চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ (প্রথম পর্ব)

বিশ্ব বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ। অদ্ভুত রহস্যময় জীবন ক্ষনজন্মা এই গুণী শিল্পীর। বলা হয়ে থাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের জীবনকে পুরপুরি ব্যর্থ বলে মনে করতেন এই মহান শিল্পী। এমনকি তার ওয়ান অফ দ্য মাসটার পিসেস “দ্য স্টারি নাইট” আঁকার পর উনার ধারনা ছিল কোন কিছুই হয়নি ওটা। অথচ পৃথিবীর মহামূল্যবান পেইন্টিংগুলোর মধ্যে তার সেই পেইন্টিং উল্লেখযোগ্য। কথিত আছে তার বন্ধু পল গগ্যা র সাথে মনমালিন্যের ফলাফল হিসেবে তিনি তার নিজের বাম কান কেটে ফেলেন। আবার কেও বলেন, তিনি তার কান কেটে কোন এক পতিতাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। Continue reading “চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ (প্রথম পর্ব)”

কেউ দেখেনি

বলেন তো আপনার শরীরের সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট অর্গান কোনটা? যেটা নষ্ট হলে লাইফ শেষ? জানি কেও বলবেন হার্ট, কেও লাং, কেও হয়ত বলবেন লিভার। অথচ যে আপনারে এটা বলার মত বোধ বুদ্ধি দিল, যে চিন্তা করার ক্ষমতা দিল, তার নাম টা ভুলেই গেলেন। মানুষ যে স্বার্থপর এটা তার প্রমাণ। সবচেয়ে যে আপন তাকে সে ইগনোর করে, তাকে ফর গ্র্যান্টেড নেয়। আমাদের শরীরের সেই অবহেলিত অর্গান, সেই সবচেয়ে কাছের জিনিসটা হল আমাদের মস্তিষ্ক। আমাদের পুরো জীবনের উপর যার নিয়ন্ত্রণ। অথচ কাওকে যখন জিজ্ঞেস করবেন,
– কেমন আছেন ভাই?
সে যদি উত্তর দেয়,
– ভাল না, শরীরটা খারাপ। সকাল থেকে ডিসেনট্রি, এই নিয়া চারবার টয়লেটে গেলাম।
আপনি আহা উহু করবেন। সমবেদনা জানাবেন, ডাক্তার দেখাতে বলবেন। Continue reading “কেউ দেখেনি”

ওথেলো সিন্ড্রোম

পৃথিবীর ভয়ংকরতম মানসিক রোগের রোমান্টিকতম নাম। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ট্র্যাজেডি নাটক ওথেলো, দ্য মুর অফ ভেনিস এর নায়ক ওথেলোর নামেই এই রোগের নামকরন করেন মনোবিজ্ঞানীরা। কৃষ্ণাঙ্গ সেনাপতি ওথেলো মিথ্যা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তার স্ত্রী ডেসডিমনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরে যখন জানতে পারেন স্ত্রীর প্রতি তার এই বিশ্বাস অমূলক ছিল তখন নিজেও আত্মহত্যা করেন। ওথেলো সিন্ড্রোম বা প্যাথলজিক্যাল জেলাসি নারী – পুরুষ উভয়ের মধ্যেই দেখা যায়। এই রোগে নারীরা কিংবা পুরুষরা তাঁদের সঙ্গিনী বা স্ত্রীকে সারাক্ষণ সন্দেহ করতে থাকেন, ভাবেন তাঁদের স্ত্রী অবিশ্বাসী, ব্যাভিচারিনী এবং সঙ্গিনীকে হারানোর ভয়, ইন্সিকিউরিটি থেকে তাঁদের মধ্যে নানা ধরনের বিহেভিওরাল ডিযঅর্ডার দেখা দেয়। যেমন, তিনি অভিযোগ করতে থাকেন যে তার বউ তার থেকে অন্যদেরকে বেশী এটেনশন দেয়! রং নাম্বার, এক্সিডেন্টাল কল থেকে শুরু করে সমস্ত ফোন কল নিয়ে জেরা করতে থাকে। পার্টনারের সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ব্যাবহার নিয়ে তাঁদের চরম আপত্তি থাকে। Continue reading “ওথেলো সিন্ড্রোম”

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (শেষ পর্ব)

কোন নাটক দেখার পর কাহিনী ও চরিত্র নিজ চিন্তায় বিশ্লেষণ করে সে নাটক-পর্ব শেষ করে তারপর অন্যকাজে যাব। ঐ নাটকের ঘটনা বা চরিত্র বা অভিনয় এরূপ না হয়ে অন্যরূপ বা ঐ ঐ রূপ হলে কেমন হতো? আমার জীবনে এরূপ ঘটনা ঘটলে কি করতাম? এভাবে নিজের সাথে নিজেরই কত কথা! কত আবিষ্কার। কত সৃষ্টি। যেকোন বিষয় পড়াশোনা বা দেখার পর এভাবে নিজের সাথে নিজেই কথা বলার অভিনয় করে করে আপনি যখন নিজের কাছে নিজেই প্রিয় অভিনেতা বা অভিনেত্রী হয়ে উঠবেন, নিজের ওপর আত্মনির্ভরশীল হবেন, তখন ভাববেন বা অন্তত ভান (pretend) করবেন যে,
– ‘আমি সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হচ্ছি, ডায়নামিক হচ্ছি, ক্রিয়েটিভ হচ্ছি, বিশেষ মানুষ হচ্ছি’। Continue reading “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (শেষ পর্ব)”

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (ষষ্ঠ পর্ব)

আমাদের দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এজন্য নিয়মিত প্রার্থনা ও মেডিটেশন করা উচিত। চাপমুক্ত জীবন-যাপন, মানসিক সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য রিলাক্সেশন বা শিথিলায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটি এখন প্রমাণিত সত্য যে, মেডিটেশন হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় দু’ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখে। রক্তের উচ্চ কোলেস্টোরেল হার্ট এটাকের অন্যতম কারণ। অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনতে পারে মেডিটেশন। মেডিকেল কলেজ অব জর্জিয়ার গবেষক বার্নেস ১১১ জন তরুণ স্বেচ্ছসেবীর ওপর গবেষণার পর বলেন,
– কোলেস্টেরল কমানোর ঔষধ ব্যবহার করে যে ফল পাওয়া যায়, সে একই ফল পাওয়া সম্ভব মেডিটেশনে। Continue reading “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (ষষ্ঠ পর্ব)”

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (পঞ্চম পর্ব)

এখন থেকে যা বলবেন ও করবেন –
১। খুব অসুস্থ না থাকলে দ্বিধাহীনভাবে সরাসরি বলুন, আমি ভাল আছি বা আমি ভাল।
২। অসুস্থ থাকলেও বলুন – ভাল হচ্ছি, ভাল হব এবং আগের চেয়ে ভাল।
৩। যখন যে অবস্থায়ই থাকুন না কেন, সেটির মধ্যেই পজিটিভ বা সুখটাকে খুঁজুন এবং সেটাতেই নিজেকে সুখী ভাবুন, সন্তুষ্ট থাকুন।
৪। কোনকিছু জটিলভাবে দেখবেন না। এতদিন যে দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখুন না কেন, এখন থেকে সবকিছু সহজ-সরলভাবে দেখার মানসিকতা তৈরি করুন।
৫। সুস্থ ও ভাল থাকার জন্য এবং তা বলতে পারার মানসিকতার জন্য প্রথমে সৃষ্টিকর্তাকে ও তারপর নিজেকে ধন্যবাদ দিন।
৬। কিছু প্রত্যাশা করার বা পাবার আগে ভাবুন,আপনি আপনার পক্ষ থেকে অবলীলায় কতটুকু দিতে পেরেছেন।
৭। আপনার ধারণার চেয়ে মানসিকভাবে আরো বড় ভাবুন আপনাকে। Continue reading “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (পঞ্চম পর্ব)”

Page 1 of 3123