ছহি বাঁশবৃত্তান্ত

যেসব মানুষের প্রতি আপনি অতি সামান্য বিষয়ে সব সময় কৃতজ্ঞ থাকেন সেসব মানুষ কিন্তু সব জানার পরও আপনার প্রতি বিন্দু পরিমান সম্মান নেই। তাদের ভীতু মগজে নিজস্বতা বলে কিছু নেই। পরের ইঙ্গিতে, পরের মোহনীয় কথায় আপনার ভেতরের সুন্দরর্যকে ছুঁয়ে দেখতে পারেনা। এসব মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চেয়ে নিজের প্রতিভা ও শ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। অন্যের জন্য সবচেয়ে ভালো চিন্তা করা, অন্যকে আলোর পথ দেখাতে নিয়ে যাওয়া এবং অন্যের সম্মান বাড়াতে নিজের শ্রেষ্ঠ গুণগুলোকে
বিলিয়ে দিবেন না। স্বার্থপরের দুনিয়াতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মত অজ্ঞ মানুষদের সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া যেসব ব্যক্তি আপনাকে পছন্দ করবেনা আপনার ছোট ছোট ভুলগুলোকে সাঙ্ঘাতিক বড় অপরাধ ভাবতে শুরু করবে প্লিজ তাদের থেকে সাবধান হোন। Continue reading “ছহি বাঁশবৃত্তান্ত”

জ্যাকুলিন মিথিলা, পণ্য ও পুঁজিতন্ত্র

পুঁজিতন্ত্রে দুনিয়া যে একটা মার্কেট এবং সেখানে সবকিছু যে পণ্য এইটা বোঝার দরকার আছে। বহুত বড় বড় জ্ঞানীর এই বাজার ও পণ্য সম্পর্কে কোনো উপলব্ধি দূরে থাক, জানা শোনাটুকুও নাই। বাজার কেমনে তৈরি হলো তার ইতিহাসটা লোকজন জানতো তাহলে তারা বুঝতো যে মার্কেটে মানুষ শুধু ক্রেতা-বিক্রেতাই না, মানুষ নিজেও পণ্য। ভাববেন না শ্রমের পণ্য হওয়াকে ধরে এই কথা বলছি। মানুষের শরীর সৌন্দর্য পরিচয় জেন্ডার স্বর ভাঁজ বয়স রুচ- সব কিছুই বাজারে পণ্য। শুরুতে বাজার নিয়া কিছু কথা বলে নিলাম, কারণ তাহলে নাপিত কন্যা জয়া শীল ওরফে জ্যাকুলিন মিথিলার আত্মহত্যা নিয়ে কথা বলতে সুবিধা হবে। এই মেয়েটা বাংলাদেশের সানি লিওনি হইতে চাইছিল। সে নিজের শরীর ও সৌন্দর্যকে পণ্য করতে চেষ্টা করেছে। মার্কেটে নিজের পণ্য নিয়ে আসতে তাকে কেউ বাঁধা দেয়নি। বরং নারী স্বাধীনতার সবটাই পাইছে। Continue reading “জ্যাকুলিন মিথিলা, পণ্য ও পুঁজিতন্ত্র”

অবৈধ গন্দম (শেষ পর্ব)

আধুনিক ভারতীয় উপমহাদেশে যৌনতা এক অতিনোংরা অতিগোপনীয় অতিলজ্জাকর কাজ। শ্রী রজনিশ যৌনতার কামরে কলারূপে দেখাইছিলেন। তিনি বলছিলেন,
– “যৌনতা হওয়া উচিত খেলাচ্ছল এবং প্রার্থনাময়!”
কিন্তু আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে যৌনতারে বিয়া নামক প্রতিষ্ঠান মারফত এত ম্যাড়ম্যাড়া ভাতের মাড় বানাইয়া ফেলা হইছে যে, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই অতিগোপনে পরকীয়ার মত উত্তেজনাপূর্ণ শারিরীক এবং মানসিক সম্পর্কে জড়ায়ে যাইতে দ্বিধা করেন না। নাসরিন জাহান, উনার ‘নারীর প্রেম ও তার বিচিত্র অনুভব’ বইতে কইছিলেন,
– “নারীরা ঝঞ্ঝাটহীন নির্মল প্রেমকে পূজা করে, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা করে রোমাঞ্চপূর্ণ নিষিদ্ধ প্রেম।” Continue reading “অবৈধ গন্দম (শেষ পর্ব)”

পর্দা ছেঁড়ার স্পর্ধা (শেষ পর্ব)

পৃথিবীর কোনো ধর্মের কোনো মন্ত্রই মানুষরে সৎ বা নীতিবান বানাইতে পারে না, তা বানাইতে পারলে দুনিয়াতে শুধু পরকীয়া ক্যানো, কোনো মিথ্যাচার, কোনো চুরি ডাকাতি রাহাজানির অস্তিত্বই থাকতো না। তাই ধর্মের মন্ত্র বা পুঁজিবাদি-পিতৃতান্ত্রিক-বিষমকামী-একগামী বিয়া দুইটাই যখন মানুষের প্রেমে পড়ার মত বা বহুগামিতার মত স্বাভাবিক বিষয়রে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তখন পরকীয়ার মত অসৎ আচরণের দিকে মানুষ ঝুঁইকা পড়তে বাধ্য হয়। পুরুষতন্ত্র টিকাইয়া রাখতে তাই পরকীয়া জরুরী। যেকোনো সিস্টেম টিকাইয়া রাখার মূল রহস্য সিস্টেমে ‘বাগ’ রাইখা দেওয়া। সমাজে পরকীয়ার মত অনৈতিকতা থাকতে দেওয়ার কারণেই সমাজে বিয়ার মত নৈতিকতা টিকা আছে, এবং ভাইস-ভার্সা। তাই পরকীয়া বা অনৈতিকতা উচ্ছেদের জন্য বিয়ার উচ্ছেদ জরুরী। Continue reading “পর্দা ছেঁড়ার স্পর্ধা (শেষ পর্ব)”

অবৈধ গন্দম (চতুর্থ পর্ব)

বহুগামিতা মানুষের মনস্তত্বের অংশ। পুরুষের ক্ষেত্রে এই বহুগামিতা নৈব নৈব চঃ হইলেও, প্রচুর প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে পুরুষের বহুবিবাহ এ্যাক্সেপ্ট করা হইলেও দুনিয়াতে দ্রৌপদী একজনই ছিলেন, কোনো ধর্মেই মেয়েদের বহুগামিতারে ভালো চোখে দেখা হয় নাই। বহুগামিতা পুরুষের একলার মনস্তত্ব না। মেয়েরাও সমানতালে পুরুষের মতই বহুগামী; কিন্তু ধর্মের নামে মেয়েদের এই বহুগামিতারে দমন করা হইছে মেয়েদের সন্তানজন্মদানের ক্ষমতারে কেন্দ্র কইরা। মেয়েদের শিখানো হইছে নিজের যৌনতারে অপ্রকাশিত রাখতে, উনাদের বুঝানো হইছে নিজেদের সৌন্দর্য্য শুধু স্বামীর উপভোগের বিষয়, উনাদের পড়ানো হইছে যৌনতা খারাপ, যৌনতা নিয়া কথা কওয়া যায় না, উনাদের বাধ্য করা হইছে যৌন সম্পর্কে অসন্তুষ্ট থাকলেও তা নিয়া উচ্চবাচ্য না করতে। বেশিরভাগ আধুনিক মেয়েও তাই যৌন জীবনে অসুখী হওয়ার পরেও বহুগামিতারে নোংরা চোখে দেখেন। Continue reading “অবৈধ গন্দম (চতুর্থ পর্ব)”

পর্দা ছেঁড়ার স্পর্ধা (তৃতীয় পর্ব)

সংসার দ্বিপাক্ষিকভাবে দুইজনের প্রেমে, স্যাক্রিফাইসে এবং কম্প্রোমাইজে তৈরি একটা প্রতিষ্ঠান। সেই প্রেম বা কম্প্রোমাইজের দায় একজনের না। পরকীয়া একলা ছেলেরা করেন না অবশ্যই। আমার জামাইয়ের সাথে যেই ভদ্রমহিলার প্রেম, উনিও একজনের বিবাহিত স্ত্রী। আমি আমার জামাই বা ঐ ভদ্রমহিলা দুইজনের একজনরেও দোষ দেই না। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যেই পুঁজিবাদি-পিতৃতান্ত্রিক-বিষমকামী-একগামী বিয়া চালু আছে, তাতে মানবিক প্রেমরে অবমূল্যায়ন করা হয়। আমার জামাই ক্যানো আমার মত একজন বিশ্বসুন্দরী, ঘরকন্যায় নোবেল পুরষ্কার পাওয়া সতিসাধ্বি, রান্নাবান্নায় অস্কার পাওয়া পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক মানুষরে রাইখা আরেকজনের প্রেমে পড়লেন এই প্রশ্ন তাই অত্যন্ত হাস্যকর প্রশ্ন। উনি য্যামনে পৃথিবীর আর ৬ দশমিক ৯৯৯৯৯ বিলিয়ন মানুষ রাইখা আমার প্রেমে পড়ছিলেন, ঠিক একই কারণে উনি আমারে রাইখা আরেকজনের প্রেমে পড়ছেন। Continue reading “পর্দা ছেঁড়ার স্পর্ধা (তৃতীয় পর্ব)”

Page 2 of 712345...Last »