চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ (দ্বিতীয় পর্ব)

উনার সমস্যার কথা জানতে চাইলে উনি যা বললেন তার সারমর্ম হচ্ছে, তাকে তার স্বামী সন্তান কেও ভালবাসেনা। তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সারাক্ষণ তাকে ছোট করে, ইগ্নর করে, তাকে নিয়ে আড়ালে কথা বলে, ফিসফিস করে। এমনকি তিনি মনে করেন তার স্বামীর এক্সট্রা ম্যারিটাল এফেয়ার আছে একাধিক। বাসায় যে বুয়া কাজ করে তার সাথেও তার স্বামীর সম্পর্ক আছে বলে তিনি মনে করেন। শেষ কথা হল, তার জীবন পুরাপুরি ব্যর্থ, উনি মরে যেতে চান। আমি তার সাথে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কথা বললাম তার বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি বের করার উদ্দেশ্যে। দুঃখজনক ভাবে উনি সত্যতা প্রমাণের মত কোন যুক্তিই দিতে পারলেন না। কথা বারতায় বেরিয়ে এল, এগুলো নিছক তার অনুমান, তার ইমাজিনেশন।

তার সামনে অন্য কেও কথা বলেই মনে হয় তারা তাকে নিয়েই কথা বলছে, Continue reading “চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ (দ্বিতীয় পর্ব)”

মোহভঙ্গের মহাযজ্ঞ

একদিন আমাকে একজন ইনবক্সে জানতে চাইলেন,
– আচ্ছা… ভালো মানুষ, মন্দ মানুষ কিংবা শুধু মানুষ চেনার কি কোন উপায় আছে?
তার সেই প্রশ্নের পরে এমন অনেক দীর্ঘ রজনী পার হয়ে গেছে কিন্তু তাকে কি বলবো আর তার প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর কি হতে পারে তা ভেবে ভেবে কেটে গেছে আরো বহু বিনীদ্র রজনী। সেই আদি যুগ থেকে সভ্যতার সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করেও আজ মানুষ শুধু মানুষই চেনার চেষ্টা করে গেলো। কিন্তু মানুষ চেনা হলো না। আর তাছাড়া তার এই প্রশ্নের জবাব এক কথায় কিংবা অতি সংক্ষিপ্ত আকারে বলা একেবারেই অসম্ভব। সিগারেটখোর যেমন এক টান দিয়ে ধোঁয়া অর্ধেক গলায় রেখেই বলে দিতে পারবে, এটি ড্যাম সিগারেট ছিল। তারা’খোর আকাশের দিকে তাকিয়েই বলে দিতে পারবে, Continue reading “মোহভঙ্গের মহাযজ্ঞ”

চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ (প্রথম পর্ব)

বিশ্ব বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ। অদ্ভুত রহস্যময় জীবন ক্ষনজন্মা এই গুণী শিল্পীর। বলা হয়ে থাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের জীবনকে পুরপুরি ব্যর্থ বলে মনে করতেন এই মহান শিল্পী। এমনকি তার ওয়ান অফ দ্য মাসটার পিসেস “দ্য স্টারি নাইট” আঁকার পর উনার ধারনা ছিল কোন কিছুই হয়নি ওটা। অথচ পৃথিবীর মহামূল্যবান পেইন্টিংগুলোর মধ্যে তার সেই পেইন্টিং উল্লেখযোগ্য। কথিত আছে তার বন্ধু পল গগ্যা র সাথে মনমালিন্যের ফলাফল হিসেবে তিনি তার নিজের বাম কান কেটে ফেলেন। আবার কেও বলেন, তিনি তার কান কেটে কোন এক পতিতাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। Continue reading “চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ (প্রথম পর্ব)”

কেউ দেখেনি

বলেন তো আপনার শরীরের সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট অর্গান কোনটা? যেটা নষ্ট হলে লাইফ শেষ? জানি কেও বলবেন হার্ট, কেও লাং, কেও হয়ত বলবেন লিভার। অথচ যে আপনারে এটা বলার মত বোধ বুদ্ধি দিল, যে চিন্তা করার ক্ষমতা দিল, তার নাম টা ভুলেই গেলেন। মানুষ যে স্বার্থপর এটা তার প্রমাণ। সবচেয়ে যে আপন তাকে সে ইগনোর করে, তাকে ফর গ্র্যান্টেড নেয়। আমাদের শরীরের সেই অবহেলিত অর্গান, সেই সবচেয়ে কাছের জিনিসটা হল আমাদের মস্তিষ্ক। আমাদের পুরো জীবনের উপর যার নিয়ন্ত্রণ। অথচ কাওকে যখন জিজ্ঞেস করবেন,
– কেমন আছেন ভাই?
সে যদি উত্তর দেয়,
– ভাল না, শরীরটা খারাপ। সকাল থেকে ডিসেনট্রি, এই নিয়া চারবার টয়লেটে গেলাম।
আপনি আহা উহু করবেন। সমবেদনা জানাবেন, ডাক্তার দেখাতে বলবেন। Continue reading “কেউ দেখেনি”

ওথেলো সিন্ড্রোম

পৃথিবীর ভয়ংকরতম মানসিক রোগের রোমান্টিকতম নাম। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ট্র্যাজেডি নাটক ওথেলো, দ্য মুর অফ ভেনিস এর নায়ক ওথেলোর নামেই এই রোগের নামকরন করেন মনোবিজ্ঞানীরা। কৃষ্ণাঙ্গ সেনাপতি ওথেলো মিথ্যা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তার স্ত্রী ডেসডিমনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরে যখন জানতে পারেন স্ত্রীর প্রতি তার এই বিশ্বাস অমূলক ছিল তখন নিজেও আত্মহত্যা করেন। ওথেলো সিন্ড্রোম বা প্যাথলজিক্যাল জেলাসি নারী – পুরুষ উভয়ের মধ্যেই দেখা যায়। এই রোগে নারীরা কিংবা পুরুষরা তাঁদের সঙ্গিনী বা স্ত্রীকে সারাক্ষণ সন্দেহ করতে থাকেন, ভাবেন তাঁদের স্ত্রী অবিশ্বাসী, ব্যাভিচারিনী এবং সঙ্গিনীকে হারানোর ভয়, ইন্সিকিউরিটি থেকে তাঁদের মধ্যে নানা ধরনের বিহেভিওরাল ডিযঅর্ডার দেখা দেয়। যেমন, তিনি অভিযোগ করতে থাকেন যে তার বউ তার থেকে অন্যদেরকে বেশী এটেনশন দেয়! রং নাম্বার, এক্সিডেন্টাল কল থেকে শুরু করে সমস্ত ফোন কল নিয়ে জেরা করতে থাকে। পার্টনারের সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ব্যাবহার নিয়ে তাঁদের চরম আপত্তি থাকে। Continue reading “ওথেলো সিন্ড্রোম”

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (শেষ পর্ব)

কোন নাটক দেখার পর কাহিনী ও চরিত্র নিজ চিন্তায় বিশ্লেষণ করে সে নাটক-পর্ব শেষ করে তারপর অন্যকাজে যাব। ঐ নাটকের ঘটনা বা চরিত্র বা অভিনয় এরূপ না হয়ে অন্যরূপ বা ঐ ঐ রূপ হলে কেমন হতো? আমার জীবনে এরূপ ঘটনা ঘটলে কি করতাম? এভাবে নিজের সাথে নিজেরই কত কথা! কত আবিষ্কার। কত সৃষ্টি। যেকোন বিষয় পড়াশোনা বা দেখার পর এভাবে নিজের সাথে নিজেই কথা বলার অভিনয় করে করে আপনি যখন নিজের কাছে নিজেই প্রিয় অভিনেতা বা অভিনেত্রী হয়ে উঠবেন, নিজের ওপর আত্মনির্ভরশীল হবেন, তখন ভাববেন বা অন্তত ভান (pretend) করবেন যে,
– ‘আমি সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হচ্ছি, ডায়নামিক হচ্ছি, ক্রিয়েটিভ হচ্ছি, বিশেষ মানুষ হচ্ছি’। Continue reading “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (শেষ পর্ব)”

Page 1 of 41234