প্রবাসে যাপিত জীবন (পঞ্চম পর্ব)

এর ভিতর সময় করে দেশে ফোন দিতাম। আমি ছিলাম খুব মা ভক্ত ছেলে। মায়ের সাথে দিনে ২/৩ বার কথা না বললে পেটের ভাত হজম হতো না। দেশে কল দিয়ে প্রথমেই মায়ের সাথে কথা বলে বাসার সবার সাথে কথা বলে আবার মায়ের সাথে কথা শেষ করে ফোন রাখতাম। দেশে কল দিলে আম্মু জিগেস করতো,
– ঠিকমতো খাস তো?
– হু আম্মু খাইতে খাইতে মোটা হয়ে যাইতেছি।
– কোন কষ্টের কাজ করিস না তো?
– নাহ আম্মু কি যে বলো!
– কি কাজ করিস ওখানে?
– একটা বিশাল বড় চেইন সুপার ষ্টোরের কাষ্টমার সার্ভিসে। খুব আরামের চাকরি। সবাই খুব আদর করে।
– যাক, মাশআল্লাহ। মন দিয়ে কাজ করবি।
– আচ্ছা। Continue reading “প্রবাসে যাপিত জীবন (পঞ্চম পর্ব)”

যুবক (দ্বিতীয় পর্ব)

অপরিচিত যুবক এবার কিঞ্চিৎ নড়ে চড়ে বসলো। জিজ্ঞাসু দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে তাকালো। আমি বলতে লাগলাম,
– মানুষ এক গুচ্ছ স্মৃতির বাক্স। যে মানুষের কোন স্মৃতি নাই সে মানুষের কোন মানসিক কষ্ট নাই। জন্মের পর থেকেই আমরা বিভিন্ন ধরনের স্মৃতি জমা করা শুরু করি। সমস্ত আবেগ-অনুভূতি-জ্ঞান-অভিজ্ঞতা সব দাঁড়িয়ে থাকে আমাদের স্মৃতির উপর। আমাদের শরীরও একধরনের স্মৃতি বহন করে আর সেই কারনেই আমরা দেখতে মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানির মতো হই। সব স্মৃতি আমরা সংগ্রহ করি আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে অর্থাৎ যা আমরা দেখি, শুনি, স্বাদ নেই, স্পর্শ করি সব কিছু স্মৃতিতে জমা হয়ে থাকে। Continue reading “যুবক (দ্বিতীয় পর্ব)”

যাহা বলিব, মিথ্যা বলিব (প্রথম পর্ব)

এক
আমার নিজের গল্পগুলো এতো কাল সিন্দুকেই তোলা ছিলো। মাঝে মাঝে সেগুলোকে বের করে ঝাড়া মোছা করে আবার সযত্নে তুলে রাখতাম। কখনো কখনো একটু উদাস হলে কিংবা আবেগি কোন কথা মনে পড়ে গেলে তাদের শরণাপন্ন হতাম। তখন গল্পগুলো আমাকে সঙ্গ দিতো। আমার মনের আনাচে কানাচে থেকে হাহাকার গুলোকে বের করে নিয়ে এসে বাতাসে উড়িয়ে দিতে খুব সাহায্য করতো। আমার সেই না বলা গল্পগুলোই আজ আমার অনেক আপন। এতো এতো গল্প সিন্দুকে জমা হয়েছে যে এই এক জীবনে লিখে শেষ করা যাবে কিনা তাই ভাবি মাঝে মাঝে। আচ্ছা প্রতিটা মানুষের জীবনই কি গল্পে ভরা? মাঝে মাঝে নিজের জীবনটাকে মেডুসার অভিশপ্ত জীবনের মত মনে হয়। যখনি আড়াল থেকে আলোর মুখ দেখতে চেয়েছি, তখুনি এথেনার অভিশাপের মত কোন না কোন শাপ-শাপান্ত ছাড়েনি পিছু। ক্রমাগত তাই নিজের প্রতিফলন নিজের কাছেই হয়ে উঠছে ভয়ংকর। Continue reading “যাহা বলিব, মিথ্যা বলিব (প্রথম পর্ব)”

বিষময় বিস্ময় (প্রথম পর্ব)

এক
হুমায়ূন আহমেদ স্যারের মৃত্যুর পর মিডিয়া শাওনকে প্রশ্ন করেছিল,
– আপনি কি জীবনে আর কাউকে চাইবেন?
শাওন বলেছিল,
– আমি সারাটা জীবন লেখকের স্ত্রীর পরিচয়টা নিয়ে থাকতে চাই। আর কিচ্ছু না!
অনেকটা জীবনের শেষপ্রান্তে এসে হুমায়ূন শাওনকে প্রকাশ করেছিল তার মনের সুপ্ত বাসনা। প্রপোজ করেছিল এই বলে,
– ‘গুহাচিত্র যারা আঁকতেন, তাদেরও কাউকে লাগত ওই অন্ধকারে প্রদীপটা ধরে রাখার জন্য। যাতে সেই চিত্রকর নিজের কাজটা করতে পারেন। তুমি কি আমার জন্য সেই আলোটা ধরবে?’
শাওন ধরেছিল সেই মশাল। সেই আলো। ছাড়েনি কোনদিন। Continue reading “বিষময় বিস্ময় (প্রথম পর্ব)”

কুহেলী

“বোঝাতে কি পেরেছি তোমাকে যে তা –
হৃদয়ে নিভৃতে এই সুখ বারতা।”

আপনি কি জানেন, যখন আপনি কাউকে ভালোবাসতে শুরু করেন, ঠিক তখন আপনি একই সাথে কষ্ট পেতেও শুরু করেন। আর যখন আপনি কষ্ট পেতে শুরু করেন, তখন আপনি ঘৃণা করতেও শুরু করেন। যখন আপনি তাকে ঘৃণা করতে শুরু করেন, তখন আপনি তাকে ভুলে যেতে চেষ্টা করেন। যখন আপনি তাকে ভুলে যেতে চেষ্টা করেন, তখন আপনি তাকে মিস করতে শুরু করেন। এবং যখনই আপনি তাকে মিস করতে শুরু করেন, ইভেঞ্চুয়ালি আপনি আবার তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। স্বীকার করুন আর নাই করুন, এটা লাইফের একটি ট্রু ফ্যাক্ট! Continue reading “কুহেলী”

বয়স হয়েছে

বয়স হয়েছে।
আরে আমার কথা বলছি মশাই।
এই কিছু কাল আগেও আমি নিতান্তই “বয়স হয়েছে” টাইপ বিষয়গুলো হেসে খেলে উড়িয়ে দিতাম। কিন্তু সেদিন যা একটা কান্ড ঘটেছে, যার কারনে এখন আমাকে মেনেই নিতে হচ্ছে- “আমার বয়েস হয়েছে।”
এইতো সেদিন মিটিং এ দেরী হয়ে যাবে বলে তাড়াহুড়া করে উল্টো টিশার্ট পড়েই বাসা থেকে বের হলাম। আম্মুকে বললাম,
– বাহিরে যাচ্ছি, ফিরতে দেরী হবে।
আম্মু আমার দিকে একবার তাকিয়ে আবার নিজের কাজে মনযোগ দিলো। বাসা থেকে অনেকটা পথ হেঁটে এসে বাসে উঠলাম। পাশের সিটের ভদ্রলোক প্রশ্ন বোধক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেও আমি হাসি হাসি মুখ করে এই প্রথম সহযাত্রীর সাথে কথা ও বললাম। Continue reading “বয়স হয়েছে”

Page 10 of 33« First...89101112...2030...Last »