অবৈধ গন্দম (প্রথম পর্ব)

গত কয়েকদিনের ফেইসবুকের লাফালাফির প্রধান বিষয় ছিলো পরকীয়া। এক পক্ষ পরকীয়ারে সাপোর্ট করেন, অন্য পক্ষ করেন না। ফেইসবুক খুব মজার জায়গা। বাংলাদেশে মুক্তমঞ্চ নামক বাদাম ভাজা খাওনের সিঁড়িওয়ালা প্রেমপূর্ণ জায়গা থাকার পরেও সম্ভবতঃ ফেইসবুকই প্রথম জায়গা যেইখানে মানুষজন নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করার একখান জায়গা পাইছেন। আমিও পাইছি। এ দুনিয়ায় কে বা শোনে কাহার কথা? সুতরাং ফ্রিতে চিল্লাও! তো সবাই যখন চিল্লাইতেছেন, তখন পরকীয়া সম্পর্কে আমিও একটু চিল্লাই, আফটার অল, এই ফেইসবুকিয় দুনিয়ায় চিল্লানোর জন্য বাক স্বাধীনতা নামের এক মহান বস্তু আছে না!

পরকীয়া কী? Continue reading “অবৈধ গন্দম (প্রথম পর্ব)”

স্লাট-শেইমিং ও বিবিধ বেশ্যাগন (প্রথম পর্ব)

স্লাট-শেইমিং-এর ভালো বাংলা আমার জানা নাই। ‘স্লাট-শেইমিং’ অর্থ চরিত্র-হনন হইতে পারে, চরিত্রে কলংক-লেপন হইতে পারে, অপমানিত করা বা লজ্জা দেওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিস হইতে পারে, কিন্তু উপমহাদেশে মেয়েদের উপর এর বহুল ব্যবহার থাকলেও সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যক্রমে ‘এক-শব্দে’ এরে ব্যাখ্যা করা যায় এমন কোনো শব্দ এই অঞ্চলে আবিষ্কার হয় নাই। বা হইলেও তা আমার জানা নাই। আমার ভাষায় স্লাট শেইমিং হইলো মেয়েদের বেশ্যাকরণ প্রকল্প। অর্থাৎ যেই ‘শক্তিমান’ মেয়েরে অন্যান্যভাবে খাটো করা যাইতেছে না, তার চরিত্র নিয়া প্রশ্ন কইরা তারে মাটিতে শোয়াইয়া আক্ষরিক বা রূপক অর্থে ন্যাংটা কইরা আক্ষরিক বা রূপক অর্থে পিটানোর বা মাইরা ফেলানোর নাম ‘স্লাট-শেইমিং’। Continue reading “স্লাট-শেইমিং ও বিবিধ বেশ্যাগন (প্রথম পর্ব)”

কয়েকটি পাখির পালক

সচরাচর কারো বিয়ের খবর পেলে আমি যেমন অভিনন্দন জানাই, বিয়ে বিচ্ছেদের খবর শুনলে আমি কখোনোই কন্ডোলেন্স বলি না, বেশ জোরগলায় কংগ্রাচুলেশন্স-ই বলি। বলি বেশ কিছু কারণে! প্রথমত, মৃতদেহ কবরে নামানো বা চিতায় দাহ করার মতোই ডিভোর্স বিষয়টা একটা আইনী ও সামাজিক প্রক্রিয়া। বাস্তবে সম্পর্কটা কিন্তু আগেই মরে গেছে, কারোটা বহু আগে, কারোটা সদ্য। কেউ কেউ হয়তো লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন দীর্ঘদিন। আপ্রাণ সেই চেষ্টাও হয়তো একসময় থমকে গেছে। আত্মা বেরিয়ে যাওয়া দেহ যত বেশিক্ষন ঘরে রাখবেন, ততই তীব্র গন্ধ ছড়াবে, ঠিক? কাজেই যেই দম্পতি এই মৃত সম্পর্কের আইনী সৎকার সম্পন্ন করেছেন, আমি ধরে নেই, তাঁরা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন থেকেই অসুন্দর ও নোংরামীকে পেছনে ফেলে এসেছেন। তো আমি দুঃখ প্রকাশ করবো ঠিক কি জন্য? কার জন্য? Continue reading “কয়েকটি পাখির পালক”

সমাজ ও বিবিধ বিবাহ

প্রেমের কথা শুনলে বাংলাদেশী গার্জিয়ানরা যে ফোস করে উঠেন, তার যুক্তিসঙ্গত কারন আছে, প্রায় সময় এসব সম্পর্ক হয় হৃদয়ভিত্তিক, বাস্তবভিত্তিক নয়। গার্জিয়ানরা চাননা তাদের সন্তান পরে সামাজিক কারনে অপমানিত হোক বা কষ্টে থাকুক। একটা মোটা দাগের উদাহরন দেই, আইনগত এবং ইসলামিক দিক থেকে চিন্তা করলে বাড়ী মালিকের মেয়ের সাথে তাদের গাড়ী ড্রাইভারের বিয়ে সম্পূর্ন বৈধ, কিন্তু আসলেই যদি তেমন একটা বিয়ে হয়, সেই স্বামী নিয়ে মেয়েটি (এবং তার বাবা মা) যে কতখানি সামাজিক হেনস্থার শিকার হবে তাতো বুঝতেই পারছেন।

তাই বলে মনে করতে যাবেন না যে আমরাই খারাপ আর পশ্চিমারা এ বাবদ ‘ফকফকা’, একটা বড় কোম্পানীর মহিলা CEO যদি নিজ বা অপর কোন কোম্পানীর কোন ঝাড়ুদারকে Continue reading “সমাজ ও বিবিধ বিবাহ”

ফেরা

এক দশক, হ্যাঁ আজ থেকে ঠিক দশ বছর পূর্বে এই দিনে সদ্য শিক্ষা জীবন শেষ করা একটি ছেলে আর সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নাম লেখানো একটা মেয়ে আইনগত আর ধর্মীয় সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে “বিবাহ” নামক একটি বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সদ্য কৈশোর পেরোনো এই যুগল না জানতো কোন লৌকিকতা না মানতো কোনো নিয়ম। ফলাফল অনিবার্য “দাম্পত্য কলহ”। এই দাম্পত্য কলহের অনলে ঘৃতাহুতি দেবার লোকজনেরও অভাব ছিল না, পরিনাম পারিবারিক দ্বন্দ্ব। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যুগলের যত কলহ তার কোনটাই তাদের ব্যক্তি কেন্দ্রীক ছিল না, ছিল পরিবার কেন্দ্রীক। বেকার ছেলেটা চাকরীর জন্য হন্যে হয়ে ঘুড়ে বেড়াতো, প্রতি মুহুর্তে তাকে গ্রাস করতো হতাশা আর অনিশ্চয়তা। মেয়েটি তখনো শিক্ষার্থী থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকতো হতো তাকে। দুজনের “অবস্থানগত দুরত্ব” সম্পর্কের টানাপোড়েন-এ অন্যতম কারণ হয়ে দাড়ায়।যোগ্যতার সাথে সুবিচার না হলেও ছেলেটার ছোটখাটো একটা জীবিকার ব্যবস্থা হয়ে যায়, ছেলেটা খুশি হলেও খুশি হতে পারেনি পরিবার। Continue reading “ফেরা”

উবুন্ত

একজন এনথ্রপলজিস্ট একবার সাউথ আফ্রিকা গেলেন ওখানকার অধিবাসীদের উপর একটা গবেষনার কাজে! সেখানে এক গ্রামের মাঠে তিনি কয়েকজন বাচ্চাকে খেলতে দেখে তাদের কাছে গিয়ে বললেন,
– চল আমি তোমাদের সাথে একটা মজার খেলা খেলব।
বাচ্চারাও সানন্দে রাজি হল। তিনি বাচ্চাদের থেকে সামান্য দুরে একটা গাছে চকলেট এর একটা ব্যাগ ঝুলিয়ে দিয়ে এসে বললেন,
– আমি রেডি, স্টেডি, গো বলার সাথে সাথে যে দৌড়ে গিয়ে চকলেট এর ব্যাগ সবচেয়ে আগে ছুঁতে পারবে সব চকলেট তার।
জানেন বাচ্চারা কি করল? উনি “গো” বলার সাথে সাথে বাচ্চারা একজন আরেকজনের হাত ধরে ফেললো এবং এক সাথে পায়ে পা মিলিয়ে গাছের দিকে এগিয়ে গেল এবং ব্যাগটা গাছ থেকে নামিয়ে চকলেট গুলো নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নিল। তারপর সবাই মিলে আনন্দ করে সেই চকলেট খেলো। Continue reading “উবুন্ত”

Page 4 of 7« First...23456...Last »