শব্দ সমুদ্রের গর্জন

আসলে কিছুই বলা হলো না। এতো কথা বললাম, এত যে শব্দের পিঠে শব্দ বসাতে কুকুরের মতো জিভ বের হয়ে এলো, শব্দে শব্দে রীতিমতো তৈরি হলো কোলাহল, তবু আসলে কিছুই বলা হয়নি। চিঠি, কবিতা, ডায়েরী, চিরকুট – সবই আমার দিকে তাকিয়ে এখন হাসছে। তাদের দাঁতের রঙ হলুদ। আচ্ছা পিঠের মধ্যে অক্ষর লিখে যদি বলি পড়ো। তবে তুমি কয়টা পড়তে পারবে আর কয়টা পারবে না? কিছুই বোঝা যায় না। Continue reading “শব্দ সমুদ্রের গর্জন”

কখনো ভালবাসিনি

হে ঈশ্বর,
মানুষের হৃৎপিণ্ড থেকে বলছি।
বেঁচে থাকা নিষিদ্ধ করো,
নয়তো ভালবাসাকে ছোঁয়াচে করে দাও।
প্রেমের মৃত্যু হোক
অথবা ব্যাধির মতো সংক্রামিত হোক,
হৃদয় থেকে হৃদয়ে।

আমি কখনো ভালবাসিনি। ভালবাসলেতো সারাক্ষন কুয়াশার ঘোরে থাকতাম। তখন, পাখিদের মনে হতো লাল, নীল, সবুজ। খুব ভোরে উঠে সূর্যে দেখতাম লাল রক্তজবা, ঘাসের সবুজে আপদামস্তক নগ্ন পড়ে থাকতাম দুই চোখ বুজে তাকে খুঁজে খুঁজে। হাঁটতাম পথে পথে, রাজপথে কেঁপে কেঁপে তার নাম জঁপে। কখনো মেপে মেপে, খুব সাবধানে, পা ফেলতাম রাস্তাআআয়। কিংবা দ্রুতগামী ট্রাক দেখে মালা ভেবে বুকের উপর তাকে ডেকে আনতাম। Continue reading “কখনো ভালবাসিনি”

সার্থপরতা

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ;
যারা অন্ধ, সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই,
প্রীতি নেই, করুণার আলোড়ন নেই;
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।

আমি একজন ভালো শ্রোতা। তবে আমার শ্রোতা কেউ নেই। সার্থপরতা আর কি! দীর্ঘ পথচলা থেকে এ অভিজ্ঞতা আমার। আমি সবার দুঃসময়ের জন্য। আর আমার বেলায় সবাই আমার সু-সময়ের জন্য। আমার ভেতর অনেক থু থু জমে আছে। ইচ্ছে করে সব গুলো থু থুই ছুঁড়ে দেই। কিন্তু যেদিকেই ফেলিনা কেনো আমার উপরেই এসে পড়বে। Continue reading “সার্থপরতা”

বৃষ্টি কিংবা জলের কাব্য

মানুষ গিয়েছে জলে
জলেরা এসেছে বুকে,
বাতাসে ছড়ানো দুঃখ গন্ধ
নাকেরা নিয়েছে শুকে।
বিলাসী মেঘের ঢলে
বৃষ্টিরা পড়ছে নেমে,
অপেক্ষায় থাকা চোখ
তাইতো উঠছে ঘেমে।
কান্না ও বৃষ্টির গায়ে
দেখিতো একই রং,
কান্নাইতো বৃষ্টির আদল
রৌদ্র দেখায় ঢং।

বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে। খোলা জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখছি। সময়ের ঘড়ি উল্টো ঘুরতে শুরু করলো, নিয়ে গেলো অনেক পেছনে। কোন এক বৃষ্টির দিনে তোমায় ডেকেছিলাম, ব্যাস্ত ছিলে। তারও কিছুদিন পরে, আরেক বৃষ্টির দিনে নিমন্ত্রণ দিয়েছিলাম, বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হওয়ার। তখনও তুমি ব্যাস্ত ছিলে, ভুল স্বপ্ন দেখায়। Continue reading “বৃষ্টি কিংবা জলের কাব্য”

জীবন ফুরালো নাকি

জীবনে পেয়েছি অনেক। তবুও না পাওয়ার দুঃখটা কম নয়। না পাওয়ার দুঃখ, পেয়ে হারানোর দুঃখ, বঞ্চিত হবার দুঃখ, অপ্রয়োজনীয় দুঃখ – এত রকমের দুঃখ পেয়েছি যে, আর একটু সাধনা করলে হয়তো বড় কবি হতে পারতাম। না, অভিমানী হয়ে জন্মাইনি। তার পরেও বার বার পৃথিবীর সবকিছুর উপর অভিমান জন্মেছে। রাগে দুঃখে মাঝে মাঝে মনে হয়েছে পৃথিবীটাকে ভেঙ্গে চুড়ে কোথাও ফেলে দেই। সম্ভব হলে সত্যিই নষ্ট পৃথিবীটাকে ডাষ্টবিনে ফেলে দিতাম। কষ্টের অতিশয্যে আত্নহত্যার কথাও ভেবেছিলাম বার বার। Continue reading “জীবন ফুরালো নাকি”

তবুও স্বপ্নের পাখিরা উড়ে

তবুও নদী মানে স্নিগ্ধ শুশ্রুষার জল
সূর্য মানে আলো,
এখনো নারী মানে তুমি
কতো রাধিকা ফুরালো।

মাঝে মাঝে নিজেকে অত্যন্ত নিঃসঙ্গ মনে হয়। আর এই নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য আমি গান শুনি, বই পড়ি। কিন্তু কেউ কি আমার এই শূন্যতার কথা বোঝে? না, কেউ বোঝে না। বুঝতে চায় না। তাই কখনো কখনো এই আমি সেই নিঃসঙ্গতার চাকায় পিষ্ট হয়ে যাই। বেঁচে আছি অ-ন-ক কষ্ট এবং কিছু তোলপাড় নিয়ে। Continue reading “তবুও স্বপ্নের পাখিরা উড়ে”

Page 30 of 33« First...1020...2829303132...Last »