হাড্ডির সারপ্রাইজ

আজ আমাকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে। আর এই বিয়েটাও আমি করছি না। কারণ আমার পছন্দের একজন মানুষ আছে। তবু সেজে গুঁজে যেতে হয় তাদের সামনে। এর একটা কারণ হলো আমি যাকে পছন্দ করি সে। আমি জীবনে এমন একটা মানুষকে পছন্দ করেছি যার সাথে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়তই উদ্ভট সব কাণ্ডকারখানা আমাকে দেখতে হয়। যাকে পছন্দ করি তার নাম ‘হাড্ডি।’ এটা আমার দুই দুষ্টু ভাইবোনের দেওয়া নাম। আমিও এখন এই নামেই ডাকি। ওর সাথে সম্পর্ক হওয়ার পরে আমার ভাইবোনের সাথে ওকে পরিচয় করিয়ে দেই। সেই সাথে আমার ভাইবোন আমার পর হয়ে গেলো। প্রায়ই শুনতে হয় ওরা তিন জন মিলে এখানে ওখানে খেতে যায়। আমাকে এসে ছবি দেখায়। আমার প্রচণ্ড রাগ হয় প্রথমে। এরপরে আমার এতো ভালো লাগে যে আমার কলিজা পুরো ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ওদের এই সম্পর্কটা আমার খুব ভালো লাগে। Continue reading “হাড্ডির সারপ্রাইজ”

ফেইক আইডি

সেদিন গভীর রাতে ফ্রেন্ডলিস্টের এক ক্লোজ ছোটো বোন আমারে মেসেজ দিয়ে বলে,
– ‘স্যরি ভাইয়া।’
আমি তো অবাক,
– স্যরি কেন হঠ্যাৎ?
মেয়ে বললো,
– ‘আসলে আপনাকে একটা সিক্রেট বলি। আপনি দুই মাস আগে ফোনে যে মেয়ের সাথে কথা বলতেন সেই মেয়ে আমি ছিলাম!’
– ওএমজি, কি বলো? কোন মেয়ে?
– ঐ যে মেডিকেল পড়ুয়া। ফাবিহা ইসলাম। ঐটা আমি ছিলাম। মানে আমার ফেইক আইডি!
– ওহ শিট, ঐ আইডির ছবি কার ছিলো?

– আমার বড় আপুর এক ফ্রেন্ডের। Continue reading “ফেইক আইডি”

বফের ঘটকালি

ব্রেকাপের পর নিজের বান্ধবী বুশরাকে হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হয়ে হাসতে দেখে আহাম্মকের মত তাকিয়ে থাকলাম আমি। বুঝতে পারছিনা কি হচ্ছে। রিসেন্টলি বুশরার ব্রেকাপ হয়েছে শুনে আমরা দুই বান্ধবী এসে তাকে সামলানোর জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু যেয়ে দেখি সে বিছানার উপর পাগলের মত হাসছে। আমাদের দেখেই বলে,
– জানিস, রাফি আমার জন্য আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।
আমরা বুশরার দিকে আহাম্মকের মত তাকিয়েই থাকলাম। বুশরাকে বললাম,
– দেখ বুশরা, এই ব্রেকাপে তোর কোনো দোষ নাই। ছেলেটারই দোষ। সেই তোর প্রতি উদাসীন ছিল। নিজেকে এভাবে দোষারোপ করিসনা বইন।
বুশরা আমার কথা শুনে আরও জোরে জোরে হাসতে থাকলো। তারপর বলল,
– না রে, সত্যি সত্যিই সে আমার জন্য আমাকে ছেড়ে গেছে। আমি ব্রেকাপের পর থেকেই কাঁদার চেষ্টা করছি। কিন্তু হাসির চোটে কাঁদতে পারছিনা। Continue reading “বফের ঘটকালি”

আমি আর আমার বউ এবং একজোড়া কানের দুল (প্রথম পর্ব)


সন্ধ্যায় ঘরে ফিরছিলাম। দাঁড়িয়ে আছি কসমেটিকের দোকানের সামনে। আজ আমার বউয়ের জন্মদিন। এই ঢাকা শহরে কাকের সাথে ঝগড়া করে বেঁচে আছি। আমরা দুজনেই কেন যেন জোড় করেই দিনটার কথা ভুলে থাকতে চাই। ভুলে থাকতে গিয়েই ভুল করতে থাকি একের পর এক। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে ও আমার পা ছুঁয়ে সালাম করে। ওর মাথায় হাত রেখে ওকে একটু কাছে টানি। যেভাবে পুইশাককে গাছে বাইয়ে দেওয়া হয় বউও সেভাবে আমায় জড়িয়ে ধরে থাকলো। ছাড়তে ইচ্ছে করছিলো না। কেমন একটু সংকোচে দুজন আলাদা হয়ে গেলাম। বউয়ের কপালে চুমু দিয়ে অফিসের দিকে পা বাড়ালাম। Continue reading “আমি আর আমার বউ এবং একজোড়া কানের দুল (প্রথম পর্ব)”

বৃষ্টি (প্রথম পর্ব)

– “কি বৃষ্টিরে বাবা! থামার নাম নাই”।
কথাটা বলে শোভন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করল। সুন্দরী মেয়ে দেখলে তার এরকম হয়। দৃষ্টি আকর্ষন করতে ইচ্ছা করে। বেশির ভাগ সময়েই কোন লাভ হয়না। মেয়েরা পাত্তা দেয় না। তারপরেও চেষ্টা অব্যাহত থাকে। ছেলে জগতের সাধারণ সমস্যা।
– “আপা, চা খাবেন?”
মেয়েটা চুপ করে আছে। বোঝাই যাচ্ছে অপরিচিত বা অল্পপরিচিত ছেলেদের সাথে কথা বলা টাইপ সে না। মেয়েটা গোলাপী কামিজ পড়া, গোলাপী কামিজের সাথে সাদা ওড়না। মেয়েদের পোশাক সম্পর্কে শোভনের ধারণা কম, একবার বোনের জন্য জামা কিনতে গিয়েছিল, প্রাইস ট্যাগ ছয়শ টাকা মনে করে নিয়ে গিয়ে দেখে জামাটার দাম ছিল ৬ হাজার টাকা। শোভনের খুবই মন খারাপ হয়েছিল। Continue reading “বৃষ্টি (প্রথম পর্ব)”

পিৎজা দোকানের রূপবতী (দ্বিতীয় পর্ব)

মনের ভেতর নানান প্রশ্ন উঁকিঝুঁকি দিতে লাগলো। আচ্ছা, এই মেয়েটির বয়স কতো? ওর নাম কি? থাকে কোথায়? সে কি বাঙালী? কমপ্লেকশন তো তাই বলছে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ওর বয়স বড়জোর সাতাশ কিংবা আটাশ। বেশিও হতে পারে। কোথায় যেন পড়েছিলাম ওই বয়সে মেয়েদের রূপ খোলে। যিনি এই কথাগুলো লিখেছিলেন তিনিও নিশ্চয়ই আমার মতন কেউ। গুড অবজারভেশনিস্ট।
মেয়েটি কাউন্টারের ইটালিয়ান লোকটাকে বলল,
– “লার্জ পাই টু গো” প্লিজ।
কথাটা শুনে আমি মনে মনে খুশি হলাম। লার্জ পাই বানাতে সময় লাগে। পনেরো মিনিটের কম না। পনেরো মিনিট অনেক সময়। মেয়েটা আমার উল্টো দিকের চেয়ারটায় বসেছে। Continue reading “পিৎজা দোকানের রূপবতী (দ্বিতীয় পর্ব)”

Page 1 of 4212345...102030...Last »