একজন লিঙ্গ সর্বস্ব পুরুষ

সম্ভবত প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম আমি আর সুহাস। সম্ভবত বললাম কারণ, বিয়ের ১১/১২ বছর পরে এসে বুঝতে পেরেছিলাম ওটা আসলে প্রেম ছিল না। আমরা দুইজন দুইজন এর সঙ্গ পছন্দ করতাম, ব্যাস। পাশাপাশি বসে গায়ে গা ঘেসে থাকতে আমাদের ভালো লাগত, রিক্সার হুড তুলে ঘনিষ্ট হতে, বা একে অপরের শরীরকে চিনে নেবার প্রক্রিয়াটাকেই আমরা ভালবাসা ভেবে নিয়েছিলাম। মন চেনার প্রক্রিয়াটা শুরুই হয় বিয়ের পরে। বিয়ের পরেরদিন থেকেই বুঝতে শুরু করলাম আমরা একজন উত্তর মেরু আর অপরজন দক্ষিন মেরুর বাসিন্দা। এক জীবনে দুইজনের কারো পক্ষেই এই দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব না। বিয়ের রাতে ও আমাকে খুব ভালোবেসে কিছু ডুজ এন্ড ডোন্টস বুঝিয়ে দিয়েছিল। বলেছিল সবসময় ওগুলো মনে রাখতে। বলেছিল,
– তোমার আগের জীবন ভুলে যাও।
চারুকলায় বসে আড্ডাবাজি, টিএসসি তে ছেলে বন্ধুদের সাথে চা খাওয়া, Continue reading “একজন লিঙ্গ সর্বস্ব পুরুষ”

অভয়ের বিয়ে (পঞ্চম পর্ব)

ওকে পুরো রিডিং রুমটা দেখালাম। ফ্লোরে ছোট্ট বিছানাটা ওর মনে হয় খুব পছন্দ হয়েছে। পাশেই ডিভান। জানালার পাশে ডিভানে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকলে আকাশ দেখা যায়। রিডিং রুমের চারদিকে চারটা স্পিকার রেখেছি। আর একটা এমপিথ্রি প্লেয়ার। কোন গান নেই। শুধু ইন্সট্রুমেন্টালL। চালিয়ে দিলাম এমপিথ্রি। শুরুতেই আমার প্রিয় ইন্সট্রুমেন্টাল- দ্য লোনলি শেপার্ডা। হালকা মিউজিকে ভরে গেল পুরো ঘর। পুনা বুক সেলফের সামনে বই গুলোর উপরে হাত বুলাচ্ছে।
– “সব তো একেবারেই নতুন মনে হচ্ছে।”
– “নতুন বলতে কি। আসলে অনেক দিন থেকেই বই গুলো জমাচ্ছি। কিছু একটু পুরনোই হয়ে গেছে। তবে একটা বইও কেউ পড়েনি। সেই হিসাবে নতুন।”
– “কিন্তু তাই বলে এটা ভেবো না যে প্রতিমাসে আমাকে বই কিনে দিতে হবেনা। গুনে গুনে ঠিক ২৫ টা বই প্রতিমাসেই আমার চাই।”
– “মানে একটু কি ছাড় দেওয়া যায়না পুনা। এই ধরো মাসে যদি দশ বারোটা…।” Continue reading “অভয়ের বিয়ে (পঞ্চম পর্ব)”

তোর জন্য, প্রিয়তা (প্রথম পর্ব)

আয়োজন করে তোমাকে চিঠি লিখতে বসেছি। আধ পোড়া মোম বাতি জোগাড় হয়েছে। অন্ধকার ঘরের চার দেয়ালে আলো ছায়ার খেলা খেলতে খেলতে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে সে। পাশে রাখা কোনা ভাঙ্গা কাপ আর ফ্লাক্সে আছে অতিরিক্ত চিনিওয়ালা চা। গুনে গুনে ৩ কাপ চা খেয়ে তোমায় লিখতে বসেছি। জানো তো তিন হচ্ছে প্রাইম সংখ্যা। তিন মানে আমি-তুমি-সে। তিন মানে স্বর্গ-মর্ত-নরক। সাথে সিগারেট নেই। আনতে ইচ্ছা করছে না। বয়সের সাথে আলস্যের সম্পর্ক সমানুপাতিক। ঊনত্রিশ হাজার সিগারেট কে চুম্মন করে এই ঠোঁট আজ ক্লান্ত। এমনিতেও তুমি সিগারেট পছন্দ করতে না। একদিন ক্লাস শেষে সিগারেট ধরাতেই হঠাৎ মুখের মধ্যে পানি ছুঁড়ে মেরেছিলে! মেরে এমন ভাব করলে এটাই স্বাভাবিক। আমাকে পানি মেরেই তোমার দিন কাটে! ভেজা শার্ট নিয়ে সারাদিন পিছে পিছে ঘুরলাম একটা সরি’র আশায়। Continue reading “তোর জন্য, প্রিয়তা (প্রথম পর্ব)”

অদ্ভুত আঁধার (প্রথম পর্ব)

বেঙ্গল গ্যালারিতে এসে বেশ অবাকই হলাম। এখানে এসেছি বিপাশার একক চিত্রপ্রদর্শনী দেখতে। প্রদর্শনীর নাম ‘আসছে ফাগুনে দ্বিগুণ হব’ নামে-চিত্রকর্মে মুগ্ধ হলেও দূর থেকে বিপাশাকে দেখে চিনতে আমার বেশ কষ্টই হলো। ওকে শেষবার দেখেছিলাম বছর দশেক আগে। অনেক বদলে গেছে বিপাশা, বুড়িয়েও গেছে খানিকটা। ও যখন ছোট ছিল, তখন আমি যে খুব-একটা বড় ছিলাম; তাও না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার চার ক্লাস নিচে পড়ত বিপাশা। আমি বাংলায়, ও চারুকলায়। ওর প্রেমিক বশির আমার সহপাঠী ছিল। সেই সূত্রে বশিরের ওপর ছিল আমার অনিবার্য ঈর্ষা। বন্ধুর সাফল্যে ওপরে-ওপরে উল্লসিত হলেও ভেতরে-ভেতরে মানুষ জ্বলে-জ্বলে অঙ্গার হয়, পুড়ে-পুড়ে খাক হয়। নিজে অভুক্ত থাকার মাঝে যত যন্ত্রণা, এর চেয়ে বেশি যন্ত্রণা বোধ হয় অন্যকে খেতে দেখলে। Continue reading “অদ্ভুত আঁধার (প্রথম পর্ব)”

প্ল্যান

মেধাবী মানুষজন মুখে বা হাতে কিছু খেলেন না। এঁরা বুদ্ধিবলে খেলেন। বেশিরভাগ প্লানই খুব সুক্ষ্ম ও সুনিপুণ দক্ষতায় ধীরে সুস্থে বাস্তবায়ন করেন। বেশিরভাগ প্লানই সময় নিয়ে, দীর্ঘ মাস্টারপ্লান নিয়ে করেন। তবে সাধারণত কোন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সিঙ্গেল প্লানে উনারা থাকেন না। প্লান এ, প্লান বি অথবা প্লান সি এরকমই ডুয়াল অথবা থ্রি লেয়ারের প্লান প্রস্তুত করেন। প্লান এ সাকসেস না হলে প্লান বি, প্লান বি সাকসেস না প্লান সি। তিনটার একটা সাকসেস হবেই হবে। বলছিলাম দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্লান। হুট করে কোন পুকুর ভরাট করে ফেললে চোখে পড়ে। কিন্তু বছরের পর বছর একটু একটু পরে ভরাট করলে চোখে তেমনটা পড়ে না। সো আলোচনাও হয় না তেমন। বোকা বা অতি চালাকরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী প্লান করতে পারে না। এরা হুটহাট ডিসিশন মেইক করে। যা বেশিরভাগইই বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। তবে মেধাবীরা এই ভুলটাই করে না। তাঁরা সাকসেসও হয় এই কারনে। Continue reading “প্ল্যান”

বাপ-বেটার ঈদ

ইদানীং পিতৃদেব আমাকে শুধু মুগ্ধই করে যাচ্ছেন। বছর খানেক আগেও উনাকে ভয় পেতাম। নাম ধরে ডাকলে আত্মা চমকে যেতো, কী যেন কোথায় ভুল করেছি। জীবনঘড়ি অনেক আপডাউন করেছে গত কয়েকটি বছর ধরেই। গত বছর ভয়ংকরভাবে। একমাত্র পিতৃদেবই নি:স্বার্থভাবে পাশে থেকেছেন, প্রতিমুহূর্তেই বলেছেন,
– “বাপ বেঁচে আছে তোমার। কোন চিন্তা করবা না।’
গত পরশু বাড়িতে আসবো কিন্তু কিভাবে আসবো বুঝতেছিলাম না। রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম, ট্রেনে উঠা অকুলান। অত:পর শেষ ভরসা পিতৃদেবকে ফোন করলাম। উনি বললেন,
– “ঢাকা টু রাজশাহী প্লেনে উঠো। দেন রাজশাহী থেকে বাড়িতে আসো, ওই রাস্তাটা ফাঁকা। ‘
বিফলে যায়নি উনার কথা। মাত্র ৩ ঘন্টায় বাড়ি পৌঁছেছি। Continue reading “বাপ-বেটার ঈদ”

Page 1 of 3912345...102030...Last »