথে। তার কাছে সম্পূর্ণভবে সাবমিট করা লাগবে। আর তারপর যা বলবে, যা চাইবে তাই করতে হবে। Continue reading “শয়তানের কারসাজি (শেষ পর্ব)”

হত্যা নাকি আত্নহত্যা (শেষ পর্ব)

যার জন্য আপনি সবচেয়ে বেশি কাঁদবেন, যার জন্য আপনার জীবনটাই অন্ধকারে ডুবে যেতে থাকবে – সেই মানুষটি সুখে আছে। অনেক ভালো আছে আপনাকে ছাড়াই। যার কাছে আপনি প্রতিনিয়ত অবহেলিত হচ্ছেন, যার কাছে আপনার ভালোবাসার কোন দাম নেই। যার কাছে আপনি কেবলই একটি মোহ মাত্র -সেই মানুষটি আজ মোহ কাটিয়ে আপনাকে জ্বালিয়ে পুঁড়িয়ে অন্যের সাথে হাসি তামশায় মেতে উঠেছে। আপনি দিনের পর দিন মানসিক অশান্তিতে আছেন। অনিশ্চিত জীবনের গল্প রচনা করছেন, কাউকে বলতে পারছেন না। কত শত তীব্র যন্ত্রনাগুলো আপনাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। আপনি আত্মহত্যা করতে প্রায় চেষ্টা করেও পারছেন না মরে যেতে। আপনার ভাবনা জুড়ে সেই মানুষটার বিষময় স্মৃতি। আপনার পারিবারের সম্মানের কথা ভেবে অস্থির হচ্ছেন। Continue reading “হত্যা নাকি আত্নহত্যা (শেষ পর্ব)”

হত্যা নাকি আত্নহত্যা (চতূর্থ পর্ব)

কোন কাজকেই ছোট ভাবা ঠিক নয়, ছোট থেকেই মানুষ বড় হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করে। সাফল্যকে টেনে হেচঁরে যদি এক লাফে বড় হতে চাও তাহলে তুমি লোভী মানুষ হিসেবে পরিচিতি পাবে। সফলতা অর্জন করা মুখের কথা নয়। যে কোন কাজকে প্রথমে ভালোবাসতে শিখো তাহলে কাজের প্রতি তোমার আগ্রহ বাড়বে মনযোগী হতে পারবে। সহজ কথাকেও কখনো কঠিন ভাবে বিশ্লেষণ করবে না, তাহলে সহজ কথাকে কঠিন মনে হবে, আতংকিত হবে সহজ কাজের ব্যাপারে। যে কাজটি তোমার জন্য পারফেক্ট মনে হবে ঠিক সেটাই করবে, সেটাতেই তোমার স্বপ্ন পূরণের সিড়িঁটা খুঁজে পাবে। লোকে কি বললো, না বললো বা কি ভাবলো, কি ভাববে ওসব কথা তুমি ভেবো না। নিজের দারিদ্র্যতাকে তোমার জীবনের ব্যর্থতা ভেবোনা। পারিবারিক সহযোগীতা নেই ভেবে নিজেকে তুচ্ছরূপে দেখোনা, উচ্চবিত্তদের লাইফ স্টাইল দেখে নিজেকে দূর্বল ভেবোনা, ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান ভেবেও সবার থেকে নিজেকে আঁড়াল করোনা। Continue reading “হত্যা নাকি আত্নহত্যা (চতূর্থ পর্ব)”

হত্যা নাকি আত্নহত্যা (তৃতীয় পর্ব)

কথোপকথন ১ –
মি – দোস্ত, আত্নহত্যা করুম।
দোস্ত – এখন করিস না। কয়টা মাস যাক, তার পর ভালো একটা দিন দেখে করিস।
মি – ক্যান, এখন করলে সমস্যা কি?
দোস্ত – এখন আত্নহত্যা করলে মানুষ মনে করবো, তুই ব্লু হোয়েল গেইম এর ৫০ তম ষ্টেজ পার করলি।

কথোপকথন ১ –
মি – আত্নহত্যা করার সিদ্ধান্ত ফাইনাল।
শি – তাই নাকি? তা দিন ক্ষন কিছু ঠিক করেছেন?
মি – নাহ ঠিক করি নাই। যে কোন সময় করতে পারি। আজ রাত, কাল রাত কিংবা পরশু।
শি – শোনেন, আগে দিন তারিখ ঠিক করেন। কোন পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করবেন, সেটা ঠিক করেছেন তো? Continue reading “হত্যা নাকি আত্নহত্যা (তৃতীয় পর্ব)”

Page 1 of 712345...Last »