মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (ষষ্ঠ পর্ব)

আমাদের দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এজন্য নিয়মিত প্রার্থনা ও মেডিটেশন করা উচিত। চাপমুক্ত জীবন-যাপন, মানসিক সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য রিলাক্সেশন বা শিথিলায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটি এখন প্রমাণিত সত্য যে, মেডিটেশন হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় দু’ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখে। রক্তের উচ্চ কোলেস্টোরেল হার্ট এটাকের অন্যতম কারণ। অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনতে পারে মেডিটেশন। মেডিকেল কলেজ অব জর্জিয়ার গবেষক বার্নেস ১১১ জন তরুণ স্বেচ্ছসেবীর ওপর গবেষণার পর বলেন,
– কোলেস্টেরল কমানোর ঔষধ ব্যবহার করে যে ফল পাওয়া যায়, সে একই ফল পাওয়া সম্ভব মেডিটেশনে। Continue reading “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (ষষ্ঠ পর্ব)”

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (পঞ্চম পর্ব)

এখন থেকে যা বলবেন ও করবেন –
১। খুব অসুস্থ না থাকলে দ্বিধাহীনভাবে সরাসরি বলুন, আমি ভাল আছি বা আমি ভাল।
২। অসুস্থ থাকলেও বলুন – ভাল হচ্ছি, ভাল হব এবং আগের চেয়ে ভাল।
৩। যখন যে অবস্থায়ই থাকুন না কেন, সেটির মধ্যেই পজিটিভ বা সুখটাকে খুঁজুন এবং সেটাতেই নিজেকে সুখী ভাবুন, সন্তুষ্ট থাকুন।
৪। কোনকিছু জটিলভাবে দেখবেন না। এতদিন যে দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখুন না কেন, এখন থেকে সবকিছু সহজ-সরলভাবে দেখার মানসিকতা তৈরি করুন।
৫। সুস্থ ও ভাল থাকার জন্য এবং তা বলতে পারার মানসিকতার জন্য প্রথমে সৃষ্টিকর্তাকে ও তারপর নিজেকে ধন্যবাদ দিন।
৬। কিছু প্রত্যাশা করার বা পাবার আগে ভাবুন,আপনি আপনার পক্ষ থেকে অবলীলায় কতটুকু দিতে পেরেছেন।
৭। আপনার ধারণার চেয়ে মানসিকভাবে আরো বড় ভাবুন আপনাকে। Continue reading “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (পঞ্চম পর্ব)”

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (চতূর্থ পর্ব)

সকালে আপনি বেশ সুস্থ শরীর নিয়েই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু এখন যেন কেমন দুর্বল দুর্বল ঠেকছে, শরীরটা একটু একটু করে খারাপ লাগতে শুরু করছে। আপনি যখন বাড়ি ফিরবেন তখন নিজেকে মনে হবে উদ্যমহীন, দুর্বল, অবসন্ন, শ্রান্ত-কান্ত। কথায় কথায় ‘ভাল নেই’ বলা যখন আপনার দৈনন্দিন অভ্যাস হয়ে যাবে, তখন আপনি বিষণ্ন অনুভব করবেন এবং প্রায়ই অসুস্থতাবোধ করবেন। আপনার কথামত ‘ভাল নেই’ তথ্য দৃঢ়ভাবেই আপনার ব্রেনে লিপিবদ্ধ হয়ে যেতে যেতে একসময় চিরস্থায়ী হয়ে যাবে। ফলে আপনার ব্রেন সেভাবেই তৈরি করে নেবে দেহটাকে। সবসময় ‘ভাল নেই’ বলার কারণে ব্রেনের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ করার ইচ্ছেও কমে যেতে থাকবে। ব্রেন তখন ভাববে,
– ‘অসুবিধাগুলো যখন কেবল মালিকই বুঝতে পারছে, তখন তা দূর করার জন্য নিশ্চয়ই মালিক সচেষ্ট হবে।’ Continue reading “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (চতূর্থ পর্ব)”

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (তৃতীয় পর্ব)

মেডিটেশন বা ব্রেন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেহ সুস্থ থাকে যেভাবে –
কারো সাথে দেখা হলে,
– ‘কেমন আছেন?’
প্রশ্ন আমরা হরহামেশাই শুনে থাকি। এ প্রশ্ন যেমন কেবল করার জন্যই করা হয়, তেমনি কখনো কখনো এর মধ্যে আন্তরিকভাবে কুশল জানার ব্যাপারও থাকে। অথচ আমরা কিছু না ভেবেই এর দায়সারা জবাব দেই, যেমন –
ক) ভাল নেই,
খ) বেশি ভাল নেই,
গ) আছি কোন রকম,
ঘ) কাটছে এক রকম,
ঙ) এই বেঁচে আছি আর কি,
চ) আছি মোটামুটি – ইত্যাদি।
একটা কিছু জবাব দিতে হয়, তাই এসব বলা। কিন্ত এরূপ নেতিবাচক জবাব দিয়ে যে কত ক্ষতির বীজ বপন করছি, তা বুঝলে কখনোই কেউ এমন বলতো না। Continue reading “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (তৃতীয় পর্ব)”

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (দ্বিতীয় পর্ব)

সুস্থ-সহজ-সরল-সবল সেই মনোজগতে তখন সবই ভাল লাগে। সবকিছুর সাথে মনের adjustment থাকার ফলে অসুখ-বিসুখ, প্রতিকূল বা নেতিবাচক পরিস্থিতিতেও বিচলিত বা বিব্রত হতে হয় না। ধীর-স্থির, দৃঢ় ও সৃজনশীল চিন্তাশক্তির কাছে যেকোন প্রতিকূলতা শেষতক অনুকূল ও ইতিবাচক হয়ে যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। ইতিবাচক শক্তি ও মননের এ মানুষটি সব পরিবেশকে নিজের বশীভূত করে বলে ওঠে,
– ‘আমার এ পৃথিবী, আমি যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাব, যা ইচ্ছা তাই করব’।
সরল চিন্তা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রকৃতি ও স্রষ্টার মহাশক্তির সাথে নিজকে সংযোগ বা align করে আত্মশক্তি বৃদ্ধি করা যায়। তাই ‘সরল চিন্তা’ জীবন যুদ্ধের জ্বালানীরূপে কাজ করে, যে ‘জ্বালানী’ সর্বদাই শক্তিতে পরিণত হয়ে লক্ষ্য অর্জনকে করে তোলে সহজ ও নিশ্চিত। এজন্যই বলা হয়, Your thought is your energy and energy is the power. Continue reading “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (দ্বিতীয় পর্ব)”

মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (প্রথম পর্ব)

Mediatation – এর বাংলা অর্থ ধ্যান,আরবিতে বলা হয় মোরাকাবা। শরীরকে শিথিল করে মনের গভীরে প্রবেশ, অতঃপর অবচেতন মনের অসীম শক্তিকে ব্যবহার করে নিরাময়, সুস্বাস্থ্য, সাফল্য, অর্থবিত্ত, বিদ্যা-বুদ্ধি, যশ-খ্যাতি ও ক্ষমতা অর্জনের জন্য বিজ্ঞানসম্মত মাধ্যম হচ্ছে ধ্যান। ধ্যান ছাড়া প্রকৃত ও মৌলিক জ্ঞানার্জন সম্ভব নয়, তাই ধ্যানই জ্ঞান। ধ্যানের মাধ্যমে দেহ শিথিল হলে ব্রেন তরঙ্গ আলফা লেভেলে চলে আসে; ব্রেনের ডান বলয় সজাগ হয়ে ওঠে। শ্বাসতন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দের ফলে কমে আসে মানসিক চাপ, টেনশন, উৎকন্ঠা, ভয়, রাগ, ক্ষোভ, রক্তচাপ। মনে জাগে একাগ্রতা, আনন্দ ও প্রশান্তি। Continue reading “মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল (প্রথম পর্ব)”

Page 2 of 41234