মরিচ বাত্তির রোশনাই

সন্ধ্যা বেলা। বাসায় ফিরছিলাম। রাস্তায় বাল্য বন্ধুর সাথে দেখা। আমাকে দেখেই জাপ্টে ধরে বলতে লাগলো,
বন্ধু – কিরে দোস্ত, এইটা একটা কাজ করলি?
আমি অবাক হয়ে বললাম,
মি – আমি আবার কি করলাম?
বন্ধু – তোর বিয়ে ঠিক হইছে আর আমারে জানাইলি না।
আমি দ্বিগুণ অবাক হয়ে বললাম,
মি – আমার বিয়ে ঠিক হইছে? কবে? কখন? কোথায়?
বন্ধু আমার হতাস কন্ঠে বলল,
বন্ধু – তুই আমার সাথে মষ্করা করস?
মি – তুই কি আমার শালা নাকি যে মসকরা করবো? আমার বিয়া আর আমি জানিনা? আগে বল, এমন মশকরা তোর সাথে তোর কোন শালায় করলো? Continue reading “মরিচ বাত্তির রোশনাই”

পাথর সময়

এক ছোট ভাইয়ের গল্প। তার নাম রহিম। এক ক্লায়েন্টের সাথে একটা প্রজেক্ট নিয়ে রহিমের ডিল ফাইনাল হয়। ডিল অনুযায়ী ক্লায়েন্ট তাকে কিছু টাকা অ্যাডভ্যান্স করে। এরপর প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়। ডেডলাইন অনুযায়ী কাজও শেষ হয়। তবে আর দশটা কাজের মতো, এখানেও একদিন লেট করে রহিম। এটা বাংলাতটের প্রেক্ষাপটে জগৎসংসার উদ্ধার বা ধ্বংস হওয়ার মত ঘটনা নয়। এরপর ক্লায়েন্ট আর প্রজেক্টটা হ্যান্ডওভার নেননি। তখনকার কারন হিসেবে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁদের ( ক্লায়েন্ট পার্ট) ইন্টারনাল ঝামেলা। ইনভেস্টমেন্ট এ নাকি ঝামেলা হচ্ছে। গল্পটা এখানেই শেষ। তবে গল্পের আরও একটা পার্ট আছে। তা হলো- সেই ক্লায়েন্ট এখন এর কাছে ওর কাছে নাকি বলে বেড়াচ্ছেন, রহিম নাকি তাঁর টাকা মেরে খেয়েছে। রহিম এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, Continue reading “পাথর সময়”

বিষময় বিস্ময় (চতুর্থ পর্ব)

দশ
গতবছর সমরেশ মজুমদার এসেছিলেন বাতিঘরে। এক যুবতী বলেছিল,
– ‘সমরেশ আমি আপনাকে ভালবাসি!’
লেখক বুঝেছিলেন যুবতী তাকে নয়, তার কলমকে ভালবাসে। হয়তো যুবতী তার সাতকাহন উপন্যাসে মজেছিল।

এগারো
আপাতত সকল প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় এই আমি। এক সময় ভাবলাম, কার – কাকে – কখন – কিভাবে ভালো লেগে যায় তা সে নিজেও জানে না। এটা হতেই পারে। Continue reading “বিষময় বিস্ময় (চতুর্থ পর্ব)”

তাহারেই পড়ে মনে

কয়েক বছর মাত্র তার পরেও মনে হয়, দেখতে দেখতে কেটে গেছে কত সহস্র শ্রাবণ। তবুও চলছি কদমফুল বিছানো পথ ধরে একান্ত মনে, একা। আপন অনেকেই পাশে আছে তবে বিশেষ কেউ নেই। তার না থাকাই আমার সবটুকু জুড়ে থাকায় বিদ্যমান। কিন্তু এই কেউ একজন যে আপনের চেয়েও বেশী কিছু তা বুঝতে শত আলোক বর্ষ পাড়ি দেয়া লাগে না। আজ গাঢ় অন্ধকারেও পথ চলতে কোনো সমস্যা হয় না আমার। হবে কি করে? আমার পথকে আলোকিত করে রেখেছে সে। দেখিয়ে দিয়েছে প্রিয় বর্ষার অন্ধকারেও পথচলার আলোর সন্ধান। সাথে দিয়েছে বুকভরা ভালোবাসা আর মুঠো ভরা বন্ধুত্ব। কে পারবে তার মতো করে আমায় আপন ভাবতে? একান্ত নিজের বন্ধু করে, একই ছাতার তলে পাশাপাশি হাঁটতে? Continue reading “তাহারেই পড়ে মনে”

প্রবাসে যাপিত জীবন (নবম পর্ব)

সেই আমিই একদিন খুব অল্প দিনেই অনেক আপন হয়ে যাওয়া প্রবাসী এক ভাইয়ের ম্যাসেজ পাই ফেইসবুকে। সে জানালো, দেশে এসেছে। আমিও তাকে অভিনন্দন জানালাম। কথা দিলাম একদিন তার সাথে দেখা করবো। সেই ভাইটা আমাকে অনেক বেশী অবাক করে দিয়ে বলল,
– আমার জন্য একটা গিফট আছে। বসুন্ধরা শপিং মলে তার বড় ভাইয়ের দোকানে রাখা আছে।
আমি যেন কালেক্ট করি।

আমিও যথা সময়ে গিফটটা হাতে পেলাম। বাসায় এসে খুলতেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। Continue reading “প্রবাসে যাপিত জীবন (নবম পর্ব)”

মানুষনামা

আমি এক অণুজীব। সৃষ্টিকর্তার মহিমায় মানুষ রূপে এই পৃথিবীতে আমার বসতি। কি ছিলাম আমি। সামান্য এক শুক্রাণু থেকে আমার যাত্রা। যেদিন পৃথিবীর আলোয় চোখ খুললাম। সেদিনও কি জানতাম আমার অস্তিত্ব কোথায়। না জেনে না বুঝে তবুও মায়ের বুকের শেকড়ে মিশে নিজের শরীরের ক্ষুধা মিটিয়েছি। আমাকে তো তখনো জানানো হয়নি কে আমি। কোথা থেকে এলাম। আর কোথায়ই বা যাবো। আমাকে বলা হয়নি কেনই বা এলাম। আজো তার উত্তর খুঁজে চলেছি। মায়ের মায়াময় দুটো হাত আমায় আগলে রাখলো। বড় করে তুললো মায়ের আশীর্বাদের চুমুতে। ঘুমের মাঝেও হঠাৎ কেঁদে উঠলে মায়ের শরীরের গন্ধে আবার ঘুমিয়ে যেতাম। কে বলেছিলো ইনিই আমার মা। ইনিই আমার পিতা। মায়ের ভাগ দিতে চাইতাম না যাকে সে আমার বোন। মাকে কেউ ধরলে কেন আমি হাত সরিয়ে দিতাম। কে শিখিয়ে দিলো আমায় হিংসে করতে। Continue reading “মানুষনামা”

Page 5 of 33« First...34567...102030...Last »