ভেরি হট ষ্পট

কিছুক্ষণ আগে সাদিয়া ফোন দিয়ে বললো,
– “ওয়াইফাই অফ করছেন ক্যান? দ্রুত অন করেন।”
আমি অবাক হয়ে গেলাম। ভাবলাম, “সাদিয়া কিভাবে আমার ওয়াইফাই এর পাসওয়ার্ড পেলো? আর পাসওয়ার্ড পেলেও তো নেটওয়ার্ক পাওয়ার কথা না। সে থাকে তিনতলায় আর আমি ৭ তলায়!”
আমি সাদিয়াকে প্রশ্ন করলাম,
– ” তুমি কিভাবে নেটওয়ার্ক পাও আমার নেটওয়ার্ক এর?”
সে উত্তর দিলো,
– “আমি চারতলার সুমাইয়ার কাছ থেকে হটস্পট দিয়ে চালাই। সে আপনার ওয়াইফাই ব্যবহার করে।”
আমি সাদিয়ার ফোন রেখে চারতলার সুমাইয়াকে ফোন দিলাম। সে বললো,
– “দাদা, আমি তো হটস্পট দিয়ে পাঁচতলার সোনিয়ার কাছ থেকে নেটওয়ার্ক নেই। সে আপনার ওয়াইফাই চালায়।” Continue reading “ভেরি হট ষ্পট”

কলিমউদ্দীনের বউ (শেষ পর্ব)

ক্যান্টিন হতে বের হয়ে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে ফের হাসপাতালে ঢুকব দেখি সেই গোল চত্বরে বৃদ্ধার পাশে এখন বৃদ্ধ বসে আছেন, এক হাতে দুটো সবুজ রংয়ের সস্তা আইসক্রিম। আরেকটু সামনে যেয়ে দেখি বৃদ্ধা তখনো কাঁদছেন, আর কলিমউদ্দীন সাহেব অন্য হাতে বউয়ের ভেজা গাল মুছে দিচ্ছেন। দ্বিপ্রহরের কড়া রোদ তখন মাথার উপর। ঈশানকোণে এক টুকরো মেঘ জমেছে যদিও। রোদের তীব্রতা তাতে কমেনি। পশ্চিম দিকে মর্গের পাশে থাকা আকাশমনি গাছটা হতে একটা বেনে বউ পাখি ডাকল কি ডাকল না, আমি মুগ্ধ চোখে বৃদ্ধ দম্পতিকে দেখতে থাকি। দম্পতিদের কাছে গিয়ে বললাম,
– কী চাচা কই হারায়ে গিয়েছিলেন?
– একটু পলায়ে ছিলাম। দেখতাছিলাম আমারে না পালি আপনার চাচী কী করে। কেমন কানতাসিল। হিহি।
– কথা বলবেন না আমার লগে। Continue reading “কলিমউদ্দীনের বউ (শেষ পর্ব)”

এসপি সাহেবের কুকুর

আমাদের বাসা থেকে আমার এক খালার বাসা ছিল খানিকটা দূরে। দূরত্বটা এমন যে রিক্সা ভাড়া চল্লিশ পঞ্চাশ টাকা লেগে যেতো। রিকশায় করে যখন খালার বাসায় যেতাম, পথে রাস্তার পাশেই পড়তো ডিসি আর এসপির ডাকবাংলো। কি বিশাল বড় বড় ছিল সে বাংলো গুলো, বাবারে বাবা! সেই বিশাল বিশাল বাংলো দুটো আমাদের মতো ছোটদের জন্য ছিল একেবারে জীবন্ত জাদুঘর। যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে কিন্তু ভেতরে যাবার সাধ্য নেই। একদিন সেই বাংলোর পাশ দিয়ে যাবার সময় বিশাল গ্রিলের ফাঁক দিয়ে একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখলাম। দেখি আমার বয়সী বাচ্চা একটা মেয়ে, ধবধবে সাদা একটা এলসেশিয়ান কুকুর নিয়ে খেলছে। মফস্বল এলাকায় তখন এ ধরনের কুকুর বেশ বিরল। আর খেলার ধরনটাও কেমন আলাদা রকমের। মেয়েটা বলের মত কি যেন ছুঁড়ে দিয়ে খিলখিল করে হাসছে আর কুকুরটা তার ফ্রকের কোনা কামড়ে ধরে সেদিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং মেয়েটা বল সদৃশ বস্তু কুড়িয়ে নিয়ে আবারও একই কাজ করছে। অল্প, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দেখা। তাতেই আমার হৃদয়ের অলি গলি ঐ কুকুর ছানা দখল করে ফেলল। চিন্তা করতে লাগলাম, কিভাবে এটার একটা বাচ্চা জোগাড় করা যায়। Continue reading “এসপি সাহেবের কুকুর”

বেওয়ারিশ বেজন্মা (প্রথম পর্ব)


অবশেষে মিতু সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, তাঁর গত হয়ে যাওয়া প্রেমিক- জন্মপরিচয়হীন ছিল। এই সিদ্ধান্ত পাকাপোক্ত হবার পরে নিজেকে খুব ‘অপবিত্রা’ মনে হচ্ছিল তাঁর। ‘ছি: একজন বেজন্মা আমাকে ছুঁয়ে ছিল। এর আগে আমার মরণ কেন হলো না!’। ছিটেফোটা যে সব স্মৃতি ছিল ওই বেওয়ারিশ প্রেমিকের সাথে, মনে হতেই গা গুলিয়ে আসছে তাঁর। হাতের তালু, আঙ্গুল, নখ অনেকবারই স্যাভলন ডেটল দিয়ে ধুঁয়েছে। তবুও তাঁর ঘেন্না হচ্ছে। নিজ হাতে খেতেও পারছে না। একটা বিভৎস গন্ধ যেন বের হচ্ছে হাত থেকে। উফফ! অসহ্য। ভাগ্যিস, পরিণতির আগেই ছেলে জন্মপরিচয় ফাঁস হলো! না হলে যে সন্তান গর্ভে আসতো সেও তো হতো – বাস্টার্ড চাইল্ড। বাচ্চাটাকেও হয়তো শেয়াল-কুকুরের খাবার বানিয়ে দেয়া লাগতো। চারপাশে এতো ভাল মানুষ, সবার কত কত বড় পিতৃপরিচয়। সেসব রেখে এক বেওয়ারিশের সাথে? নাহ আর ভাবতে পারছে না সে। Continue reading “বেওয়ারিশ বেজন্মা (প্রথম পর্ব)”

শিউলি

সেই যে শিউলিতলা, বরই গাছটার পাশেই, ডানে তার ছোট্ট একটা খাল ছিল, লোকে খাল বলতো, অনেকে বলত পুস্কনী, সেখানেই একবার এক বউছি গোল্লাছুট মিলিয়ে নতুন খেলার জন্ম হয়েছিল। শিউলিতলা নামেই ছিল, কবে কোথায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল শিউলিগাছটা, বরই গাছটাও জানে না। কোন এক কালে এ বরই গাছটাতে গাছ ভরে বরই ফুল ফুটতো, বড়ই ধরতো। এখন অনেকটাই পঞ্চার্ধ বন্ধা নারীর মতো। নারী আছে কিন্তু সে আর নতুন প্রজন্ম জন্ম দিতে পারে না। তবে বরই গাছটার বাঁকল সাক্ষী দেয় শতবছরের স্মৃতির। এই খালটাও নাকি একসময় নদী ছিল। বাহারি রঙের মহাজনি নৌকা ছিল। গরীব ঘরের ছাওয়ালরা পালতোলা নৌকা চালাতো, গুণ টানতো। বিয়ের বরযাত্রী ঢোল বাজিয়ে, নৌকা সাজিয়ে এ নদী দিয়েই নতুন পৃথিবীর জন্মদানে উন্মুখ কোন যুবতীকে বউ করে আনতে যেত। ঢোলের বাদ্যে দু পাড়েই লোক জমতো। কোন এক অনাহারি যুবক নিদারুণ খরায় ওই নৌকা যতক্ষণ দেখা যায় ততক্ষণই চেয়ে থাকতো। Continue reading “শিউলি”

দহন

১.
– মা, আব্বারে কও লালিরে যেন না বেচে।
– কি কইস বাজান। না বেচলে আমরা খামু কি।
– না খায়া থাকুম। তাও বেচতে পারবা না।
– এমন করে না বাপধন। গরু না বেচলে তোর স্কুলের ট্যাকা দিতে পারুম না। তোরে সুন্দর একখান পিরান কিন্না দিমু।
– আমার কিছু লাগবো না মা। তোমরা লালিরে বেচতে পারবা না।
মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে ঢুকরে কেঁদে উঠে আট বছরের কাশেম। মা হাত দিয়ে ছেলের চোখের পানি মুছে দিয়ে ছেলেকে বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। কাশেম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে এক সময় মায়ের বুকে ঘুমিয়ে যায়।

২.
– মামনি, আমাদের গরু কখন আনবে?
– এইতো বাবা আগামী গরুর হাট থেকেই তোমার বাপি গরু কিনে আনবে। Continue reading “দহন”

Page 1 of 4012345...102030...Last »