অবৈধ গন্দম (তৃতীয় পর্ব)

অনেকেই কইবেন,
– “ভালো না লাগলে ছাইড়া চইলা যাও, মিথ্যার দরকার কী?”
খেয়াল কইরা দেখেন, ডিভোর্স দেওয়ার কি সহজ কোনো রাস্তা আছে কীনা। খেয়াল কইরা দেখেন, ডিভোর্স দেওয়ার আগে কেইস ফাইল করার সময় ডিভোর্সের কারণ হিসাবে আপনারে কী কী লিখতে হয়। আপনি স্বামী/স্ত্রীর মারফত নির্যাতিত হইলে, আপনার স্বামী/স্ত্রী ব্যাভিচার করলে, আপনার স্বামী/স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হইলেই শুধু ডিভোর্সের এ্যাপ্লাই করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি আপনার স্ত্রীরে ভালোবাসার পরেও আরেক মেয়ের প্রেমে পড়লে রাষ্ট্র আপনারে ডিভোর্স দিতে দিবে না। কারণ আগেই বলছি, রাষ্ট্র নিজের পুঁজিবাদী স্বার্থেই আপনার মাধ্যমে বিয়া টিকাইয়া রাখতে চায়। Continue reading “অবৈধ গন্দম (তৃতীয় পর্ব)”

স্লাট-শেইমিং ও বিবিধ বেশ্যাগন (শেষ পর্ব)

তাতে আমাদের খুব লজ্জা হয়, আমরা খুব অপমানিত হই। তাতে আমরা কান্দি, কেউ কেউ আত্মহত্যা করি। সেই আত্মহত্যা দেইখাও পুরুষতান্ত্রিক বড় আপারা জ্ঞানের বাণী দেন,
– ‘নষ্টামী করলে এমনই হয়!’
সপ্তম শতকে বাই শি বইলা একজন বড়-আপা সুলভ পুরুষতান্ত্রিক ভদ্রমহিলা ‘ন্যায়পরায়ন মেয়েদের ৭৯তম আত্মজীবনী’ বইয়ে লিখছিলেন,
– “নারীত্ব হইলো দয়াশীলতার ভিত্তি, নিজের জীবন দিয়া নিজের সতীত্ব ধইরা রাখা হইলো পবিত্রতা ও ন্যায়নিষ্ঠতার স্বাক্ষর!’
সতীত্ব? সেইটা কী জিনিস? খায় না মাথায় দেয়? খাড়ান, একটু হাইসা লই। প্যাটেরনারি আনসার্টেইনটি এই যুগে আর নাই। ডি-এন-এ ফি-এন-এ টেস্ট পর্যন্ত যাইতে হয় না, Continue reading “স্লাট-শেইমিং ও বিবিধ বেশ্যাগন (শেষ পর্ব)”

পর্দা ছেঁড়ার স্পর্ধা (দ্বিতীয় পর্ব)

আমার শাশুড়ি গোপনে আমারে কইলেন, বাচ্চা নিয়া নিতে। তাতে উনার পুত্রের যদি মতিভ্রম কাটে। আমার জামাইয়ের বড় বোন কইলেন, আমার লেখাপড়া চাকরি বাকরি নিয়া উনার ভাই নিশ্চই হীনমন্যতায় ভুগতেছেন, আমি যেন ঘরে আরো বেশি সময় দেই। আমি শাশুড়িরে কইলাম,
– অসততা যার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য, তারে পুত্র কন্যা দিয়া সৎ বানানো যায় না।
কিন্তু জামাইয়ের বড় বোনের কথায় আমার চাকরিতে সময় কম দিয়া বাড়িতে আরো সময় দেওয়া শুরু করলাম। তখনো জানতাম, এই জিনিস ঠিক হওয়ার না। আমি তখনো বিশ্বাস করতাম,
– ‘ওয়ান্স আ লায়ার, অলঅয়েজ আ লায়ার’!
তার কয়েক বছর পর আমি আবার আবিষ্কার করলাম আমার জামাই আমার অজান্তে ঐ একই পরকীয়া চালাইতেছেন মহানন্দে। Continue reading “পর্দা ছেঁড়ার স্পর্ধা (দ্বিতীয় পর্ব)”

অবৈধ গন্দম (দ্বিতীয় পর্ব)

কিন্তু যদি বিয়ার পরে আপনার অন্যপক্ষের সাথে প্রেম না হয়, তাইলে আপনি কী করবেন? যদি ফুলশয্যার রাতে আপনার স্বামী আপনারে ধর্ষণ করেন, বা আপনার স্ত্রী যেই ভঙ্গিতে শাড়ি পরেন, তা আপনার পছন্দ না হয়, তাইলে আপনি কী করবেন? বিয়ার পরে আপনার স্ত্রীরে ভালো না লাইগা ভাইয়ের বউরে ভালো লাইগা গেলো, আর আপনি লিখা ফেললেন,
– “তোমারেই করেছি জীবনের ধ্রুবতারা!”
তখন কী হবে? ধরেন অনেক বছর ‘নৈতিকভাবে সুস্থ’ বিবাহিত সম্পর্কের পরে একদিন আপনার এমন একজনের সাথে পরিচয় হইলো, যারে দেইখা আপনার মনে হইলো, ইনারেই আপনি সারাজীবন ‘খুঁজতেছেন’, তখন কী হবে? যদি তিরিশ বছর স্বামী বা স্ত্রীর সাথে ঘর করার পরে এখন আর স্বামী বা স্ত্রীর আচরণ আপনার ভালো লাগে না, Continue reading “অবৈধ গন্দম (দ্বিতীয় পর্ব)”

স্লাট-শেইমিং ও বিবিধ বেশ্যাগন (দ্বিতীয় পর্ব)

‘জেনেটিক্যালি হেরেডিটরি’ এর এই ব্যাখ্যায় বলেন, বিবর্তনবাদ মেয়েদের নিজের মানব-স্পিশিস টিকাইতে নিজের গোত্রের ভিতর ‘সবচাইতে’ ‘নিরোগ’, ‘সামাজিক-ভাবে উচ্চস্থানীয়’, ‘অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী’, ‘নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন’ ‘একজন’ ‘শক্তিশালী’ ‘সুদর্শণ’ পুরুষের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাচ্চা জন্ম দেওয়ারে উৎসাহীত করে। হ, ভালো কথা! কিন্তু এই ব্যাখ্যা সঠিক হইতে পারে প্রি-হিস্টরিক থিকা সামন্তযুগীয় অর্থাৎ পিতৃতান্ত্রিক মানুষের জন্য, যেইখানে মেয়েদের দাম তার ভ্যাজাইনার দাম দিয়া ঠিক করা হয়। হান্টার-গ্যাদারার সমাজে যেইখানে পুরুষের কাজ খাদ্য সংগ্রহ এবং মেয়েদের কাজ বাচ্চা উৎপাদন, সেইখানে একজন মেয়ে একাধিক পুরুষের সাথে শুইলে সেইটা সমাজের সামন্তপ্রভুদের সম্পত্তি রক্ষার লড়াইয়ে ক্যাটাস্ট্রফিক একটা ঝামেলা তৈরি করতে পারে, বা একজন মেয়ের একাধিক পুরুষ সঙ্গী থাকলে সবচাইতে ‘সঠিক’ ‘আলফা-মেল’ পুরুষ সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার ‘খারাপ’ বিচারবোধ মারফত তিনি নিজেরে এবং নিজের ভবিষ্যত সন্তানরে বায়োলজিক্যাল ঝামেলায় ফেইলা দিতে পারেন, তাই সেই সমাজে মেয়েদের বহুগামিতা ঠেকাইতে স্লাট-শেইমিং ‘হয়তো’ দরকারী বিষয় ছিলো। Continue reading “স্লাট-শেইমিং ও বিবিধ বেশ্যাগন (দ্বিতীয় পর্ব)”

পর্দা ছেঁড়ার স্পর্ধা (প্রথম পর্ব)

আমি যেহেতু প্রচুর কথা কই, আমার ধারণা হইছে বেশিরভাগ লোক আমার কথা শুনেন না, শোনার ভাব কইরা আরেক দিকে তাকাইয়া মনে মনে মেঘ মালহার গুণগুণ করেন (সেইটা অবশ্য খুবই ভালো কাজ) – অথবা শোনার চেষ্টা কইরা হাল ছাইড়া দেন এবং পরবর্তীতে নিজের মত কইরা আমার কথার একটা অর্থ দাঁড়া করান। এইটা বলার পর সবাই অবশ্য কমেন্টে আইসা বলবেন,
– “কই না, আমি তো তোমার কথা খুব মন দিয়া শুনি!”
যাই হোক, আমি এখন থিকা কথা সংক্ষেপ করবো বইলা ভাবতেছি। সেইটা ইহজীবনে সম্ভব হবে কীনা কে জানে। Continue reading “পর্দা ছেঁড়ার স্পর্ধা (প্রথম পর্ব)”

Page 3 of 712345...Last »