কর্পোরেট স্লাট (প্রথম পর্ব)

২০০১ সাল। ঘটনাস্থল উত্তরা ৭ নং সেক্টর। আমি যে বাড়ীতে থাকতাম তার পাশেই ছিলো বেশ কিছু হোষ্টেল। একটি হোস্টেলের নাম ছিল ‘প্রথম হোস্টেল’। সেই বাড়ীতে এখন ‘উত্তরা ইউমেন কলেজ’ এর ক্যম্পাস। আমি থাকতাম এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সাথে। ৭ নং সেক্টরে তখন এরকম ছেলেদের হোস্টেল ছিল ৪০ টির মত আর সবগুলোতেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্র থাকত। আর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি কতৃপক্ষের তত্বাবধানে একটা মেয়েদের হোস্টেল ছিল যা ছিল ক্যাম্পাসের একদম কাছে ৭ নং রোডে। সেই বাড়ীতে এখন একটা স্কুলের ক্যম্পাস। মেয়েদের হোস্টেল ছিল ৪ তলা বিল্ডিং। প্রায় শ’খানেক ছাত্রী থাকত। বাইরে কড়া সিকিউরিটি পাহারা দিত। হোস্টেলের চাবি থাকত মেয়েদের কাছে। কেউ (শুধুমাত্র মেয়ে) Continue reading “কর্পোরেট স্লাট (প্রথম পর্ব)”

মিস ভ্যালেন্টাইন

ভ্যালেন্টাইন ডে হ্যাজ গন। বয়েজ-গার্লস, ওয়াইফি- হাবি, জাবি সবার ঘুম হারাম ছিলো এই দিনটাকে নিয়ে। একদল এই চিন্তায় যে এইবার তাকে কিভাবে খুশি করা যায় আরেকদল এই চিন্তায় যে দেখি ও কি করে আমার জন্য। কোনটা কোনদল এটা ক্লারিফাই করে দিয়ে আমি কোনো কোন্দলে জড়াতে চাইনা তাই নিজেরাই বিবেচনা করে নেন। তবে এ বিষয়ে একটা পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করতে চাই। গতবছর ভ্যালেন্টাইন ডে’র দুইদিন আগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড গিয়েছিলাম একটা কাজে। ভিতরে ঢুকে আমি পুরাই টাস্কিত। মেয়েদের আংটির ডিসপ্লের সামনে শত শত পুরুষ। অথচ ছেলেদের আন্টির ডিসপ্লের সামনে একটা মাছিও নাই। আমি ভাবি, কেম্নে কি। নতুন কোনো ট্রেন্ড আসছে নাকি। ছেলেরা সব মেয়েদের আংটি কিনে কেন? একটু পর স্মরণে আসলো দুইদিন পর তো পোলাদের মরণ ডে। প্লিজ গার্লস উত্তেজিত হবেন না। কিন্তু কেন? Continue reading “মিস ভ্যালেন্টাইন”

আমার নাম মানুষ

এই শহরে প্রতি মিনিটে ঘটে যায় হাজার ঘটনা, কখনো দূর্ঘটনা। সামিল হতে হয় আমাদের, আশেপাশে সকলের। উড়ো মন্তব্য কানে আসে, গায়ে এসে লেগে বসে। কখনো অপমানের তীক্ষ্মতা কেটে বসে গলার উপর। বুকে চেপে আসে হাজার প্রতিবাদ, কখনো সূক্ষ্ম ভাবে এড়িয়ে যেতে হয়, কখনো ঝড় তুলতে হয় প্রতিবাদে।
– মাইয়া মাইন্সের এমনে ফাল দিয়া জীবনে বাসে উঠবার দেহি নাই। আর কতো দেহুম আল্লা খোদা জানে।
-সন্ধ্যার পর পল্লিবিদ্যুৎ যাচ্ছে। নিশ্চয়ই মেয়ের সমস্যা আছে।
-মেয়েটি হোস্টেলে থাকে। না যেন কত কি করে বেড়ায়।
-বাবা মা ই বা কেমন এত বড় মেয়েকে হোস্টেলে দিয়ে রাখছে!
আরে চুপ থাকো না, পরের মেয়ে যাই করুক আমাদের কি?
– আপু, আপনি জানালার পাশে সরে বসুন। আমাদের অনেকেই ভীড়ের মাঝে অমানুষ হয়ে উঠতে পছন্দ করে। Continue reading “আমার নাম মানুষ”

ছহি বাঁশবৃত্তান্ত

যেসব মানুষের প্রতি আপনি অতি সামান্য বিষয়ে সব সময় কৃতজ্ঞ থাকেন সেসব মানুষ কিন্তু সব জানার পরও আপনার প্রতি বিন্দু পরিমান সম্মান নেই। তাদের ভীতু মগজে নিজস্বতা বলে কিছু নেই। পরের ইঙ্গিতে, পরের মোহনীয় কথায় আপনার ভেতরের সুন্দরর্যকে ছুঁয়ে দেখতে পারেনা। এসব মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চেয়ে নিজের প্রতিভা ও শ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। অন্যের জন্য সবচেয়ে ভালো চিন্তা করা, অন্যকে আলোর পথ দেখাতে নিয়ে যাওয়া এবং অন্যের সম্মান বাড়াতে নিজের শ্রেষ্ঠ গুণগুলোকে
বিলিয়ে দিবেন না। স্বার্থপরের দুনিয়াতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মত অজ্ঞ মানুষদের সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া যেসব ব্যক্তি আপনাকে পছন্দ করবেনা আপনার ছোট ছোট ভুলগুলোকে সাঙ্ঘাতিক বড় অপরাধ ভাবতে শুরু করবে প্লিজ তাদের থেকে সাবধান হোন। Continue reading “ছহি বাঁশবৃত্তান্ত”

জ্যাকুলিন মিথিলা, পণ্য ও পুঁজিতন্ত্র

পুঁজিতন্ত্রে দুনিয়া যে একটা মার্কেট এবং সেখানে সবকিছু যে পণ্য এইটা বোঝার দরকার আছে। বহুত বড় বড় জ্ঞানীর এই বাজার ও পণ্য সম্পর্কে কোনো উপলব্ধি দূরে থাক, জানা শোনাটুকুও নাই। বাজার কেমনে তৈরি হলো তার ইতিহাসটা লোকজন জানতো তাহলে তারা বুঝতো যে মার্কেটে মানুষ শুধু ক্রেতা-বিক্রেতাই না, মানুষ নিজেও পণ্য। ভাববেন না শ্রমের পণ্য হওয়াকে ধরে এই কথা বলছি। মানুষের শরীর সৌন্দর্য পরিচয় জেন্ডার স্বর ভাঁজ বয়স রুচ- সব কিছুই বাজারে পণ্য। শুরুতে বাজার নিয়া কিছু কথা বলে নিলাম, কারণ তাহলে নাপিত কন্যা জয়া শীল ওরফে জ্যাকুলিন মিথিলার আত্মহত্যা নিয়ে কথা বলতে সুবিধা হবে। এই মেয়েটা বাংলাদেশের সানি লিওনি হইতে চাইছিল। সে নিজের শরীর ও সৌন্দর্যকে পণ্য করতে চেষ্টা করেছে। মার্কেটে নিজের পণ্য নিয়ে আসতে তাকে কেউ বাঁধা দেয়নি। বরং নারী স্বাধীনতার সবটাই পাইছে। Continue reading “জ্যাকুলিন মিথিলা, পণ্য ও পুঁজিতন্ত্র”

অবৈধ গন্দম (শেষ পর্ব)

আধুনিক ভারতীয় উপমহাদেশে যৌনতা এক অতিনোংরা অতিগোপনীয় অতিলজ্জাকর কাজ। শ্রী রজনিশ যৌনতার কামরে কলারূপে দেখাইছিলেন। তিনি বলছিলেন,
– “যৌনতা হওয়া উচিত খেলাচ্ছল এবং প্রার্থনাময়!”
কিন্তু আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে যৌনতারে বিয়া নামক প্রতিষ্ঠান মারফত এত ম্যাড়ম্যাড়া ভাতের মাড় বানাইয়া ফেলা হইছে যে, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই অতিগোপনে পরকীয়ার মত উত্তেজনাপূর্ণ শারিরীক এবং মানসিক সম্পর্কে জড়ায়ে যাইতে দ্বিধা করেন না। নাসরিন জাহান, উনার ‘নারীর প্রেম ও তার বিচিত্র অনুভব’ বইতে কইছিলেন,
– “নারীরা ঝঞ্ঝাটহীন নির্মল প্রেমকে পূজা করে, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা করে রোমাঞ্চপূর্ণ নিষিদ্ধ প্রেম।” Continue reading “অবৈধ গন্দম (শেষ পর্ব)”

Page 1 of 712345...Last »