বিষময় বিস্ময় (পঞ্চম পর্ব)

তেরো
বলা বাহুল্য রাণুর বাবা কবিগুরুর চিঠি পেয়ে মহাখুশী হতেন। নোবেল বিজয়ী কবি বলে কথা। এভাবে শীত গ্রীষ্ম বসন্ত সবসময়ই রাণুর বাবাকে তিনি চিঠি লিখে তিনি রাণুর খোঁজ খবর করতেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের সুখ বেশিদিন রইলো না। একটা পর্যায়ে নানান মানুষ নানান কথা বলতে শুরু করলো। লোকের কান ভাঙানিতে আর টেকা যাচ্ছিল না, আর এতে রবীন্দ্রনাথ বাধ্য হয়ে একটা অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি নিজেই রাণুর বিয়ের ব্যবস্থা করলেন। এবং মহা ধুমধামের সঙ্গে রাণুর বিয়ে দিলেন। রাণু এতে মনে মনে কবিগুরুর উপর ভীষণ চটেছিল, যদিও সেভাবে কিছুই বলে নি।

চৌদ্দ
যথারীতি সে আমাকে মাঝে মাঝেই ফোন দিত। বেশ লম্বা সময় নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে এ প্রসঙ্গ থেকে ও Continue reading “বিষময় বিস্ময় (পঞ্চম পর্ব)”

ব্যাচেলর ট্রিপ

সুযোগ পেলে ‘অমানুষ’ হয়ে জন্ম নিতাম। অন্তত ‘অমানুষ’দের সাথে মিশতে মিশতে তাদের বুঝতে পারতাম। তারপরের জন্মে না হয় ‘মানুষ’ হয়েই জন্ম নিতাম। সে জন্মে এক পলকেই ‘অমানুষ’ নামের কালসাপদের এক দেখাতেই চিনতে পারতাম। কোন এক অজানা কারনে ‘অমানুষ’ শ্রেণী মানুষের সাথেই বেশি দেখা হয়। এদের মায়ার জাল বাংলাদেশ থেকে চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত। আমিও মাছের মতো নির্বোধ। ‘আহার’ বলে অনায়াসেই বিশ্বাস করে গিলে ফেলি বরশি। উগরাতে পারি ঠিকই, তবে যতক্ষণে পারি ততক্ষণে মৃত্যুদেবতার সাথে একটা ছোটখাটো ‘চা-চক্র’ হয়ে যায়। তবুও আমি বলি,
– কোনো খেলাতেই আমি হারি না। প্রত্যেক খেলাতেই আমি হয় জিতি না হয় শিখি। যদিও শেখার পাল্লাটা ক্রমশই ওজনদার হয়ে যাচ্ছে। তবুও বলি, লাইফ ইজ বিউটিফুল। Continue reading “ব্যাচেলর ট্রিপ”

লাল খামে নীল চিঠি

লাল খামে নীল চিঠি। বলেছিলাম, তোমার মাঝে লুটপাট হয়ে যাবো। অলিগলি মাড়িয়ে অরণ্যে হারিয়ে যাবো। মেঘবৃষ্টির টিপটিপ জলকণা মেখে নেবো শরীরের রন্দ্রে রন্দ্রে। আরো বলেছিলাম, তোমার গায়ের সোঁদা গন্ধ দিয়ে আবির মেখে আমার চোখ রাঙাবো, আমার ঠোঁট রাঙাবো। রাঙিয়ে নেবো কপলদ্বয়। জলসিঞ্চন বিন্দু বিন্দু কপালের এপার ওপার। নহর ছুটবে জল মিলনে। বলেছিলাম, অনামিকায় চুমুর টিপ পড়িয়ে দেবো বারবার। আদ্রতা শুণ্যের কোঠায় নেমে এলেই ফের এঁকে দেবো চুম্বন টিপ। মধ্যমায় এঁকে দেবো কাজলকালো তিল। চদ্রবিন্দুর মতো তাতেই রঙ দেব চুম্বনটিপের। সেই চিঠি আছে কি তোমার কাছে? কোথায় রেখেছিলে সে চিঠি? যতনে না অবহেলায়? নাকি ভালবাসার পাপড়িতে মোড়ানো প্রেমের ড্রয়ারে? Continue reading “লাল খামে নীল চিঠি”

আঙুরফল টক

পরিবেশ পরিস্থিতি একটা মানুষের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষ যে পরিবেশে বড় হয়, যে পরিবেশ দ্বারা বেষ্টিত থাকে, মূলত সেখান থেকেই তা শেখে, ওখানে যা। কলকাতার মানুষদের আমরা কৃপণ বলে জানি। এটা তারা বংশ পরম্পরা ধরে বহন করে আসছে। বস্তিতে যে ছেলেটা বা মেয়েটা বড় হয়, তার মানসিকতা কিন্তু ওই বস্তির আবহতেই। ওখান থেকে যদি কেউ ভিন্নতর হয়, সেটাই আমাদের চোখে পড়ে। এ ক্ষেত্রে বন্ধু নির্বাচন বা আড্ডাসঙ্গী নির্বাচনও ফ্যাক্ট। কবিদের আড্ডায় প্রায় কবিই থাকেন সব, ড্রাগ এডিক্টেডদের আড্ডাতেও একই সূত্র। নিরাশাবাদীর সাথে থাকলে আপনিও নিরাশাবাদী হবেন, এটা ধরেই রাখেন। যদি না হোন সেটা আপনার অসম্ভবপ্রায় ক্ষমতার বহি:প্রকাশ।

মানুষ তার চারপাশে থেকে শেখে। নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো মানুষের শেখার Continue reading “আঙুরফল টক”

আমি একজন বলদ ইঞ্জিনিয়ার

আপনাকে অবশ্যই ফেসবুক আইডি হ্যাকিং বা ফিশিং সম্পর্কে জানতে হবে। মানুষের ধারণা, আইটির স্টুডেন্ট হিসেবে আপনার এটা প্রাইমারি লেভেলের একটা কাজ। এটা যদি না পারেন, বাপ-মায়ের পয়সা নষ্ট করে পড়াশোনা করার কোনো দরকার নেই আপনার। আপনাকে কম্পিউটারের অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করা জানতে হবে এবং একই সঙ্গে কোন অ্যান্টিভাইরাসটা সবচেয়ে ভালো, সে সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান থাকতে হবে। ফোনের ব্যাটারিতে চার্জ থাকে না কেন, ফোন হুটহাট হ্যাং করে কেন — এসব ব্যাপারে আপনার জানাশোনা না থাকলে বিপদ। সাধারণ একজন মানুষের গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডের ফেসবুক আইডিতে ঢুকে তার ইনবক্স দেখার মতো অসীম ক্ষমতা আপনার থাকতেই হবে। Continue reading “আমি একজন বলদ ইঞ্জিনিয়ার”

প্রবাসে যাপিত জীবন (দশম পর্ব)

জাপানিজ টকিজ
কলেজে উঠার পর থেকেই মাথার মধ্যে ভূত চাপে আমার। ডকুমেন্টারি, ড্রামা, মিউজিক ভিডিও, অ্যাড, শর্ট ফিল্ম এবং ফুল লেংথ ফিল্ম বানানো দরকার। সকাল-বিকাল আইডিয়ারা মাথা ধরে ঝাকি মারে, আর নিদ্রায়-জাগরনে হ্যান্ডিক্যাম নিয়া ডিরেকশন দেয়ার জন্য মনখানা অকারনে আকুলি-বিকুলি করে। জাপানে এসেছি আর বিশ্ব বিখ্যাত জাপানিজ থিয়েটার দেখবো না তা কি হয়? সেদিন আমি আর আমার বন্ধু গিয়েছিলাম জাপানিজ থিয়েটার দেখতে। এক কথায় চমৎকার। অন্যরকম অভিজ্ঞতা। সব কিছু ঠিক ছিলো, শুধু ভাষাটাই বুঝি নাই। Continue reading “প্রবাসে যাপিত জীবন (দশম পর্ব)”

Page 2 of 3312345...102030...Last »