তীর্থযাত্রা

পরিচিত এক ভদ্রলোক ইন্তেকাল করেছেন। জানাজার ব্যাপারে জানলাম, দুই ছেলের আগমনের উপর নির্ভর করছে উনার দাফন। একজন আমেরিকা, অন্যজন কানাডা হতে আসবে। শেষ পর্যন্ত ৩ দিনের মাথায় একজন এসে পৌঁছানোর পর দাফন করা হল, অন্যজন টিকেট সমস্যায় ৫ দিনের মধ্যে আসতে পারবে না দেখে যাত্রা ক্যান্সেল করেছে। এই ৩ দিন বাবার শীতল মৃতদেহ, লাশ বহনকারী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে বাসার নীচে অপেক্ষায় ছিল। যতদিন শরীরে আত্মা ছিল, চোখ দুইটা অপেক্ষায় ছিল দুই রত্নের জন্য। চোখ বন্ধ হবার পর অপেক্ষার পালাও শেষ। দুই ছেলে ভাল চাকুরী করলেও গত ৩ বছর দেশে আসেনি। অথচ ভদ্রলোক শেষ ছয়মাস মৃত্যুশয্যায় অনেক কষ্ট পেয়েছেন। উনার একমাত্র মেয়ে সব দেখাশুনা করেছে সংসার ফেলে। মেয়ের জামাই ও যথেষ্ট দৌড়াদৌড়ি করেছেন। Continue reading “তীর্থযাত্রা”

ইমোর্শনাল অত্যাচার

আপনি ইমোশনাল কিন্তু মানুষজন আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। তো? ওরকমই থাকেন। কারো জন্য নিজেকে পরিবর্তন কেন করবেন? আপনি ইন্ট্রোভার্ট? চুপচাপ থাকতে ভালোবাসেন? প্লিজ ওরকমই থাকেন। বেশিরভাগ মানুষ আপনাকে অপছন্দ করে? করুক না। আপনার বেঁচে থাকার জন্য ১০০ জনের সাপোর্ট দরকার নেই। অল্প কিছু মানুষ আপনাকে ভালোবাসলেই চলবে। কেউ আপনাকে লেইম বলবে, কেউ আপনাকে নিয়ে হাসবে, কেউ আপনাকে দেখলে গালি দিবে, কেউ আপনার সাথে মিশতে চাবে না। তাতে আপনার জীবন থেমে থাকবে না। অন্যের পছন্দ-অপছন্দ, ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে নিজের জীবন চলে না। নিজের জীবন নিজের মত চলে, নিজের নিয়মে চলে এবং সেভাবেই চলবে। চারপাশে শুধুই মানুষের জাজমেন্ট চলতে থাকে। আপনি আইফোন ব্যবহার করলেও মানুষ কথা বলবে, আপনি কমদামী ফোন ব্যবহার করলেও মানুষ হাসবে। আপনি মেকআপ দিলেও মানুষ খোঁচা দিবে, মেকআপ না দিলেও মজা করবে। Continue reading “ইমোর্শনাল অত্যাচার”

আমিও বলতে পারি

ঘড়ির কাটায় কাটে,
দীর্ঘ দিবস মাস,
বুকের ভেতর কাঁপে
দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস।

জীবনের একটা পর্যায়ে গিয়ে প্রত্যেকটা মানুষ টের পায়, সামান্য কিছু টাকা উপার্জনের জন্য ঠিক কত বেশি পরিশ্রম করা লাগে। বাবা-মা এক অদ্ভুত সৃষ্টি। কোনদিন তার সন্তানকে ‘অভাব’ এর সাথে পরিচিত হতে দেয় না। খুব যত্ন করে আড়াল করে রাখে। কিন্তু তারপর একটা সময়ে যখন ‘অভাব’ এর সাথে হুট করে দেখা হয়ে যায়, তখন নিজেকে কেমন যেন অসহায় মনে হয়। ‘টাকা’ নামক কতগুলো কাগজের নোটের জন্য কত আয়োজন, কত ছুটোছুটি। Continue reading “আমিও বলতে পারি”

গিনিপিগ

অনেক রাত করেই এলো ফোনটা। ইতিকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা! প্রচুর অবাক আর চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম আমরা। ইতি আমার খুব ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নীতির ছোট বোন। কেবল ক্লাস ফোরে পড়ে, খুব মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে আর মেধাবী। আমার কোন ছোট ভাই-বোন নেই, তাই ইতিকে আমার ছোট বোনের চোখেই দেখতাম। হঠাত্‍ এত রাতে ওর নিখোঁজ হওয়ার খবরটা শুনে আমাদের বাসার সবারই স্বভাবতই খুব কষ্ট লাগতে লাগলো। চিন্তা করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমি। অনেক ভোরে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙলো আর শুনলাম, ইতিকে নাকি পাওয়া গেছে তবে মৃত অবস্হায়! ও নাকি আত্নহত্যা করেছিল। Continue reading “গিনিপিগ”

টাকায় যোগ্যতা নাকি যোগ্যতায় টাকা

বিয়ের বয়স নিয়ে কয়েকদিন আগে আলোচনা জমে উঠেছিল ব্লগে। ব্লগারদের যারা এই বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, তাদের অধিকাংশের মতামত হচ্ছে, ছেলেদের বিয়ের বয়স ২৫ আর মেয়েদের ২২ – এর কাছাকাছি। তবে অনেকেই মনে করেন, স্ত্রীকে ভরণপোষণ করার আর্থিক যোগ্যতা না হলে বিয়ে করা একদমই ঠিক হবে না। প্রশ্ন হচ্ছে, ভরণপোষণের আর্থিক যোগ্যতা টাকার অংকে কত? কত টাকা মাসিক আয় হলে বা জমা হলে একজন তরুন বিয়ের চিন্তা করতে পারে? বেশ কয়েক বছর আগে টিভিতে একটা বিজ্ঞাপন দেখাতো। এক তরুন গাড়ীতে (প্রাইভেট কারে) চলন্ত অবস্থায় মাকে ফোন করে বলছে, “ব্রীজের কনট্রাক্টটা পেয়ে গেছি। …. তে একটা প্লট বুকিং দিয়ে দিলাম।”
মা বললেন,
– “গাড়ী হলো, বাড়ী হলো, এবার বিয়েটা করে ফেল বাবা।” Continue reading “টাকায় যোগ্যতা নাকি যোগ্যতায় টাকা”

রঙের নাম ভালবাসা

আমার এক মেয়ে বন্ধুকে দেখতে এসেছে পাত্রপক্ষ। মেয়ের প্রবাসী বাবা ফোনে বললেন,
– ‘মা, ছেলে পছন্দ হয়েছে?’
মেয়ে বলল ,
– ‘না’।
বাবা বললেন,
– ‘কেন? ছেলে উচ্চ শিক্ষিত, ভাল জব করে, বংশ ভাল, আচার ব্যবহার চরিত্র ভাল’।
মেয়ে বলল,
– ‘ছেলে কালো বাবা’।
বাবা বললেন,
– ‘আমিওতো কালো, কালো বলে আমাকে বাবা বলতে খারাপ লাগে? তোমার মা আমার মত কালোমানুষকে বিয়ে করে ভুল করেছে?’ মেয়ে কথা বলল না, সে চুপ করে রইল। Continue reading “রঙের নাম ভালবাসা”

Page 5 of 7« First...34567