রোদসী আমার প্রেমিকা ছিল না

রোদসীর লাশ পাওয়া গেল সোমেশ্বরী নদীতে। পঁচা গলা লাশ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পূর্বরায়পুরের শেষ মাথায় যেখানে সোমেশ্বরী নদী বাঁক নিয়ে কাঁকনহাটির দিকে গেছে। শুকনো মৌসুমে যেখানে কচুরিপানার ফুল ফোটে, ঠিক সেখানে। পূর্বরায়পুরের কেউ একজন গরু খুঁজতে গিয়ে প্রথমে দুর্গন্ধটা পায়। সে ভেবেছিল সাপ মরা গন্ধ। কিন্তু দুর্গন্ধটা বেশি হওয়ায় সন্দেহটা বাড়ে। মানুষ মরা গন্ধ নাকি? দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছিলনা তাই সে গামছা দিয়ে নাকটা বেঁধে হাটু পানিতে নেমে দেখে একটা অল্প বয়সী মেয়ের লাশ। কাপড়-চোপড় দেখে মনে হচ্ছে লেখা পড়া জানা শহুরে শিক্ষিত মেয়ে। হাত পা সহ সারা শরীর ফুলে ঢোল হয়ে গেছে। ওড়নাটা গলায় পেঁচানো। মনে হয় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মারা হয়েছে। Continue reading “রোদসী আমার প্রেমিকা ছিল না”

ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (শেষ পর্ব)

এনএলপি’র এরকম আরো প্রচুর টেকনিক আছে। কিন্তু এই টেকনিকটা আমার নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের টেকনিক এবং আমি বহু বছর আমার মা’র মতই না জেনে এইটা প্র্যাকটিস করছি নিজের লাইফে। এই জিনিসের নাম ‘কোভার্ট হিপনোটিক পারসুয়েশান টেকনিক’। ধরেন আপনি রাত দশটায় অফিস থেকে বাড়ি ফিরছেন। একটু আগে বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা খালি। আপনি খেয়াল করলেন একটু সামনে ল্যাম্প পোস্টের নিচে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছেন। আপনার কাছে তার মতলব সুবিধার মনে হচ্ছে না। আপনি কী করবেন? দৌড় দিবেন উল্টা দিকে? চিৎকার দিয়ে কাউকে ডাকবেন? অন্য রাস্তা খোঁজা শুরু করবেন? ফোন করে কাউকে আসতে বলবেন? Continue reading “ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (শেষ পর্ব)”

ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (ষষ্ঠ পর্ব)

আমাদের বেশিরভাগ মানুষের একটা প্রধান সমস্যা হলো যোগাযোগ বা নিজের কথা আরেকজনকে বুঝাতে না পারা। ধরেন আপনি খুব নির্বিরোধী ভাল মানুষ, কিন্তু আপনার বস আপনাকে কোনো কারণ ছাড়াই দেখতে পারেন না। ধরেন আপনার বসও নিজে এমনিতে ভাল লোক, সবার সাথে মধুর করে হেসে কথা বলেন। কিন্তু আপনাকে দেখলেই উনার মেজাজ খারাপ হইয়ে শ্রীকাকেশ্বর কুচকুচের মত মুখ হয়ে যায়। আপনি হয়ত ভাবছেন দোষটা আপনার। হয়ত আপনার পোশাক উনার পছন্দ না, বা আসলেই হয়ত আপনার কাজে কোনো গোলমাল আছে। আপনি ভাবছেন নিশ্চই আপনার কথা আপনি উনাকে বুঝিয়ে বলতে পারেন না। ঘটনা আসলে তা না। সম্ভবতঃ আপনার বসের আপনার চেহারা বা কথা বা গলার স্বরের সাথে এমন কিছু নেগেটিভ স্মৃতি জড়িত, যে কারণে আপনাকে দেখলেই উনার এমিগডালা উনাকে সতর্ক করে দেয়। ফলে উনি কারণ ছাড়াই আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। Continue reading “ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (ষষ্ঠ পর্ব)”

ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (পঞ্চম পর্ব)

অনুভূতি বিজ্ঞানী ডঃ পল একমেন বলেছেন,
– “আপনার কোনো অনুভূতিই আপনার নিজের ইচ্ছায় ঘটে না। আপনার লিম্বিক সিস্টেম ঠিক করে আপনি কোন্‌ অনুভূতি অনুভব করবেন।”
আমরা মানুষরা সুপার ইনটেলিজেন্ট প্রাণি হওয়াতে বেঁচে গেছি। আমাদের ফ্রন্টাল লোব তথা প্রি-ফ্রন্টাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আছে, যা অন্য প্রাণিদের পক্ষে সম্ভব না। আগের ঘটনায় ফেরত যাই, যেখানে আপনি চাকরি হারানোর ভয় করছেন। আপনি পাশের বিল্ডিং এ লোক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেখছেন, এবং ভাবছেন চাকরি চলে গেলে আপনি নতুন জায়গায় এ্যাপ্লাই করবেন। কিন্তু এই ভাবনার সাথে সাথে এমিগডালা মারফত নিজের ভয় টের পাচ্ছেন কারণ আপনার এমিগডালা আপনাকে জানান দিচ্ছে আপনি ইংরেজিতে কথা বলতে পারদর্শী না এবং গত পাঁচ বছর একই চাকরিতে থাকার কারণে নতুন জব মার্কেট সম্পর্কেও আপনি বিশেষ জানেন না। আপনি আশংকা করছেন নতুন চাকরির ইন্টারভিউয়ে গেলেই আপনাকে লজ্জিত এবং অপমানিত হতে হবে। Continue reading “ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (পঞ্চম পর্ব)”

ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (চতুর্থ পর্ব)

ব্রেইন কম্পিউটারের মত কাজ করে বলে অনেকে বলে থাকেন। ব্রেইন কম্পিউটারের মত কাজ করে না। ব্রেইন অংক কষে না। ব্রেইন যা করে তা হলো একের সাথে অন্যের তুলনার মারফত একধরণের মূল্যায়ন করে। এমিগডালা আগের ঘটনার মূল্যায়ন সাপেক্ষে আপনার নেতিবাচক অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এমিগডালা এমন এক অর্গান যা কোনো কিছু ভুলতে পারে না। যে অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে। অর্থাৎ এর আগে আপনি সিগারেট ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং আপনার প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হয়েছিলো এই ঘটনার সাথে নিকট ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া ঘটনার তুলনা থেকে আপনি যাতে আবার একই নেতিবাচক অনুভূতি দ্বারা আক্রান্ত না হন, তাই এমিগডালা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আপনার বন্ধুর ব্যাঁকা ব্যাঁকা হইয়া ধোঁওয়া ছাড়া দেখে সেই তথ্য প্রসেস করে তার মারফত আপনি কী রিয়্যাকশান দিবেন, তার জন্য আপনি সময় নেন ৩০০ মিলিসেকেন্ড, যেইখানে এমিগডালা সেই তথ্য প্রসেস করে বসে আছে ২০ মিলিসেকেন্ডে। Continue reading “ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (চতুর্থ পর্ব)”

ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (তৃতীয় পর্ব)

যদি সংক্ষেপে পুরা প্রসেসটা আবার ব্যখ্যা করি তাহলে বলতে হবে- আমরা ইন্দ্রিয় মারফত পাওয়া তথ্য প্রসেস করে এক ধরণের ‘নিজস্ব’ মানসিক ধারণা তৈরি করি এবং এই মানসিক ধারণার উপর নিজস্ব ভাষা আরোপ করি। এই দুইয়ের সংযোগ ঘটার পরে এদের উপর ভিত্তি করে আমাদের আচরণগত প্রতিক্রিয়া ঠিক করি। এন-এল-পি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো বিশেষ কাজের প্রয়োজনে এবং আমরা যেই কাজ করি, তা আরো ভালোভাবে করতে আমরা নিজেদের ব্রেইনরে ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স এ্যালগরিদম’ ব্যবহার করে আমাদের নার্ভাস সিস্টেমকে ‘রিপ্রোগ্রাম’ করে এই সিস্টেম থেকে বের করে এনে আমাদের আচরণরে পরিবর্তন করে ফেলতে পারি। সোজা বাংলায় বলতে গেলে, এন-এল-পির মাধ্যমে যেকোনো একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে আমাদের সবচাইতে ভালো এবং স্মার্ট এবং যুক্তিযুক্ত একটা অপশন বেছে নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এমনকি যদি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমাদের সেই অপশনের কথা চিন্তা করার ক্ষমতা নাও থাকে। Continue reading “ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (তৃতীয় পর্ব)”

Page 3 of 41234