সুহাসিনী

প্রিয়তমেষু,

পত্রের শুরুতেই শুভেচ্ছা নিও। ভাল আছো তো? না থাকলেও থেকো। ভাল থাকাটা দরকার। যদি তাও না পারো অন্তত অভিনয় করো ভাল থাকার। এটাই এমূহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। ঠিক যেভাবে ভাল থাকে আগুনের সঙ্গে অক্সিজেন। তুমি তো একা থাকতে পারো না প্রিয়তমেষূ। তার পরেও জীবন তোমাকে একাই চলতে শিখিয়েছে। চলতি পথে যখন সামনের পথ রুদ্ধ হয় ঠিক হরর মুভ্যির দৃশ্যপটের মতো, তখন চোখ বন্ধ করে একবার গভীরভাবে শ্বাস ছেড়ে পা ফেলো সামনের পানে। বিশ্বাস রেখো সৃষ্টি কর্তায়। একটু কষ্ট হবে বৈকি। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণের নয়। তুমি পারবে, পারতে তোমাকে হবেই। ঠিক যেভাবে মানুষ তৈরি করেছে মহাকশের মধ্যে যন্ত্রযান। সেখানেও কিন্তু মানুষ থাকে, তা কি তুমি জানো না?

ফিরে তাঁকাও ফেলে আসা পেছনের দিকে। চোখ বন্ধ করো। Continue reading “সুহাসিনী”

কাগজের নৌকা

সব কিছুতেই মুগ্ধ হওয়ার অসম্ভব ক্ষমতা আমার। আশেপাশের যাই দেখি তাতেই মুগ্ধ হই। রাস্তার পাশে মুড়িওয়ালাকে দেখে অবাক হই। খুব নিমগ্ন চিত্তে তাঁর মুড়ি মাখানো দেখি। হাত আর চোখের সন্নিবেশন দেখি। কত অল্প সময়েই সে একঠোঙ্গা মুড়ি মাখিয়ে ফেলে। দুর্দান্ত। মাঝেমধ্যেই দেখি এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে গান গাইতে গাইতে রিক্সা চালাচ্ছে চালক। একই সাথে তাঁর ব্রেইন কত নিখুঁতভভাবে কয়েকটি কাজ চালাচ্ছে। গান, প্যাডেল, দিক, গানের সাথে সাথে হয়তো সে কোন স্মৃতি মনে করছে। অপূর্ব।

রাস্তায় হাটার সময় আমি প্রায়শঃ চারদিকে দেখতে দেখতে যাই। আমার ভাল লাগে। মুগ্ধ হতে ভাল লাগে। ছোটবেলায় বাবার সাথে Continue reading “কাগজের নৌকা”

আমিই আমার সিন্ডিকেট (পঞ্চম পর্ব)

আমি যার হাতে ফুল তুলে দেই,
সে-ই প্রথম ভুল বোঝে আমাকে।
কিছু মানুষ আমার কাছে ফুল প্রত্যাশা করে। আমি জানি তারা আমাকে পছন্দ করে বলেই হয়তো তাদের পছন্দের কথা জানাতে দ্বিধা বোধ করে না। কিন্তু আমি তাদের কিছুই বলি না। হেসে ব্যাপারখানা হালকা করে ফেলি। আবার উপরের কবিতাখানাও অনুচ্চারিতই থেকে যায়। ভালোবাসার ক্ষুদা অসম্ভব রকমের ভয়ঙ্কর ব্যাপার। এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার কাছে সাধারণ মানুষ কিছুই না। আর তাইতো এই ভালোবাসা নামক মায়াই কিছু মানুষকে রাত জাগা শেখায় আর কিছু মানুষকে রাতের আঁধারে পালিয়ে বাঁচায়।

সৃষ্টিকর্তা মানুষকে অসম্ভব অনূভুতি দিয়েছেন, দিয়েছেন অসম্ভব আনন্দিত হবার ক্ষমতা। যিনি কষ্ট দেন আনন্দও নিশ্চয়ই তাঁরই দেয়া। Continue reading “আমিই আমার সিন্ডিকেট (পঞ্চম পর্ব)”

ছেলেবেলার আঁকি-বুঁকি

ছোট বেলায় প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকার ঝোঁক ছিলো। কিছু না পেলেই প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকতে বসে যেতাম। ছবিতে থাকতো একটা বড় ঘড়। তারপাশে ছোট ছোট আরো কিছু ঘর। বড় ঘড়ের পাশে কিংবা পেছনে একটা বিশাল আকারের গাছ। পাশে কূপ অথবা টিউবওয়েল। তার পাশে একটা খড়ের পুঁজি। কিছু লম্বা সুপারি গাছ আর খেজুর গাছ। একদিকে কলা গাছ। বাড়ির একপাশে বাঁশের বেড়া। তারপর বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। মাঠের মাঝ দিয়ে সরু মেঠো একলা পথ দূরে গিয়ে মিশেছে। দূরে কাগজের একমাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত সবুজ গাছ। সামনে দিয়ে নদী এঁকেবেকে দূরে চলে গিয়েছে।

নদীর মাঝে দুদিকে দুটো চলমান পাল তোলা নৌকা। Continue reading “ছেলেবেলার আঁকি-বুঁকি”

তিমির হননের গান

নিঃশ্বাসে বুক ভার হয়ে আসে খুব। নিজের জন্য যখন আর কিছুই পাইনা। ছোটবেলায় অন্ধকার ভয় পেতাম। গভীর রাতে ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে বিচিত্র কারণে ঘুম ভেঙে যেতো সাথে সাথেই। ভয় পাওয়া গলায় বাবাকে ডাকতাম। বাবা উঠে এসে আলো জ্বালিয়ে ঘরের মাঝে রাখতো। তারপর নিভু নিভু আলোর দিকে পাশ ফিরে শুয়ে জেগে থাকতাম। তারপর একসময় ঘুমিয়ে পড়তাম। এখন অভ্যেস বদেলেছে অনেক। কিংবা হয়তো আমিই অনেকখানি বদলেছি। সামান্য আলোতেও ঘুম আসেনা। বা সামান্য আলোতেই ঘুম ভেঙে যায়। একরাশ হতাশা জমে আছে নিজের মধ্যে। এখন বিষন্নতার চেয়ে শূন্যতার পরিমান অনেক বেশি।

এখন যখন অনেক কিছুই বুঝতে পারি তখন মনে হয় না বুঝাতে শেখাটাই ভালো ছিলো। Continue reading “তিমির হননের গান”

চড়ুই জীবন

কয়লা যেমন পুড়তে পুড়তে হীরা হয় তেমনি আমিও রোবট হয়ে গিয়েছি। আবেগ অনুভূতির গলায় ফাঁস লাগানো শিখে গিয়েছি অনেক কাল আগেই। তবে কোন তপস্যা বা আরাধনার ফসল নয় এটি, বাস্তবতার দুর্দান্ত নির্মমতার শিক্ষার ফল। যতটুকু আজকে আমি, তার সবটুকুই ভাগ্যের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ক্লান্ত ফলাফল। আমি যুদ্ধ করতে জানি। জানতে হয়েছে, জন্মের পরক্ষণ থেকেই। বেশিরভাগ সময়ই ভাগ্যদেবীর সাথে খেলি রক্তাক্ত তলোয়ার খেলা। হার – জিৎ সমানে সমান। জিতে যাওয়া যুদ্ধের ফসল কতখানি নিজের ঘরে উঠেছে, হালখাতার ঘরে শূন্য’- তার দালিলিক প্রমাণ দেয়। তবুও যেহেতু আমি দোপেয়ে দৈত্য- সেহেতু নিজের স্বার্থের কথাও ভাবি।

ভয়াবহ মানুষিক দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে যখন আমি মানুষিক ভাবে কোমায় পড়েছিলাম, Continue reading “চড়ুই জীবন”

Page 3 of 3312345...102030...Last »