কাঁদতে হয় লুকিয়ে

মাঝে মাঝে বোবা কান্নার দলা গলার মাঝে আটকে যায়, দুচোখে জল চলে আসে। কিন্তু পরক্ষনেই সেই চোখের পানি কেউ দেখে ফেলার আগেই, কেউ বুঝে ফেলার আগেই মুছে ফেলি। আসলে তারা জানে, ঘরের বড় ছেলেকে এভাবে কাঁদতে হয় না। কাঁদতে হয় লুকিয়ে, আড়ালে, যাতে কেউ না দেখে। চোখের পানি মুছে আবার তাদের ঘরে ফিরতে হয়। কিছু মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য, তাদের শক্তি হওয়া জরুরী।
– এই ঈদে “বড় ছেলে” নামক নাটকের শেষ মন্তব্য এটা। দুপুরের খাবার শেষ করে মায়ের খাটে বসে টিভির রিমোটে চ্যানেল চেঞ্জ করতে করতে এই নাটকে চোখ আটকে যায়। কিছুক্ষণ দেখার পর ছোট ভাইটা খুশির দিনে এরকম কষ্টের নাটক প্রচারের জন্য বিরক্তি প্রকাশ করে। আমি ভাবি নাট্যকারতো আমার জীবনে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোকেই সুন্দর করে সাজিয়ে বলেছে এখানে। ছোট ভাইটাকে বলা হয়না সেই কথাগুলো। Continue reading “কাঁদতে হয় লুকিয়ে”

তুমিই সত্য “হে সমাজ”

সেইরাম ‘ধার্মিক’ ভাব নিলেও আমরা বাঙ্গালীরা আসলে ধর্মের চেয়ে সামাজিক নিয়ম অনেক বেশী মেনে চলি, আর এত কঠোর ভাবে সামাজিক প্রথা মেনে চলাটাই হচ্ছে অনগ্রসর সমাজের বেঞ্চমার্ক। বুঝিয়ে বলি, হালাল আয় করাটা আমাদের ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়, কিন্তু হালাল আয় করেনা দেখে বিয়ে ভেঙ্গে গেছে বা পাত্রীপক্ষ বিয়ে দিতে অস্বীকার করেছে সেটা ইহজীবনে কয়বার দেখেছেন বা শুনেছেন? বাংলাদেশের বিয়েতে পাত্রের হালাল আয় থাকাটা কি আদৌ কোন ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত?

বিয়ের কথা চিন্তা করুন, ইসলাম ধর্মে কোথায় আছে যে একটা নির্দিষ্ট বয়স না হলে, Continue reading “তুমিই সত্য “হে সমাজ””

শো-অফ

খুব কম লোকই জানে ভাব নেয়া বা শো অফ করাটা আসলে সম্পূর্ন অর্থহীন একটা ব্যাপার। আপনি যা কিছু নিয়েই ভাব নেন না কেন, আপনার চেয়ে ভালো বা উন্নত কিছু অন্যদের কাছে থাকবেই। আপনি বাংলাদেশের সেরা রেস্টুরেন্টে চেক ইন দেবেন, আরেকজন দেবে এশিয়ার। আপনি এশিয়ার দেবেন, আরেকজন দেবে বিশ্বের। কে কাকে কি দেখাবে?

বিয়েতে একদল স্বর্নের গহনার পরিমান নিয়ে ভাব নেয়। Continue reading “শো-অফ”

কর্পোরেট স্লাট (প্রথম পর্ব)

২০০১ সাল। ঘটনাস্থল উত্তরা ৭ নং সেক্টর। আমি যে বাড়ীতে থাকতাম তার পাশেই ছিলো বেশ কিছু হোষ্টেল। একটি হোস্টেলের নাম ছিল ‘প্রথম হোস্টেল’। সেই বাড়ীতে এখন ‘উত্তরা ইউমেন কলেজ’ এর ক্যম্পাস। আমি থাকতাম এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সাথে। ৭ নং সেক্টরে তখন এরকম ছেলেদের হোস্টেল ছিল ৪০ টির মত আর সবগুলোতেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্র থাকত। আর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি কতৃপক্ষের তত্বাবধানে একটা মেয়েদের হোস্টেল ছিল যা ছিল ক্যাম্পাসের একদম কাছে ৭ নং রোডে। সেই বাড়ীতে এখন একটা স্কুলের ক্যম্পাস। মেয়েদের হোস্টেল ছিল ৪ তলা বিল্ডিং। প্রায় শ’খানেক ছাত্রী থাকত। বাইরে কড়া সিকিউরিটি পাহারা দিত। হোস্টেলের চাবি থাকত মেয়েদের কাছে। কেউ (শুধুমাত্র মেয়ে) Continue reading “কর্পোরেট স্লাট (প্রথম পর্ব)”

মিস ভ্যালেন্টাইন

ভ্যালেন্টাইন ডে হ্যাজ গন। বয়েজ-গার্লস, ওয়াইফি- হাবি, জাবি সবার ঘুম হারাম ছিলো এই দিনটাকে নিয়ে। একদল এই চিন্তায় যে এইবার তাকে কিভাবে খুশি করা যায় আরেকদল এই চিন্তায় যে দেখি ও কি করে আমার জন্য। কোনটা কোনদল এটা ক্লারিফাই করে দিয়ে আমি কোনো কোন্দলে জড়াতে চাইনা তাই নিজেরাই বিবেচনা করে নেন। তবে এ বিষয়ে একটা পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করতে চাই। গতবছর ভ্যালেন্টাইন ডে’র দুইদিন আগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড গিয়েছিলাম একটা কাজে। ভিতরে ঢুকে আমি পুরাই টাস্কিত। মেয়েদের আংটির ডিসপ্লের সামনে শত শত পুরুষ। অথচ ছেলেদের আন্টির ডিসপ্লের সামনে একটা মাছিও নাই। আমি ভাবি, কেম্নে কি। নতুন কোনো ট্রেন্ড আসছে নাকি। ছেলেরা সব মেয়েদের আংটি কিনে কেন? একটু পর স্মরণে আসলো দুইদিন পর তো পোলাদের মরণ ডে। প্লিজ গার্লস উত্তেজিত হবেন না। কিন্তু কেন? Continue reading “মিস ভ্যালেন্টাইন”

আমার নাম মানুষ

এই শহরে প্রতি মিনিটে ঘটে যায় হাজার ঘটনা, কখনো দূর্ঘটনা। সামিল হতে হয় আমাদের, আশেপাশে সকলের। উড়ো মন্তব্য কানে আসে, গায়ে এসে লেগে বসে। কখনো অপমানের তীক্ষ্মতা কেটে বসে গলার উপর। বুকে চেপে আসে হাজার প্রতিবাদ, কখনো সূক্ষ্ম ভাবে এড়িয়ে যেতে হয়, কখনো ঝড় তুলতে হয় প্রতিবাদে।
– মাইয়া মাইন্সের এমনে ফাল দিয়া জীবনে বাসে উঠবার দেহি নাই। আর কতো দেহুম আল্লা খোদা জানে।
-সন্ধ্যার পর পল্লিবিদ্যুৎ যাচ্ছে। নিশ্চয়ই মেয়ের সমস্যা আছে।
-মেয়েটি হোস্টেলে থাকে। না যেন কত কি করে বেড়ায়।
-বাবা মা ই বা কেমন এত বড় মেয়েকে হোস্টেলে দিয়ে রাখছে!
আরে চুপ থাকো না, পরের মেয়ে যাই করুক আমাদের কি?
– আপু, আপনি জানালার পাশে সরে বসুন। আমাদের অনেকেই ভীড়ের মাঝে অমানুষ হয়ে উঠতে পছন্দ করে। Continue reading “আমার নাম মানুষ”

Page 1 of 712345...Last »